Wed. May 27th, 2020

বৃদ্ধাশ্রমের জানালা!

সৈয়দ উবায়দুর রহমানঃ যৌবন আসলো। বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুবক।দাউয়ার শুরু হলো প্রাপ্ত বয়স্ক সুন্দরী এক যুবতীর।অবশেষে বিয়ে হলো।বাসর রাতে দু’জনের প্রথম সাক্ষাত।ঘোমটা পড়া মেয়েটি লাজুক চোখে তাকাচ্ছিল।ঘোমটা সরিয়ে দেয়া হলো।একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে প্রথম পর্ব মুচকি হাসি।হয়েগেলো হাসির লেনদেন।শুরু হলো মুধুমাখা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বপ্নের কথোপকথন।এই শুনো? আমাদের ছেলে হলে বড় একজন শিক্ষিত বানাবো।বড় অফিসার হবে।সরকারি চাকরি করবে। বড় অংকের টাকা কামাবে।এটাই যেনো হয় তোমার আমার প্লান।ওকে হয়েগেলো ডিট।সংসার শুরু হলো।একদিন তিনাদের সংসারে সেই স্বপ্নের খোকাটি আসলো।মা’বাবার সেই প্লান অনুযায়ী অগ্রযাত্রা শুরু।মা’বাবা ছেলেটিকে মানুষের মত মানুষ বানাবে।ছেলে বড় অফিসার হবে।ছেলেকে ভালো করে লেখা পড়া করানোর জন্য বাবা গ্রাম থেকে ছুটেগেলেন ভালো চাকরির আশায় ঢাকায়।অনেক খোঁজাখুঁজির পর মিলেনি চাকরি!আশ্রয় নিলেন তিন’চাকার গাড়ি “রিক্সার “শুরু হলো যুদ্ধ।একদিন প্রাণের স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো তুমি কী চাকরি করো?উত্তরে বলেন আমি ভালো একটি কম্পানির ম্যানেজার।এভাবেই চলে হতভাগা বাবার জীবন যুদ্ধ।হাটৎ একদিন বাবা শুনেন তার ছেলে বড় এক চাকরি পেয়েছে সরকারি।মা’বাবার স্বপ্ন পূর্ণ হলো। ছেলে বড় এক অফিসার।মা’বাবাকে ছেলে নিয়ে আসে শহরে।রাতারাতি ছেলের বাড়ি গাড়ি! চলছে সু’খের সংসার।বড় লোকের এক মেয়েকে পছন্দ হল ছেলের।উভয় ফ্যামেলীর সম্মতিতে হয়েগেলো বিয়ে।কলিজার টুকরা মা বাবা বৃদ্ধের দিকে।শিক্ষিত ছেলে একদিন বাবার কাছ থেকে লিখে নিলো সব সম্পত্তি। বাবাও দিয়ে দিলেন খুশি মনে।কিছুদিন পরেই মা বাবা হয়ে যান ছেলে এবং ছেলের বউয়ের বোঝা!একদিন দামী গাড়ি দিয়ে মা বাবাকে নিয়েগেলো একটি বৃদ্ধাশ্রম সেন্টারে!মা বাবা ছিলেন অল্প শিক্ষিত, গাড়ি থেকে নেমেই উভয়ের চোখ পড়ে যায় বিশাল একটি সাইনবোর্ডের দিকে। যেখানে লিখা “বৃদ্ধাশ্রম সেন্টার “উভয়েই একজন আরেকজনের দিকে বেক বেক করে তাকাচ্ছেন!এদিকে সন্তান এবং সন্তানের বউ শান্তনা দিয়ে বলেন, বাবা মা? আজ থেকে তোমরা এখানেই থাকবে! আমি আর তোমাদের বউ মাসে একবার এসে দেখে জাবো। তোমরা টাকা পয়সার চিন্তা করিও না।আমি সময়মত টাকা পাটিয়ে দিব। এখানে তোমরা অনেক ভালো থাকবে।বৃদ্ধাশ্রম সেন্টারের ম্যানেজার রিসিভ করলেন দুই বুড়া বুড়িকে।ছেলে চলে যাচ্ছে হতভাগা বাবা মা তাকাচ্ছে।ছেলে বলে বায় বায়! আর মা বাবা বলে ভালো তাকিস খোকা।এটা হলো বাবা মা’র প্রথম বাসর রাতের ছেলেকে নিয়ে স্বপ্নের ফসল। আজ যদি ছেলে আলিম হত। এবং ছেলেকে আলিম হাফেজ বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। তাহলে বৃদ্ধাশ্রমের “জানালা “হতোনা তিনাদের শেষ সম্ভল।আজ বৃদ্ধাশ্রমের জানালা খুলে তাকিয়ে থাকেন ঢাকার আকাশের দিকে।ঘৃণা জানাই এমন মানুষ নামের অমানুষ শিক্ষিত ছেলেকে!আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাবা মা’র খেদমত করার তৌফিক দান করুন :আমীন