Fri. Jul 3rd, 2020

সিলেটে করোনা আক্রান্ত শিশুর দেখাশোনা করছেন ‘মা’

ডেইলি বিডি নিউজঃ করোনা রোগী শুনলেই কেউ কাছে আসে না। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির কাছেও যায় না কেউ। এই মহামারিতে মারা গেলে পরিবারের স্বজনরা পর্যন্ত মুখ দেখতে চায় না। সন্তানরা পিতা-মাতার দাফনে অনুপস্থিত থাকে। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মাকে গহীন জঙ্গলে ফেলে আসে সন্তানরা।

কিন্তু মা, তিনি-তো স্বর্গের দূত। তিনি করোনা আক্রান্ত সন্তানকে ফেলে যেতে চান না। আরও বড় কোনো রোগ কিংবা শোকে মা-ই আগলে রাখেন সন্তানকে। মায়ের মমতার আরেক অনন্য নজির স্থাপন করলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহর গ্রামের এক ‘মা’।

তার ৯ বছরের ছেলে সায়েম আহমদ এখন করোনা আক্রান্ত। সোমবার রাতে ওই ছেলের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

সায়েম এখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তার পিতা আবুল কালাম সম্প্রতি করোনায় মৃত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। আবুল কাশেম নামের ওই করোনা রোগী সিলেট সামসুদ্দীন হাসপাতালে মারা যান। আবুল কাশেম এবং আবুল কালাম ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এ সুবাধে কালাম মৃত কাশেমের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে যান।

বর্তমানে কালাম কাশেমের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তিনি মাত্র একদিনের জন্য নিজ বাড়ি নালবহরে আসেন। আর এতেই সংক্রমিত হয়ে পড়ে শিশু সায়েম।
বিয়ানীবাজার হাসপাতাল সূত্র জানায়, সায়েমের শরীরে কোনো উপসর্গ নেই। এরপরও তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক ওষুধ দেয়া হয়েছে। নিজের বসতঘরে মার সেবায় থাকবে সায়েম। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শারীরিক সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে মা-ই সেবা করতে পারবেন তার শিশু সন্তানের। চিকিৎসকদের এমন নির্দেশনায় মা বেজায় খুশী।

তিনি বলেন, যে সন্তানকে ১০মাস ১০দিন গর্ভে ধারণ করেছি, বুকের দুধ খাইয়ে বড় করেছি, শীত-গরম কিছুই লাগতে দেইনি, তাকে ফেলে যেতে পারি না। যত কষ্ট হোক কিংবা যত ছোঁয়াচে হোক আমি আমার ছেলের কাছে থাকব।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবু ইসহাক আজাদ বলেন, ‘মা-তো মা-ই। তার তুলনা হয় না। আমরা ওই শিশুর কথা চিন্তা করে তার মাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কাছে থাকার জন্য বলেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘সায়েমের ছোট আর কোনো ভাই-বোন নেই। তাই মায়েরও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সৌজন্যঃঃ সিলেটেরডাক