Mon. Jun 1st, 2020

সিসিকের করুনা জীবিত না মৃত?

ডেইলি বিডি নিউজঃ প্রাণঘাতি করোনা থেকে মানুষকে সুরক্ষায় কার্যত লকডাউন হয়ে পড়েছে সিলেটসহ সারা দেশ। গণপরিবহণ থেকে শুরু করে সবকিছু রয়েছে বন্ধ। এ অবস্থায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ঘর থেকে বেরুতে পারছে না। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে সিলেট সিটি করপোরেশন কেবল ওষুধ মেরেই মিডিয়ায় ফটো সেশন করছে, কাজের কাজ কিছুই করছে না। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে একহাত নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সিসিকের ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ।

হতদররিদ্র মানুষর পক্ষে নিজের অনুভূতিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। তার ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া লেখাগুলো ডেইলি বিডি নিউজে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের ভোটেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমরা কি দায় এড়াতে পারি, মানবতার কবি হয়ে এই হতদরিদ্র মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য আমরা দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে বাসায় লকডাউন করছি। কিন্তু বাস্তবে যারা বাঁচার জন্য যুদ্ধ করে “দিনে আনে, দিনে খায়” তাদের পেটের লক ডাউনের দায়িত্ব নেবে কে? তাদেরকে করুণা (দয়া) করবে কে? অবশ্যই আল্লাহ, আল্লাহ পাক্ রাব্বুল আলামিন।

যারা আমাদেরকে দায়িত্ববান বানালো। আমরা দায়িত্বশীল মানুষের ভুমিকা কি? আমরা কি এসকল হতদরিদ্র মানুষের জীবিকার খবর রাখছি? শুধু হাত ধোয়া,মাস্ক লাগানো, আর নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে জীবানুনাশক ওষুধ ছিটানোর ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল করে কেবল নিজেদের প্রচারণাই চালানো হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এভাবে এগুলো করে মানুষকে বাঁচানো যাবে না। তাদেরকে বাঁচাতে হলে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। হতদরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। এটাই হবে মানবতা।

জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরিষদে মেয়রকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা বলতে বলতে কথাগুলোই লকডাউন হয়ে গেছে। আমাদের মানবতার করুনা কি এখনও সেই লক ডাউনের পথে? তাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে হতদরিদ্র মানুষের পক্ষ থেকে খুব জানতে ইচ্ছে করে সিসিকের করুনা জীবিত না মৃত? দয়া করে এবার ফটোসেশন বাদ দিয়ে মানবতার কল্যাণে নামুন। নগরীর হতদরিদ্রদের লকডাউন হওয়া পেটের দায়িত্ব নিন, মাননীয় মেয়র।

মোঃ তারেক উদ্দিন তাজ
কাউন্সিলর, ১০নং ওয়ার্ড সিসিক।