Sat. Aug 15th, 2020

সিলেট জেলা পুলিশের কর্মকান্ডে বদলে যাচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা

এম এ ওয়াহিদ চৌধুরীঃ পুলিশ মানেই রুক্ষ মুখ, নীল পোশাক আর লাঠিপেটা করার যন্ত্র নয়, পুলিশের কঠোর বহিরঙ্গের আড়ালে নরম একটা মন আছে সেই ধারনা শাখা প্রশাখা ছড়াতে শুরু করেছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে।

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার পর তা আরো স্পস্টই হয়ে উঠছে। মানবিক পুলিশের আচরনে পুলিশের প্রশংসা এখন মানুষের মুখে মুখে।

তারই ধারাবাহিকতায় সিলেট বিভাগের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম নির্দেশনায় সিলেট জেলা পুলিশ দিন রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।

এসপি ফরিদ উদ্দিন তার ফেসবুকের একটি লিখা পোস্ট করেন মুঠোফোন নাম্বর সহ, কল বা এসএমএস করলেই পৌছে দেওয়া হচ্ছে সাধ্য মতো খাদ্য সামগ্র।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। কিন্তু ছুটি নেই পুলিশের । দিন রাত কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। সব রকম কাজ।

সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিচ্ছেন। এইতো গত সপ্তাহের ঘটনা। পুলিশ সুপার (এসপি) ফরিদ উদ্দিন ফোন ও এসএমএস এর মাধ্যমে পাাওয়া খবর পেয়ে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আসছেন সিলেটের বেশ কয়েটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে। যা এখনো অব্যাহত আছে।

এই তো সেদিন বৃদ্ধা মহিলা ও অসহায় মানুষের বাড়িতে পুলিশ সুপারের আকস্মিক আগমনে অবাক হন অনেকে। হঠাৎ খাবার নিয়ে বাড়িতে এসপি আসায় তার মন ভরে গেছে।

তিনি মন ভরে এসপি ও পুলিশের জন্য দোয়া করেন। শুধু পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন নয় এরকমটা সিলেট জেলর সব পুলিশই চেষ্টা করছে বাড়ি বাড়ি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। এসপি ফরিদ উদ্দিনের দিক নির্দেশনায় সিলেট জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় পায়ে হেটে গিয়ে মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তারা।

করোনাভাইরাসের সংকটময় মুহূর্তে থানা পুলিশ সদস্যদের বেতনের টাকায় কর্মহীন গরিব পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস এ কেউ মারা গেলে স্থানীয় লোকজন পরিবারের লোকজন পর্যন্ত কাছে আসছে না এখানে পুলিশ জানাযা থেকে দাফন পর্যন্ত করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে করোনার ভয়ে ছেলে-মেয়েরা মাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে গেছে অথবা চরে ফেলে আসা হয়েছে করোনাক্রান্ত মনে করে।

এমন সব মানুষদের তুলে নিয়ে সেবা দিচ্ছে পুলিশ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিষয়টি স্পষ্ট আমাদের দেশে এত বড় সংকট পূর্ণ মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে পুলিশ।

এদিকে, দিন রাত এক করে দেওয়া পুলিশের মধ্যেও করোনাতাংক বিরাজ করছে ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে অনেক পুলিশ। সারাদেশে পুলিশের ৬৭৭ এর বেশি সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ও এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেচেন ৫ জন।

সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সংক্রমক ঠেকাতে চিকিৎসকদের পরই পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু লাঠি হাতেই নয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, কখনও কখনও পলায়নকৃত করোনা রোগীকে ধরে আনা, করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা, ত্রাণ বিতরণসহ নানা কাজে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এসব করতে গিয়েই পুলিশ সদস্যরা করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন।

পুলিশের সুরক্ষার বিষয়ে এখন পর্যাপ্ত সেই পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা যায়নি। আবার দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেও অনেক পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। এতে ঝুঁকিও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী।

বিশ্বের এমন পরিস্থিতি একসময় বদলে যাবে। বদলে যাবে বাংলাদেশও। শুধু মানুষের চাওয়া পুলিশের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন থাকুক বিপদ কেটে গেলেও। পুলিশের জন্য ভালবাসাটুকু লেগে থাকুক জন্ম থেকে জন্মান্তরে।