Sat. Aug 15th, 2020

এসপি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশনায় ক্লান্তিহীন ছুটে চলা সিলেট জেলা পুলিশ

ফারহানা বেগম হেনাঃ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলা করে হানাদার বাহিনী। সামান্য রাইফেল দিয়ে সেদিন প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমে পড়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অবস্থিত পুলিশ বাহিনীর সাহসী ও দেশপ্রেমিক সদস্যরা। অনেক পুলিশ সদস্য সেদিন শহীদ হন এবং অনেকেই আহত হন। দেশের জন্মের বা আত্মপরিচয়ের যে সংগ্রাম ছিল তার প্রথম শহীদ আমাদের পুলিশ বাহিনী। সেই কথা আবার মনে করিয়ে দিলো করোনাভাইরাসের এই সংকটে বাংলাদেশ পুলিশের তৎপরতা। তারা হৃদয় জয় করে নিয়েছে ১৭ কোটি নাগরিকের।

ঠিক তেমনি ভাবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সিলেট আসার পর থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে সিলেট জেলা। সিলেটবাসী নতুনরুপে দেখছে সিলেট জেলা পুলিশকে যা আগে কখনো সিলেটবাসি দেখেনি। তেমনি ভাবে সিলেট জেলা পুলিশবাহিনী করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে সিলেট বিভাগের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর সু-র্নিদেশনায় সিলেট জেলা পুলিশ সিলেটবাসিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তারাই বাংলার র্সূয সন্তান। চোখে না দেখা এমন এক মরনব্যাধির যুদ্ধে সবাই যখন ঘরে পুলিশ তখন আমাদের জন্য দিন রাত বাহিরে। নিজেদের জীবনের তুয়াক্কা না করে তারা নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন আমাদের তরে। ভাবেননি তাদের পরিবার পরিজনের কথা।

এসপি ফরিদ উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। র্বতমানে অনেক পুলিশ সদস্য এসপি ফরিদ উদ্দিনকে তাদের আইডল মনে করে কাজ করে যাচ্ছেন।

এসপি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশনায় সিলেট জেলা পুলিশ দিন রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। কিন্তু ছুটি নেই পুলিশের । দিন রাত কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন উপজেলায় উপজেলায় গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বহন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে থানায় থানায় নিজে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত আছে থাকবে। অতীতে এমন মানবিক পুলিশকে দেখেননি সিলেটের মানুষ। এ যেন আর্শিবাদ সিলেটের মানুষের জন্য।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা জনগনের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পুলিশ মানুষের কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করার সুবাধে মানুষের খাদ্য সামগ্রীর কষ্টের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে। মূলত এই ধারণা থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সিলেট জেলা পুলিশ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সাধ্যমত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে।

জানতে ইচ্ছে করে কোথায় নেই পুলিশ?

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছে পুলিশ, করোনায় ভয়ে মাকে ফেলে এসেছে সন্তান সে মাকে আশ্রয় দিয়েছে পুলিশ, ভাড়াটিয়াদের বের করে দিচ্ছে মালিক, তাদের ঘরে তুলে দিচ্ছে পুলিশ। রাস্তায় লাশ পড়ে আছে কিন্ত করোনা সন্দেহে কেউ ধরছে না, সেই লাশ তুলে নিচ্ছে পুলিশ, আপনজন এগিয়ে না আসলেও তারা দাফন করছে। জানাজা পড়ানোর মতো কেউ না পেয়ে পুলিশকেই জানাজা পড়াতে হয়েছে। রাস্তার অলিগলি থেকে মসজিদ, মন্দির, গির্জা। সবজি বা মাছের বাজার কোথায় পাহারা দিতে হয় না তাদের?

কোথায় নেই তারা?

করোনার রোগী হসপিটালে আনতে বা করোনা রোগীর বাসা লকডাউন নিশ্চিত করতে পুলিশ। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়া রাস্তায় রাস্তায় রাত জেগে চেকপোস্টে ডিউটি করছে পুলিশ। পরিবহন সংকটের মধ্যে রাতে গর্ভবতী রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। হাসপাতালের অসুস্থ রোগী থেকে মৃত লাশের পাশে, কিংবা করোনায় আক্রান্ত মৃত লাশের সৎকারে,মাঠে-ময়দানে, পাড়া-মহল্লায়, হাটবাজার সবখানে পুলিশ সদস্যরা। করোনার আতঙ্কে অজ্ঞাত লাশের পাশে যখন কেউ নেই, তখন পুলিশকে ওই লাশের পাশে দাঁড়াতে হয়। লাশের দাফনের সব ব্যবস্থা করতে হয়।

লকডাউন না মেনে বাসার বাইরে যাবেন, ঘরে পাঠাবে পুলিশ। ঘরে বাজার নেই সেই বাজার করে দেবে পুলিশ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধি খোঁজা, স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা,পণ্য
পরিবহনে সহযোগিতা বা করোনা রোগী বহন- এই যে এত সব কাজ তার জন্য কি পুলিশের আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণ ছিল? নেই শুধু দেশ প্রেমের আবেগে ও ভালোবাসায় তারা আপনার, আমার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।।

হয়তো ভাবছেন সবই তাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে যত দায়িত্ববান প্রতিষ্ঠান বা মানুষ আছেন তাদের কয়জনকে দেখেছেন এই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে?

অনেক জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত এলাকায় নেই। যে কাজ অন্য সবাই মিলে করার কথা ছিল, তা একাই করে চলেছে পুলিশ। উল্লেখিত এই কাজগুলোর বাইরেও পুলিশের আরেকটি কাজ দাগ কাটে মানুষের মনে। সেটা খাদ্য সহয়াহতা। নিজেরা খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সারা দিনের ডিউটি শেষ করে তারা রাতের বেলা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রতিটি থানা যেন ত্রাণ সয়াহতা কেন্দ্র।

এ কাজগুলো করতে একজন পুলিশকে কত সময় দায়িত্বের বাইরে গিয়েও ডিউটি করতে হয়েছে, সেই আমাদের ধারণা আছে? আমাদের ধারণা সরকারি চাকরি মানেই ঘড়ি দেখে ডিউটি। কিন্তু এই একটি জায়গা যেখানে বছরের পর বছর ঘড়ি না দেখেই কাজ করতে হয়।

বর্তমান সংকটে অমানুষিক পরিশ্রম করেছে পুলিশ। কখনো ১২ ঘণ্টা, কখনো ১৬ আবার কখনো ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। মোটা কাপড়ের ইউনিফর্ম পরে, ঘামে ভিজে, আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত । যদিও আমরা সারা বছরই দেখেছি, যখন আমরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করি, পূজা করি তখন পুলিশের সদস্যরা থাকেন আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে। আমাদের আনন্দ দেখেই তাদের আনন্দ আসে। চলমান লকডাউনে আমরা যখন ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত। রাত জেগে সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছি, সে সময় আমাদের নিরাপত্তা দিতে সারা রাত কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

এতসব কাজ করতে গিয়ে পুলিশকে মূল্য দিতে হয়েছে। একক বাহিনী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বাংলাদেশ পুলিশ। কয়েকজন সদস্য জীবনও দিয়েছেন।

করোনাযুদ্ধে মারা গেলেও দমে যায়নি তারা। মাঠপর্যায়ে মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশের প্রতিটি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ সব ধরনের কাজ করছেন।

বলতে দ্বিধা নেই, বছরের অনেকটা সময় পুলিশ শিরোনাম হয় বিভিন্ন বিতর্কিত কাজে। তবে এ বিষয়টাকেও স্বাভাবিকভাবেই দেখা উচিৎ। এখানে পুলিশের দায় নয়, দায় ব্যক্তির। বাংলাদেশের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে এই মন্দ মানুষগুলো নেই। জনপ্রতিধিদেরও আমরা সংকটের সময় চাল চুরির কাজে লিপ্ত হতে দেখছি।

তবে বর্তমানে আমরা এক অন্য পুলিশ দেখছি। এই পুলিশ থাকুক আমাদের পাশে সবসময়। যদিও এসপি ফরিদ উদ্দিন কথা দিয়েছেন শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে লড়াই করে যাবে সিলেট জেলা পুলিশ এর প্রমাণও আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি।

আমি জানি না কোনো এক অজানা কারণে বেশিরভাগ মানুষ পুলিশকে কারণে–অকারণে অপছন্দ করে। তাদের নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করতে ভালবাসেন। পুলিশ ঘুষ খায়, কাজ করে না, নীতিবান না- কত কিছু। আচ্ছা করোনা বা রমজানকে ঘিরে দেশের লাখ লাখ ব্যবসায়ী যে বাণিজ্য করল সেটা কি নীতির মধ্যে পড়ে?

আপনার কি ধারণা আছে একজন পুলিশ সদস্যকে কীভাবে কষ্টে দিনে পর দিন কাটাতে হয়? ভালো থাকার ব্যবস্থা নেই, খাওয়ার ব্যবস্থা নেই ঘুম নেই। এমনও হয় ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করে শুধু বিছানায় হয়তো গেছেন এর মধ্যে অন্য একটি ঘটনা ঘটেছে, আবার তাকে দৌড় দিতে হয়। এই যে কাজের চাপ তার বিনিময়ে আমরা কী দিচ্ছি?

বিবেকের বাইরে গিয়ে আমরা দোষ খুঁজতে খুঁজতে পুলিশকে অন্য জগতের বাসিন্দা বানিয়ে দিয়েছি, কিন্তু এখন সময় এসেছে সে ধারণা বদলে দেবার। চলমান সংকটে পুলিশ যে ভালোবাসা দেখিয়েছে আমাদের উচিৎ সেই ভালোবাসা ধরে রাখা। সেই ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশ সদস্যদের বুকে আগলে রাখার।

লকডাউন মানাতে পুলিশকে আসতে হবে কেন, ভাড়াটিয়াকে ঘরে তুলতে পুলিশকে আসতে হবে কেন? সৎ নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য কি আমরা কখনো ভেবেছি? আমাদের কাজ যে পুলিশ করে দিতে হচ্ছে সেটা তো লজ্জার। আর নিজে লজ্জিত হয়ে অন্যের দোষ ধরা হীনম্মন্যতা। তাই আসুন নতুন দিনের এই পুলিশকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার চোখ দিয়ে তাদের দিকে তাকাই। সবাই মিলে বদলে দিই সমাজ এবং দেশটাকে।

এই সংকটে কত পুলিশ অফিসার ঘরে ফিরতে পারছেন না শুধু আমাদের ভালবেসে। সারা দিনের কাজ শেষে রাতে ত্রাণ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান। সেখান থেকে যখন বাসায় যাবেন তখন মনে চিন্তা আসে, আমি কি পরিবারের জন্য জীবাণু বহন করে নিয়ে যাচ্ছি?

এভাবে শত শত থেকে হাজার হাজার পুলিশ অফিসার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।পুলিশ সদস্যরা মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মানতে উৎসাহ দিলেও নিজেরা থাকছেন ঝুঁকির মধ্যেই। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যা অনেক পুরাতন। একি রুমে গাদা গাদি করে থাকতে হয় তাও এত না পাওয়ার মাঝেও পুলিশ যে সেবা দিচ্ছে তাতে বলতে চাই ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ জনগণের বন্ধু এ কথাটি এত দিন কাগজে-কলমে থাকলেও করোনা সংকটের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেখেছে তারা প্রকৃত পুলিশের রুপ। সুযোগ পেলে পুলিশ কি না করতে পারে তার প্রমাণ সিলেট জেলা পুলিশ দিয়েছেন। সিলেট জেলা পুলিশের এই ভুমিকা প্রশংসিত হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশসহ সবাইকে। পুলিশবাহিনীর এরই মধ্যে কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছে। তারা লাশ দাফন করা থেকে শুরু করে, রোগী টানা পর্যন্ত; সবকিছুই তারা করে যাচ্ছে। সরকার প্রধান সবসময় তার বাহিনীকে ধন্যবাদ দেবেন এটা হয়ত সাধারণ দৃষ্টিতে সহজ কিছু মনে হতে পারে। কিন্তু যে বাঙালি যে কোনো ইস্যুতে দুইটি ভাগ হয়ে যায়। তারা একবাক্যে একমত যে বর্তমান সংকটে সবচেয়ে কাছে পেয়েছে পুলিশকে ।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা যাই করিনা কেন তা কমই হবে। সত্যি আপনাদের এই মহতী মনের কথা গুলো হয়তো আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা তাও চেষ্টা করেছি এই লিখার মাধ্যমে সিলেট জেলা পুলিশবাহিনীকে আমার ও সিলেট বাসীর পক্ষ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর নিমিত্ত প্রয়াস মাত্র।

লেখকঃ ফারহানা বেগম হেনা।
সম্পাদকঃ ডেইলি বিডি নিউজ।