Wed. Jul 8th, 2020

মাত্র ২০ ডলার জর্জ ফ্লয়েডের জীবন কেড়ে নিল

শেখ শফিকুর রহমান, নিউইয়র্ক।।
আমেরিকার উত্তাল দাঙ্গার সুত্রপাত যেভাবে। গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে ৪৬ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড মাত্র ২০ ডলারের এক‌টি জালনোট ব্যবহার করেছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে জর্জ ফ্লয়েডকে অভিযোগের ভিত্তিতে মিনিয়াপোলিস শহরের শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক শভিন গ্রেফতার করতে আসলে হাতকড়া পরাতে গিয়ে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা জর্জ ফ্লয়েডকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে ঘাড়ের উপর চেপে ধরেন এসময় বারবার জর্জ ফ্লয়েড পুলিশ কে বলতে থাকে প্লিজ আমি শ্বাস নিতে পারছিনা আমাকে মারবেন না। এ ঘটনায় জর্জ ফ্লয়েড মৃত্যুবরন করেন। এ দৃশ্য এক ব্যক্তি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। আর এ হত্যা কান্ডের খবর যখন ছড়িয়ে যায় তখনই সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রতিবাদের ঝর বইতে শুরু করে। এখান থেকেই মুল ঘটনার সুত্রপাত হয়।
এখন এই দাঙ্গা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রুপ নিয়েছে। যে করোনা ভাইরাসের তান্ডবে সারা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যতটা না কাবু করেছিল তার চেয়ে বেশী কাবু করেছে এই দাঙ্গা। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে দাঙ্গা হামলা শুরু হয়েছে তার তান্ডব কতটা ভয়ংকর হতে চলেছে তা বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। আর এই দাঙ্গা কে কেন্দ্র করে লুটতরাজ শুরু হয়েছে। যদিও কারফিউ চলছে তা উপেক্ষা করেই রাতে চলছে লুটতরাজ দিনে চলছে প্রতিবাদ সভা সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কে দিয়ে কিছুতেই দমন করতে পারছেন না। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা লুটতরাজের কারণে আতঙ্ক গ্রন্থ হয়ে পড়েছেন। সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। বিক্ষোভকারীরা হামলা চালাচ্ছে গাড়ী বাড়ীতে।
কত কয়েক দিনের বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ হাজারের বেশী মানুষকে আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জীবন যাত্রা কার্যতঃ অচল হয়ে পড়েছে। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে তার ভিতরে এই দাঙ্গা মানুষকে অসস্তির মধ্যে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোন ভাবেই দাঙ্গার সুরাহা করতে পারছে না। যদিও ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডেমোকেট শিবির থেকে এই দাঙ্গাকে রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মুল রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিনত হয়েছে। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কি হবে বা কি ঘটতে যাচ্ছে সামনে কয়েক মাস তা এই মুহুর্তে বলা সত্যিই কঠিন ব্যাপার। খুব সহসাই যে এই দাঙ্গার পরিসমাপ্তি হবে তা মনে হচ্ছেনা। এই দাঙ্গার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী আমেরিকান নাগরিকদের মধ্যেও প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে যে সকল বাংলাদেশী নাগরিক ব্যবসা বানিজ্যে নিয়োজিত রয়েছেন তারা আতংকগ্রস্ত রয়েছেন কখন যেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় তারা সতর্কতা অবস্থায় রয়েছেন।আমরা মনে করি বাংলাদেশী নাগরিকদের সাবধানে থেকে নিজেদের কে নিরাপদে রাখার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া উচিত।।
লেখক
শেখ শফিকুর রহমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
নিউইয়র্ক আমেরিকা।