Wed. Jul 8th, 2020

সিলেটের জনতার এসপি ফরিদ উদ্দিনের ছেলে বেলা শিক্ষা ও সংসার জীবন

মোস্তাক চৌধুরী ঃ অলি আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট, এই সিলেটে এসেছেন মানবতার ফেরিওয়ালা, অপরাধীদের আতংক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। আমার প্রিয় শহর কুমিল্লা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও দেশ প্রেমিক- মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী পরিবারের সন্তান সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

১৯৭৫ সালের ৭ জুলাই কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ধনুপাড়া গ্রামের সহজ-সরল, পরোপকারী সবার প্রিয় মরহুম হাসমত আলী ও সু-গৃহিণী গর্বিত মমতাময়ী মা ফাতেমা জাহান বানুর ঘর আলো করে জন্ম গ্রহণ করেন মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
পাঁচ ভাই-দুই বোনের বড় সংসারে তিনি হলেন ভাই-বোনের মধ্যে ৪র্থ তম সন্তান। ফরিদ উদ্দিন ছোট বেলাতেই লেখা পড়ায় ছিলেন মেধাবী ও চাুস, তাই সহপাঠী শিক শিকিামন্ডলী সহ শিাঙ্গনের নজর কাড়েন আর সকলের ভালবাসা ও ভালো লাগার পাত্র হয়ে ওঠেন মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে না হতেই।

তার গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক বিদ্যার হাতেখড়ি শেষে সবুজে ঘেরা, সবুজ-শ্যামল গ্রাম-বাংলার মেটো পথে হেঁটে আবহমান গ্রাম বাংলার হাডুডু, কাবাডি, গোল্লাছুট আর ফুটবল খেলে খেলে গ্রামেরই স্কুল সালাকান্দি জিসি হাই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সংঙ্গে ১৯৯১ সালে এস, এস, সি পাশ করেন। এস, এস সি পাশ করে কুমিল্লা জেলার প্রাচীন সরকারি বিদ্যাপীট আমার প্রিয় কলেজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
তিনি সেখান থেকে ১৯৯৭ সালে ফরেষ্ট্রিতে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক সম্মাননা ও ১৯৯৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন সাফল্যতার সাথে।

জ্ঞান অর্জনের অধম্য স্পৃহা স্বীয় বিভাগীয় কাজের চাপও তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ২০১৫ সালে তিনি ইন সার্ভিস অবস্থায় ক্রিমিনোলজিতে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আবারও মাষ্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পুলিশ বিভাগে চাকুরী গ্রহণের পর সারদা পুলিশ একাডেমির ২০০৫-২০০৭ একাডেমিক শিাবর্ষের সেশনে বেসিক ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত আগ্রহ, সততা, নিষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে বিভাগীয় সকল প্রশিণই উর্ধ্বতন কর্তৃপরে সন্তুষ্টি ও সুনামের সাথে সম্পন্ন করে চলেছেন। তাঁর ন্যায়-নিষ্ঠতা ও সততায় সন্তুষ্ট হয়ে সরকার ও বিভাগীয় কর্তৃপ তাঁকে জাতিসংঘের অধীনে প্ল্যাটুন কমান্ডার হিসেবে চাকুরী করার সুযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক প্রশিণের জন্য নির্বাচিত করেন। হাইতি পুলিশ একাডেমিতে জাতিসংঘের পরিচালনায় এফপিইউ প্রশিণ কোর্স সম্পন্ন করেন। একই বছরে উক্ত কোর্সের টট সম্পন্ন করেন ভারতে। ২০১৫ সালে এফপিইউ কোর্সের টট রিপ্রেসার্স করেন জর্ডানে। ২০১৮ সালে সাউথ কোরিয়ায় সম্পন্ন করেন ফ্যাক্টরী এসেসম্যান্ট টেস্ট কোর্স। ২০১৯ সালে পুলিশের পেট্টোলিংয়ের উপর প্রশিণ গ্রহণ করেন জাপানে। একই বছরে ডিএম কনফারেন্স করেন ভারতের মেঘালয়ে। ভ্রমণ পিপাসুও দেশ-বিদেশে প্রশিণপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ইতোমধ্যে পবিত্র মক্কা শরীফ যান ব্যক্তিগত উদ্যোগে হজ্ব পালনের জন্য। তিনি বিভিন্ন প্রশিণ দিতে গিয়ে নানা দেশ ভ্রমণে নানা রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও আমেরিকা, কানাডা, মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুর ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণ করেছেন। নানা অভিজ্ঞাজাত উপলব্ধির ভিত্তিতে পত্র-পত্রিকায়ও তিনির বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা ও গবেষণাধর্মী লেখালেখিরও তাঁর অভ্যাস রয়েছে।

তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ছাড়াও তার নিজস্ব ফেইসবুক আইডিতে চমকপ্রদক মন্তব্য তুলে ধরেন। যে মন্তব্যগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের গুজব থেকে রা করেছে সিলেটবাসীকে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নিবন্ধনগুলো পাঠক হৃদয়ে সু-বিশাল জায়গা করে নিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। স্ত্রী মাহফুজা শারমিন তাঁর সকল শুভ কাজে সব সময় অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। তিনি মার্জিত, উচ্চ শিতি ও সম্ভ্রান্ত একটি মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি যদিও উচ্চ শিায় শিতি হয়ে চাকরী না করে একজন সু-গৃহিনী, মমতাময়ী মায়ের ভূমিকা পালন করছেন শুধু তাই নয়, তিনি স্কুল জীবন থেকে কলেজ জীবন সব সময়ই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সিলেট আসার পরেও আমরা দেখেছি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে সব সময় কাজ করতে দেখেছি। তিনি গেল শীত মৌসুমে অসহায় দরিদ্র শীতার্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন পুলিশের নারী সংগঠন ‘পোনাক’ এর মাধ্যমে। তিনি নারী পুলিশদের নিয়ে সংগঠন ‘পোনাক’ এর পরিচালক হিসেবে সিলেট জেলার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, অসহায়, গরীব, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। চিন্নমূল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের সমস্যাগ্রস্থ মহিলা পুলিশের বিভিন্ন সমস্যায় তিনি সব সময় তাদের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। পোনাক এর মাধ্যমে মহিলা পুলিশের সকল সমস্যায় তিনি তাদের পাশে থেকে কাজ করছেন বলে পুলিশ প্রশাসনে রয়েছে তার বাঁধভাঙ্গা জনপ্রিয়তা এবং এ পোনাক সংগঠনের ধারা মহিলা পুলিশদের নিয়ে বিভিন্ন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে স্কুল-কলেজের ঝড়ে পরা নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য কাজ করছেন সব সময়। তাহার সন্তানরা লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছে, তিনিও প্রায়ই ঢাকায় থাকেন কিন্তু সিলেট জেলার সাধারণ মানুষের জন্য তাহার সরব উপস্থিতি আমি বুঝতেই পারিনি তিনি যে একজন ঢাকার বাসিন্দা। কারণ সামাজিক কর্মকাণ্ড ও চিন্নমূল মানুষের পাশে তাহার উপস্থিতিতে অনুভব করা যায় না তিনি যে মাঝে-মধ্যে ঢাকায় থাকেন। তার কর্মকাণ্ডের সফলতা দিনদিন আরও বৃদ্ধি পাক সে কামনা আমাদের সকলের।

বড় মেয়ে; আয়েশা তাবাসসুম শানভী, গেল প্রাথমিক শিা সমাপনী পরিায় গোল্ডেন জিপিএ অ+ ফলাফল অর্জন করেছে। এ সময় তাকে প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও সাপ্তাহিক মনুকূলের কাগজ পরিবারের প থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। বাবা এসপি ফরিদ উদ্দিনের মতো তার দুই মেয়েও অসাধারণ মেধাবী, তারা বাংলাদেশের মাধ্যমিকের মধ্যে সেরা বিদ্যাপিঠ ভিকারুননেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়নরত। বর্তমানে শানভী ভিকারুননেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। দ্বিতীয় মেয়ে ফাতেমা তারাননুম জানভী, ভিকারুননেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে, সেও অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী, তৃতীয় মেয়ে রুবাইয়া জারাননুম জারাভী, তার বয়স ৩ বছর। তিন মেয়ের ছোট্ট সংসার, অসাধারণ পরিপাটি করে রেখেছেন তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীনি বিশিষ্ট সমাজসেবী মাহফুজা শারমিন।

সিলেটের জনপ্রিয় এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের সাথে তাঁর ছোট্ট বেলার কথোপকথন, কলেজ জীবনের লেখাপড়া নিয়ে কথা এবং তিনি যেহেতু কুমিল্লা জেলার একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী পরিবারের সন্তান তাই মহান মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিচারণ নিয়ে তাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন; মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী পরিবারে জন্ম তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বড় হওয়া, ছোটকালে বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতাম, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোলাগা তৈরি হয়। আমাদের গ্রামের খুব কাছেই পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প তৈরি হয়, আমার চাচা পাকিস্তান সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন, উনি সচেতন থাকার কারণে পাকহানাদার বাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে পরিবারের সদস্যদের কে বাঁচানোর জন্য সকলকে নিয়ে ইন্ডিয়াতে রেখে আসেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আমার বাবা এবং আমার চাচারা সবাই এলাকাতেই থাকতেন। সব সময় এলাকার মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকার জন্য। রাতের বেলা ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন।
বাবার মুখে শুনা একদিনের মুক্তিযুদ্ধের গল্প; বাবা বলেন- গ্রামে হানাদার বাহিনী আক্রমণ করার পরে গ্রামের প্রতিটি পরিবারে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হানাদার বাহিনী এবং গ্রামের মহিলাদের উপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন করে। যা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। যুদ্ধের শেষ সময়ের এক পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনীর একটা টহলদল কে মেরে পরাজিত করে গ্রামের মুক্তিকামী মানুষজন কমান্ডারকে গলায় রশি লাগিয়ে গ্রামের প্রায় অনেক মানুষ রাস্তায় টেনে টেনে মিছিল করেছে, এই সমস্ত সাহসী মানুষের গল্প গুলো শুনে বুক ভরে উঠে আমার। বাবা ছিলেন একজন অত্যন্ত সহজ-সরল আলোকিত মানুষ, কোন মার-প্যাচ বুঝতেন না, মানুষের উপকার করাই ছিল তার একটা অভ্যাস। পাঁচ ভাই দুই বোনকে নিয়ে আমাদের সংসার। এই দীর্ঘ পথ চলায় বাবাকে যেমন হারিয়েছি, তেমনিভাবে এক বোন এবং এক ভাইকেও হারিয়েছি। গ্রামের স্কুলে এসএসসি পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হই ১৯৯১ সালে। ১৯৯৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পরে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল কিন্তু মেডিকেল ভর্তি পরীায় সুযোগ না হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হই আমাদের ডিপার্টমেন্টের পরিবেশ ছিল অসাধারণ, ডিপার্টমেন্টের নাম ছিল ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল অনেকটাই ভিন্ন, প্রগতিশীল ছাত্রদের এখানে আধিপত্য বেশি ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় দেশের রাজনীতি সম্পর্কে আস্তে আস্তে ধারণা তৈরি হয়। ঐ সময়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের হিংস্রতা দেখে আজও মনে মনে আঁতকে উঠি। প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কাজকর্ম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রগতিশীল ছাত্রদের ব্যানারে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্রদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ প্রফেশনাল ফরেস্ট্রি ংঃঁফবহঃং’ অ্যাসোসিয়েশন এর পর্যায়ক্রমে আমাকে সাধারণ সম্পাদকের এবং ভি পি এর দায়িত্ব পালন করতে হয়। ঐ সময়ে বিসিএস বন ক্যাডারকে শুধুমাত্র ফরেস্টের গ্রাজুয়েটদের সীমাবদ্ধ করার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলি এবং সেই সময়ে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম।

ছাত্রজীবনে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি যখন প্রথম পছন্দ ডাক্তারী পড়ার ছিল, সেটাতে ভর্তি হতে না পারায় তিনি চিন্তা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের ল্েয একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে চিন্তা করেন পুলিশ অফিসার হয়ে সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করবেন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন নিয়ে পুলিশের এডিশনাল এসপি পদে পরীা দেন এবং সে পরীায় নির্বাচিত হয়ে সে পদে যোগদান করেন এবং ২০১৫ইং সনে পদোন্নতি পান এসপি পদে। বর্তমানে সে পদেই বহাল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন। তিনি সিলেট এসেছেন নয় মাস হয়, এ নয় মাসেই মাদকের করাগ্রাস থেকে সিলেটবাসীকে রা করছেন। মাদক আর চুরাচালানের হাত থেকে মুক্ত করেছেন পবিত্র ভূমি সিলেটকে। মাদকের ছোবল থেকে রা পেয়েছে সিলেটের যুব সমাজ।
মুখ তুবড়ে পড়েছিল সিলেটের আইন শৃঙ্খলা, সিলেটে আইনের কোন বালাই ছিল না। তিনি আসার পর সিলেটের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক দিকের উন্নতি হয়েছে, যা বলার অপো রাখে না। সিলেটের জনসাধারণ খোলা আকাশের নিচে ঘুরছে। পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন তাঁর চাকুরী জীবনের অর্জিত খ্যাতি ও সম্মাননার মধ্যে ২০১১ সালে জাতিসংঘের শান্তি রায় মেডেল অর্জন করেন। পুলিশ বিভাগে ভালো সেবা প্রদানের জন্য ‘পিপিএম’ সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় পদক গ্রহণ করেন। ২০২০ সালে আপ্তাব উদ্দিন মিরাশদার স্মৃতি পরিষদ, মৌলভীবাজার কর্তৃক তাঁকে আপ্তাব উদ্দিন স্মৃতি “সম্মাননা স্মারকে” ভূষিত করে।
করোনা ভাইরাসে যখন সকল মানুষ ঘরবন্ধি তখন সিলেটের পুলিশ সুপার নিম্নবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি ও তাহার পুলিশ বাহিনী। তিনি সিলেটের হাজার খানেক মানুষের পরিবারের ঘরে ঘরে নিরবে-নিভৃতে তাদের শেষ সম্বলটুকু তুলে দেন। লাল সালাম সিলেটের এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের মডেল-অহংকার।

সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন।
মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন গরীব অসহায় মানুষের পাশে আইনী সহায়তা সহ, গরীব ও মেধাবী শিার্থীর পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন নিয়মিত। তিনি ছুটিতে বাড়ি গেলে তার এলাকার সবার খোঁজ খবর নেন সব সময় এবং এলাকার গরীব, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতার করে আসছেন। তিনি বাড়িতে গেলেই সবাই ছুটে আসে তাঁর কাছে, তিনিও সামর্থ অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ান। নিজের এলাকায়ও তিনি একজন পরোপকারী ও সৎ-মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। বিশেষ করে এতিমদের প্রতি উনি সদা-সর্বদা সু-নজর দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতায় সব সময় এগিয়ে আসেন। নিজে ও সমাজের বিত্তশালীদের সম্পৃক্ত করেন গরীব অসহায়দের সাহায্যার্থে।

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন বলেছেন, বেঁচে থাকার জন্য টাকা দরকার আছে এটা ঠিক তবে আমার এক টাকাও হারাম কিংবা অবৈধ টাকার দরকার নেই। আমার শেষ নিঃশ্বাসের আগেও যেন এক টাকা হারাম খেতে না হয় আল্লাহর কাছে এটাই আমার চাওয়া।