Sun. Mar 29th, 2020

আত্মঘাতী করোনা ভাইরাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

এম. এ ওয়াহিদ চৌধুরীঃ আত্মঘাতী করোনা ভাইরাস আতংকে সারা বিশ্ববাসির পাশাপাশি সিলেটও আজ নিরব নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। আজ ২৬ শে মার্চ বৃহস্পতিবার সিলেটের বাসটার্মিনাল সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। সরকারি, বেসরকারি অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান পাট, হোটেল রেস্তোঁরা সহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সরকারের আদেশ পালন করেছেন সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। এমনকি রাস্তা ঘাটেও চলাচল করতে দেখা যায়নি। নীরব ও নিস্তব্ধ সিলেট নগরীর সকল বাসিন্দারা বাসা অথবা গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করলেও মানষিক ভাবে আতংক বিরাজ করেছে সবার মনে কখনও কি ঘটবে। আজ থেকে শুরু হয়েছে বাস গাড়ী সহ সব ধরণের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ। বিশেষ প্রয়োজনে দেখা যাচ্ছে হটাৎ করে দু একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বাজার খরচ এবং ঔষাধ সামগ্রী কেনা কাটা তা ও আবার খুবই কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে সিলেট নগরী। আত্মঘাতী করোনা ভাইরাসে ২৬ শে মার্চ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী আজকের দিনে নতুন আক্রান্ত ৫ জন সহ মোট আক্রান্ত রয়েছেন ৪৪ জন, মারা গেছেন ৫ জন, সুস্থ হয়েছেন মোট ১১ জন। এমতাবস্থায় জীবনের এই কঠিন মুহুর্ত পার করছেন গৃহবন্ধী সাধারন মানুষ । বিশেষ করে দিনমজুর / রিকশা ওয়ালা সহ হকার ব্যবসায়ীরা যারা দৈনিক আনে দৈনিক খায় তাদের যে পরিমাণ কষ্ট আর আহাজারিতে চলছে দিনের পর দিন। কবে যে শেষ হবে তাদের এই প্রহর গুনার দিন। কয়েকজন রিকশাওয়ালা ও দিনমজুর এর সাথে আলাপ করলে তারা বলেন করোনায় মরবো কিনা জানিনা তবে অনাহারেই আমরা মরবো কারণ আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। আমরা আমাদের সন্তানের মুখে খাবার তুলে না দিলে তো তারা মারা যাবে।
তাদের এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে তাদের কান্না আর কষ্ট গুলো দূর হবে। “”মানুষ মানুষের জন্য”” এই কথাটি ভেবে দয়া করে সমাজের সকল শ্রেণীর বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন, দয়াকরে ওদের কান্নাময় মুহুর্তে তাদের মুখে একটু হাসি ফুটান। এরই বিনিময় কাল পরকালে মহান আল্লাহ পাক দেবেন। ইয়া আল্লাহ করোনা ভাইরাস নামক গজব থেকে বিশ্ববাসীকে আপনার কুদরত দিয়ে রক্ষা করুন।