Thu. Oct 29th, 2020

অনবদ্য ছুটে চলা একজন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন

ফারহানা বেগম হেনাঃ বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ প্রার্দুভাবের শুরু থেকে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন পিপিএম পেশাগত দায়িত্বের পাশপাশি এক মানবিক কর্মকর্তা হিসেবেও দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে রাজনৈতিক সামাজিক ব‍্যক্তিবর্গের মতো মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখে অভিজ্ঞতা ও আধুনিকতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশকে। এগুলোর মধ্যেই থেমে নেই তার নিজস্ব কার্যক্রম। অব্যাহত রেখেছেন সামাজিক ও মানবিক কাজ। চলমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিক, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তসহ দুস্থদের নীরবে নিভৃতে সাহায্য করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় তাদের জন্য পাঠাচ্ছেন নিয়মিত ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি, ডি এবং জিংক ট্যাবলেট সরবরাহ করার মতো বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

তারই ধারাবাহিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিরবে কাজ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সিলেটে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের করোনার কারনে ছুটি না থাকার কারনে অনেক পুলিশ সদস্য নিজ বাড়িতে যেতে পারেননি তাই পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ঈদের দিন সকল পুলিশ সদস্যরে সাথে সময় কাটান ও পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের জন্য যে খাবার রান্না করা হয়েছিলো শীর্ষ পদের পুলিশ কর্মকর্তা সহ সবাই একই কাতারে বসে একই খাবার খেয়েছেন এ যেনো তারই পরিবার। সচারাচর পুলিশ ফোর্স এর জন্য গতানুগতিক ধারার যে সব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বা রান্না করা হয়ে থাকে বর্তমানে এসপি ফরিদ উদ্দিনের সুনজর দারীতে তাতে এসেছে আমুল পরিবর্তন বর্তমান পরিস্থিতিকে মাতায় রেখে সকল পুলিশ ফোর্সের খাদ্য তালিকায় আনা হয়েছে আমুল পরিবর্তন যাতে করে সকল পুলিশ ফোর্স সুস্থ থাকেন সে দিকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। এর পাশা পাশি যারা অসুস্থ আছেন তাদের প্রতিও রেখেছেন কড়া নজর যাতে করে তাদের চিকিৎসা সেবা সাস্থসেবায় কোন রকম অবহেলা না হয় প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নেওয়া ও তাদের কে পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা থেকে সব কিছুর খেয়াল রাখছেন এসপি ফরিদ উদ্দিন।

শুধু পুলিশ সদস্য নয় এরি পাশাপাশি সম্মুখ যুদ্ধে কাজ করা যে সকল সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এসপি ফরিদ উদ্দিন তাদের কেও নিজ উদ্দ্যোগে খুঁজ খবর নেওয়া তাদের বাসায় বাসায় খাবার পৌছে দেওয়া থেকে শুরু করে সাবর্ক্ষন খোঁজ খবর নিচ্ছেন যা এর আগে কোন সাংবাদিক পেয়েছে বলে মনে হয় না। এসপি ফরিদ উদ্দিনের আন্তরিকতায় বুঝা যায় প্রতিটি মানুষ ই উনার পরিবারের অংশ তাই তিনি সকল স্তরের মানুষের পাশে অবলিলায় মিশে যেতে পারেন এই মহত্ত্ব সবার মাঝে থাকে না যা এসপি ফরিদ উদ্দিনের মাঝে আছে। আর তাই বর্তমানে পুলিশ বাহিনী সবার কাছে ‘মানবিক পুলিশ’ হিসেবেই নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সিলেট পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন এর কাছে পুলিশের প্রতিটি সদস্যই সমান, আর তাইতো তারই নির্দেশে ঈদের দিনে সবাই একই খাবার খেয়ে যুদ্ধে নেমেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন সম্প্রতি বলেছেন, পুলিশ ও সাংবাদিকের কাজের ধরন একই। সাংবাদিক এবং পুলিশ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। সাংবাদিকরা তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে সমাজের গভীর থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলে এনে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেশের কল্যাণ করেন। পক্ষান্তরে পুলিশ ও সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ,বিশৃঙ্খলা দূর দেশ ও জাতির কল্যাণ করে। পুলিশের সাথে সাথে সাংবাদিক ভাইয়েরাও প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। আমরা মনে করি পুলিশ ও সাংবাদিক যদি একসাথে কাজ করে তাহলে আমরা শীঘ্রই এই মহামারী থেকে উত্তরণ পেতে পারি। সিলেট জেলা পুলিশ সিলেটের সকল সাংবাদিকের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

একজন মানবিক পুলিশ সুপার সামাজিকভাবে, অনানুষ্ঠানিকভাবে কোভিড ১৯ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শুভানুধ‍্যায়ী, সাংবাদিক পরিবারের প্রতি তার উদারতা উৎস্বর্গ করে দিচ্ছেন প্রকাশ্যে ও গোপনে।

পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও সিলেটের পুলিশ সুপার, কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালন নীতিতে কাজ করে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন।

যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরপরই সিলেটের ৫ থানার ওসিকে বদলি করেন এবং থানায় যাতে সেবাপ্রার্থীরা হয়রানীর স্বীকার না হয় সে বিষয়ে নবাগত ওসিদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন ডিএমপি ওয়ারীর সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সিলেটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা সমাবেশ করে জঙ্গি ও গুজব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাত সহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সরকার মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন কর্ম হারিয়ে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা দায়িত্ব পালনের সময় বাস্তব উপলব্ধি থেকে নিম্ন আয়ের এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মানব সেবাই পরম ধর্ম। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই মানব সেবার কথা বলা আছে। অনেকের মতে মানব সেবার মাঝেই সৃষ্টিকর্তার আনুকূল্য পাওয়া যায়। চাইলে অনেকভাবেই মানুষের সেবা করা যায়। যারা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে তাদেরকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ বলে ডাকা হয়। তেমনি একজন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

সিলেট জেলা পুলিশ কল্যাণ তহবিল থেকে জেলার প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জগন পুলিশ সুপারের নির্দেশে নিজ নিজ থানা এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে চলেছেন। পায়ে হেটে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সহ সব থানার অসহায় বেদে পল্লী, চা শ্রমিক ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের পরিবারের মাঝে জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিতরণকৃত ত্রাণ তুলে দেন। পুলিশ সুপারের মানবসেবার এসব কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জনসাধারণ।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( মিডিয়া) লুৎফর রহমান বলেন,এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সিলেট জেলায় যোগদান করার পর থেকেই পাল্টে গেছে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনীর সকল কার্যক্রম আমরা গর্বীত এমন একজন এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর মতো একজন মহত গুনের মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি আমি উনার দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।

এ ব‍্যাপারে অনলাইন দৈনিক ডেইলি বিডি নিউজের সম্পাদক ফারহানা বেগম হেনা বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ সুপার মহোদয় যেভাবে কাজ করছেন তা প্রশংসার দাবীদার। এই কারণে আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরো বলেন, এর আগে দেশে অনেক দুর্যোগ এসেছে এবং তখনো অনেকে এই পদে দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু কাউকে বর্তমানের মতো সবার পাশে দাঁড়ানোর কথা শোনা যায়নি।

দৈনিক সময়ের সংবাদের প্রধান সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন নাঈম চৌধুরী বলেন, পুলিশের কাজের বাইরে এ ধরনের সামাজিক কাজ পুলিশ বাহিনীকে অনন‍্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এদিকে একাধিক সংবাদ কর্মীরা জানিয়েছেন, আমরা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন মহোদয়ের মতো মানবিকতা ও মহানুভবতা দেখতে চাই। তাহলেই পুলিশকে মানুষ শত্রু হিসেবে নয় বন্ধু হিসেবে অন্তরে স্থান দিবে।

লেখকঃ ফারহানা বেগম হেনা
সম্পাদক, ডেইলি বিডি নিউজ।