Sat. Aug 15th, 2020

মানবিক পুলিশ সুপারঃ ফরিদ উদ্দীন পিপিএম

ফারহানা বেগম হেনাঃ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অর্জনের পাল্লা, সুনামের খাতা প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর অর্জনের আড়ালে, বিহাইন্ড দ্য সিনে অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড যিনি তার দায়িত্বের জায়গা থেকে পুলিশ বাহিনীর জন্য সর্বোচ্চভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

একজন নেতা যেমন কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, একজন কোচ যেভাবে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে নিয়ে আনেন একইভাবে তিনি জুনিয়র অফিসারদের কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন। তেমনি এক সুপারকপ সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি), মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম মহোদয়৷

পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি), কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালন নীতিতে কাজ করে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। সিলেটে পরিবর্তনের যে হাওয়া, কাজের যে গতিশীলতা, সফলতা সবকিছুর পেছনে ক্রেডিট এই মানুষটার। সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কাগজে কলমে সমাপ্তি হওয়া ১৪৫৫টি মামলার জট। তিনি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মামলাগুলোর বিশাল জট নিরসনে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বিগত ৫ মাসে ১৪৫৫টি মামলার মধ্যে ৯০৫টি মামলার মুলতবি করতে সক্ষম হয়েছেন। ওয়ারেন্ট তামিলের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্মরণকালের সেরা সফলতা।

সিলেটের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র পুলিশ সুপার যার উদ্যোগে সিলেট জেলা পুলিশের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ২২৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। সিলেটের ডিআইজি, কমিশনার, এসপিসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা ও জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগন একই সাথে বসে দুপুরের খাবারের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় প্রশংসিত হন এসপি ফরিদ উদ্দিন।

এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক প্রদানে তিনি ভীষণ প্রশংসা কুড়ান। মাত্র একশত টাকা খরচের মাধ্যমে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়ায় দেশব্যাপী আলোচনায় নিজের স্থান করেন তিনি। পুলিশে নিয়োগ ও রদবদলে নেই তার টাকার কোনো চাহিদা। তার সততা, কর্মদক্ষতা ও নিষ্টার ফল ভোগ করছেন সিলেটবাসী। তার নিয়োগের পর থেকে সিলেটের থানাগুলোতে জিডি ও অভিযোগে কোন টাকা লাগে না। পুলিশিং কোন ধরনের হয়রানি নেই বললেই চলে।
পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর কাজ ও কর্মে সিলেটবাসীকে চমক দেখান তিনি। পৃথকভাবে প্রতিটি থানা পরিদর্শন ও থানার আওতাধীন এলাকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তৈরি করেন প্রতিটি থানায় একেকটি টিম।

যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরপরই সিলেটের ৫ থানার ওসিকে বদলি করেন এবং থানায় যাতে সেবাপ্রার্থীরা হয়রানীর স্বীকার না হয় সেবিষয়ে নবাগত ওসিদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছিলেন ডিএমপি ওয়ারীর সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সিলেটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা সমাবেশ করে জঙ্গি ও গুজব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাত সহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের শীর্ষ এই অফিসারের কঠোর নির্দেশে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এসপি ফরিদ উদ্দিনের এমন পদক্ষেপের কারনে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশেই কমে এসেছে উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে প্রায়শই বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন অপরাধীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম।

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন গরীব অসহায় মানুষের পাশে আইনী সহায়তা সহ, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি ছুটিতে বাড়ি গেলে তার এলাকার সবার খোঁজ খবর নেন এবং যারা সহযোগিতার জন্য আসেন তাদের পাশে দাঁড়ান। নিজ কর্ম এলাকায় ও তিনি একজন পরোপকারী ও সৎ-মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। বিশেষ করে এতিমদের প্রতি উনি সদা সর্বদা সুনজর দিয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসেন। নিজেও সমাজের বিত্তশালীদের ও সম্পৃক্ত করেন গরীব অসহায়দের সাহায্যার্থে।

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন বলেছিলেন, বেঁচে থাকার জন্য টাকা দরকার আছে এটা ঠিক তবে আমার এক টাকাও হারাম কিংবা অবৈধ টাকার দরকার নেই। আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও যেন এক টাকা হারাম খেতে না হয় আল্লাহর কাছে এটাই আমার চাওয়া।

পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেটে যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তথ্য উৎঘাটন, জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন। বর্তমানে তিনি সিলেটের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন একটি আস্থা, ভালবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক। একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল কাজ জনগণের সেবা করা। বিপদাপদে তাদের পাশে থাকা পুলিশের সকল কর্মকর্তা সে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এসপি ফরিদ উদ্দিনের দায়িত্ব পালনে রয়েছে আলাদা কৌশল, সততা, নিষ্টা ও পরিস্থিতির ক্ষেত্র বোঝে সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহন।

এসপি ফরিদ উদ্দিন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সেবাকে দ্রুত জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেন অনন্য কৌশলে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ঝুকিতে যখন পুরো বাংলাদেশে সরকারী ছুটি চলছে তখন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর, অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করে করছেন। মাইক হাতে রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে জনসাধারনকে সচেতন করার চেস্টা করছেন।

আপনি ভুলে যাননি আপনার ডাকে সারা দিয়ে আত্নসমর্পণকারি অপরাধীর পরিবারের খবর নিতে। শত কর্ম ব্যস্তার মধ্যে ও মনে রেখেছেন তাদের কাথা আর নিজে গিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী। আপনি এমনই একজন মানুষ যে কিনা রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ থেকে শুরু করে ভিক্ষুক,রিকশা চালক,ভেন চালক,দিনমজুর সহ সর্ব নিম্নস্তরের মানুষ কে সম্মানানিত করে চেয়ারে বসিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন এর আগে কোন দিন কেউ এতো সম্মানের সাথে এই মানুষ গুলোর সাথে কথা বলেনি পাশে দাঁড়ায়নি এটা শুধু আপনার মতো নিঃস্বার্থ মনের মানুষের পক্ষেই সম্ভব আপনি সারা পৃথিবীর মানুষ কে চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে এই পৃথিবীতে সকল মানুষ, মানুষ হিসেবে সমান। আপনার এই মহতী মনের কথা গুলো হয়তো আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা তাও চেষ্টা করেছি এই লিখার মাধ্যমে আপনাকে আমার ও সিলেট বাসীর পক্ষ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর নিমিত্ত প্রয়াস মাত্র।

লেখকঃ ফারহানা বেগম হেনা।
সম্পাদকঃ ডেইলি বিডি নিউজ।