Sat. Aug 15th, 2020

সিসিকের ময়লার ভাগাড়ে নেই করোনা প্রতিরোধক কোন ব্যবস্থা!

ফারহানা বেগম হেনাঃ পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকে গোটা জেলা। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় প্রায় সারা বছরই থাকে এখানে। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে উপচে পড়া ভিড় থাকে সিলেট অঞ্চলে। হোটেল মোটেলে কোনো সিট খালি পাওয়া যায় না। পর্যটকরা দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়ান। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ছাড়াও এক নজর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত না দেখলে ভ্রমণপিপাসুদের যেন সব কিছুই অপূর্ণ থেকে যায়।

পাহাড়ি জনপদ ও চা বাগান পরিবেষ্টিত সিলেট ও আশেপাশের এলাকা অনেকেই ঘুরে আসেন। পাহাড়ের শান্ত-শীতল পরিবেশের সিলেটের প্রাকৃতিক নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। কিন্ত এসবের মাঝেই বিষফোঁড়ার মত সিলেট বাসীকে যন্ত্রনা দিয়ে যাচ্ছে লালমাটিয়ায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার ভাগাড়।

সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জ রোডের লালমাটিয়ায় এলাকায় অবস্থিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একমাত্র ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। আর এ ভাগাড়ের ময়লার স্তূপ থেকে সারাক্ষনই দুর্গন্ধ ছড়ায়। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ময়লা থেকে রোগ জীবানু ছড়ানোর ফলে বয়োঃবৃদ্ধ ও শিশুরা নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শরীরে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন সমস্যা। শিশুদের কাশি ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে, এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই চিত্র, যা বিশ্বাস করতেও কস্ট হয়। দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

এছাড়া করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী যখন বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার তখন এই ভাগাড়ের কোথাও এখনো জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়নি, এমনকি ময়লা ফেলতে আসা গাড়িগুলোতেও কোন প্রকার জীবানুনাশক স্প্রে করা হয় না। ফলে আশপাশে বাসবাসকারী জনসাধারন ও ভাগাড়ে কাজ করা শ্রমিকদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয়রা জানান, জনবহুল এ এলাকা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। জনমত উপেক্ষা করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ও শ্রীরামপুর গ্রামের অধিবাসী নাঈম চৌধুরীর অভিযোগ, বারবার বলার পরও ময়লা ফেলে এলাকার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। এছাড়া এখনকার সময়ে পৃথিবীকে ধাক্কা দেয়া করোনা ভাইরাস দেশে উদ্ভবের পর এখনো এই ভাগাড় এলাকায় কোন জীবানুনাশক স্প্রে করা হয় নাই৷ সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ময়লা এখানে ফেলা হচ্ছে৷ এসব ময়লা থেকে যদি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটে তবে এসবের দায়ভার কে নিবে?

এসময় তিনি আরো বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের এলাকার সৌন্দর্য ধ্বংস করা হচ্ছে, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছে না। যারা জলবায়ু ও পরিবেশ নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

গোটাটিকরের বাসিন্দা কামিল মিয়া বলেন, যাওয়া-আসার সময় উৎকট দুর্গন্ধে বমি চলে আসে, নাকে রুমাল চেপে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের দারুণ অসুবিধা হচ্ছে। অনেকের শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। আর করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে যখন দেশব্যাপী বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে তখন এই ভাগাড়ে নেই কোন প্রকার প্রতিরোধক ব্যবস্থা। অচিরেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা না হলে ও জীবানুনাশক স্প্রে করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলা হবে বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে আলাপ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।