Sat. Aug 15th, 2020

সিলেটে লকডাউনের নামে ব্যারিকেডঃ অসচেতনতায় বাড়ছে করোনা সংক্রমনের ঝুকি

ফারহানা বেগম হেনাঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানোর জন্য সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভেতর এবং জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তার মুখে টিনের বেড়া অথবা বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যারিকেডের ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা।

সিলেটের সচেতন মহল মনে করেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই যেসব এলাকার লোকজন রাস্তায় বাঁশ-গাছ ফেলে (লকডাউন) চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন, তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আবশ্যক।

সুধীজনরা মনে করছেন, এখনো সিলেটে প্রশাসনিকভাবে কাউকে লকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। জরুরী প্রয়োজনে কোনো এলাকা লকডাউন করার প্রয়োজন হলে প্রশসানই তা করবে। সিলেটে এখনও এরকম প্রয়োজন পড়েনি।

সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত কয়েকদিন থেকে চালিবন্দর, ছড়ারপাড়, ইলাশকান্দি, মাছিমপুর, শিবগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রাস্তার প্রবেশপথে বাঁশ-গাছ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও এক্ষেত্রে তাদের কেউই প্রশাসনের অনুমতি নেননি। এতে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে দিনরাত-পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু গলির মুখে ব্যারিকেড দিয়ে এলাকার ভেতরে বখাটেদেরকে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে, চলছে তীরখেলা সহ নানান অসামাজিক কার্যকলাপ। এমনকি ব্যারিকেডের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের গাড়িও এলাকার ভেতরে যেতে পারছে না।

অভিযোগ ওঠেছে, যারা করোনা ভাইরাস ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এসব এলাকায় লকডাউন করেছেন। তারা নিজেরাই তা মানছেন না। তাদের অনেকেই সামাজিক দূরত্ব না মেনে অবাধে ঘোরাঘুরি করছেন। এমনকি কোথাও কোথাও খোলধুলা করা হচ্ছে। আড্ডা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় বাঁশ-গাছ ফেলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।