Mon. Jun 1st, 2020

এক পরিদর্শকই সামলাচ্ছেন সদরঘাট থানা

ডেইলি বিডি নিউজঃ পুলিশ কর্মকর্তা আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া একজনেই সামলাচ্ছেন সদরঘাট থানার সকল ধরণের আইন শৃঙ্খলা কার্যক্রম। গত ১৩ মে থেকে অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি এ কাজ করছেন। এ সময় থেকে তিনি তার থানার করোনা আক্রান্ত ১১ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়মিত দেখবালও করছেন।

গত ১৩ মে সদরঘাট থানার অফিসার্স ইনচার্জ ফজলুর রহমান ফারুকীসহ সদরঘাট থানার ১১ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও এ থানার একজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের থানাগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ওসি হিসেবে ফজলুর রহমান ফারুকী-ই প্রথম করোনায় আক্তান্ত। আর নগরীর থানাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্তান্ত এখন পর্যন্ত সদরঘাট থানা পুলিশ।

সদরঘাট থানা সুত্র জানান, ১৩ মের আগে ওসি ফজলুর রহমান ফারুকী ও তদন্ত আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া সিএমপির নির্দেশনা মতো দুই শিফটে থানার কার্যক্রম দেখতেন। এখন যেহেতু ফজলুর রহমান ফারুকী করোনায় আক্তান্ত হয়েছেন সেহেতু দুই শিফট-ই তদন্ত (বর্তমানে ওসি) আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া দেখছেন। থানা এলাকার ৯ জন পাবলিক করোনা রোগী এবং থানার ওসিসহ ১১ জন সরকারি রোগীর চিকিৎসাসহ যাবতীয় কার্যক্রম এখন আহমেদ উল্লাহ ভূঁইয়াই দেখছেন।

এছাড়া সদরঘাট থানা এলাকায় সিটিএসবি (নগর পুলিশের বিশেষ শাখা) যেসব ভবন লকডাউন করেছে সেগুলোও সর্বক্ষণ নজরদারি করছেন পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ উল্লাহ ভূঁইয়া। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ তো রয়েছেই। সেগুলোও তিনি টিম সাথে নিয়ে সর্বক্ষণ নজরদারি করছেন।

ভারপ্রাপ্ত অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ওসি হলেন একটি থানার অভিভাবক। এখন আমাদের অভিভাবক ফজলুর রহমান ফারুকী নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আমাদের ওসি স্যার। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন সবকিছু আমিই দেখবাল করছি। স্যারসহ আক্তান্ত ১১ জন পুলিশ সদস্যের জন্য নিয়মিত গরম পানিসহ যাবতীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করছি। এছাড়াও থানা এলাকার ৯ জন করোনা রোগীর বাসা বাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ দেখাশোনা করছি। এ কাজে আমাকে সহযোগীতা করছেন থানা ও ফাঁড়ির প্রায় অর্ধশত সদস্য। যারা দুই শিফটে জনসাধারণের কল্যাণে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া জানান, বলেন, গতকাল ১৫ মে রাতে তার থানা এলাকায় একজন করোনা রোগী পাওয়া যায়। যার অসম্ভব রকম রক্ত বমি হচ্ছিল। কোথাও কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময় তিনিসহ সরঘাট থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং দামপাড়া পুলিশ লাইন থেকে এমভুলেন্স ডেকে সে রোগীকে আন্দরকিল্লার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহমদ উল্লাহ বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক। তারা জনগণের সেবা করেই যাবে। করোনা ভাইরাস থেকে শুরু করে যে দুর্যোগ-ই আসুক না কেন তারা সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করে যাবে। এটাই পুলিশের ধর্ম, এটায় পুলিশের কাজ।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত নগরীর ৪৭ জন পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্তান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন। বাকী ৩৮ জন আন্দরকিল্লার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাধীন আছেন।