Mon. Jun 1st, 2020

পুলিশের নিন্ম-পদস্থদের হৃদয়ের কান্না, উর্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা

ডেইলি বিডি নিউজঃ মহামারী করোনা ভাইরাসের করাল আঘাতে স্তবির সমগ্র বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশের আইন শৃংখলা স্বভাবিক থকলেও মানষিক স্বস্তিতে নেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর সাধারন সদস্যরা। দেশের এমন সংকটময় মুহুর্ত্বে মানুষের সামাজিক দুরুত্ব ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত সহ মানবিক নানাবিধ সরকার নির্দেশিত দেশ সেবার কর্মকান্ডে ব্যস্ত রেখেছে নিজেদের।

দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে তারা অমরন বদ্ধ পরিকর। পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে নিশ্চিত করে যাচ্ছে জনতার মানবিক বন্ধু বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী।

মরনব্যাধি করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশী ঝুকি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ বাহিনীর অকুতভয় মানবিক যোদ্ধারা।

এমন পরিস্হিতীতে এখন পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য পিপিই খুবই জরুরী হলেও তা এখনো প্রদান করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি।

করোনার প্রথম সারির পুলিশ যোদ্ধারা প্রতিনিয়ত সমগ্র দেশের প্রতিটি এলাকায় অসুস্হ মানুষদের বাসায় গিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ বেশি অসুস্হদের হাসপাতালে নেওয়ার কাজ করছেন সাধারন মানের একটি মাস্ক পড়ে।

এ কারনে অনেক পুলিশ সদস্য না জেনেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রীর অভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন মরনঘাতী করোনা ভাইরাসে।

দেশের প্রথমসারির করোনা যোদ্ধাদের এমন অসহায় আত্মসমর্পন সত্যিই বেদনাদায়ক। পুলিশ সদস্যরাও দেশের নাগরিক হিসেবে এবং করোনা যোদ্ধা হিসেবে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার দেশের সংবিধানই তাদেরকে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত তারা পিপিই পাননি, যা দেয়াটা দেশের স্বার্থেই জরুরী।

তাদেরও পরিবার আছে। সেই পরিবার গুলোর কথা ভেবে হলেও সরকারে উচিত মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সমগ্রী অচিরেই প্রদান করা। স্বাস্হ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও এখন পর্যন্ত একচুলও পিছু হাটেনি কোন পুলিশ সদস্য।মৃত লাশের দাফনের ব্যবস্থা করাসহ মৃত্যুর ভয়ে ফেলে যাওয়া মাকে জঙ্গলে থেকে উদ্ধার করে সে মায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কোন কিছু পাওয়ার আশায় এ কাজ গুলো করছেন না, তা দেশের সবাই বোঝে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য পিপিই না দিলেও তারা আমরন দেশকে ভালবেসে, দেশের মানুষকে ভালবেসে করোনার দূর্যোগ থেকে মানুষকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন সেটাও শতভাগ সত্য। তারপরও দেশ মাতারও তার অকুতোভয় এই নিঃস্বার্থ যোদ্ধাদের জন্য অবশ্যই কিছু করার আছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

আর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্য (কনস্টবল হইতে সাব-ইন্সপেক্টর) বেশী করোনা ঝুকিতে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের সকল কাজ/ডিউটি আগের থেকে বেশী করতে হচ্ছে। সেই সাথে করোনার সাথে নিরলস যুদ্ধ চলমান। কিন্তু সেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা হয়তো আজ কিছুটা সুবিধা অবহলিত হয়ে আছে।

গত ইং-২৭/০৪/২০২০ তারিখ প্রানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে কর্মরত সদস্যদের পদোন্নাতির একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে পুলিশ বাহিনীর নিন্ম-পদস্থদের সকল পদোন্নতি ফাইল টেবিলেই আটকে আছে।

দেশের বর্তমান করোনা মহামারির সময়ে প্রথমসারিতে কাজ করার কারনে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বেশি আক্রান্ত। যার সংখ্যা ৬৭৭ জন এবং ইতিমধ্যে শহীদ হয়েছেন পুলিশ বিভাগের ০৪ জন অকুতভয় বীর সৈনিক।

এরকম এক গুমোট পরিস্হিতীতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

এই মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে পুলিশের আটকে থাকা পদোন্নতির ফাইল (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫০ হাজার জন বলের অবশিষ্ট ৪ হাজার ৬শত পদ সৃজন এবং র‌্যাব-১৫ তে জনবল বিভাজন প্রক্রিয়ায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উজ্জিবীত হবে বলে সাধারন মানুষের ধারনা।

সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে আজ পুলিশের মানবিক চিত্র প্রস্ফুটিত গোলাপ।

দেশের সচেতন মহল মনে করেন, তাদের এই অবস্হা ধরে রাখতে এবং অব্যাহতভাবে দেশের সকল পরিসেবায় নিরলস ও নির্বিঘ্নে জনগন ও সরকার নির্দেশিত সকল কাজ সুচারুরুপে করার স্বার্থে অচিরেই মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাস্হ্য নিরাপত্তা ব্যাবস্হাসহ তাদের আটকে থাকা পদোন্নতির দ্রুত সুরাহা করা গেলে আবারো পূর্ণদ্দমে দেশের সেবা করার সাহসীকতায় ঝাপিয়ে পড়ার প্রেরনা পাবেন সাধারন পুলিশ সদস্যরা।