Wed. Jul 8th, 2020

একজন সম্মুখ যোদ্ধা আরিফ খান

ফারহানা বেগম হেনাঃ বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা পৃথিবীকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। মানুষ করোনায় নিজেরা কোনঠাসা হয়ে আছে । কিন্তু পুলিশ প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছেন এসব মানুষের সেবায়। ইতিমধ্যে সিলেটসহ দেশের নানা জেলায় পুলিশের অনেক সদস্য ও কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আপনার আমার জীবন বাঁচাতে পুলিশের জীবন আজ সংকটে। তবু তৃপ্তি এখানেই যে মানুষের জন্য পুলিশ তার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন।

মহামা’রী করোনা ভাইরাসের প্রাদু’র্ভাব দেখা দিয়েছে সিলেট ও আর এ প্রর্দুভাবে র্বতমানে সিলেটবাসী আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন। এরই অংশ হিসেবে সিলেটেও সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সিলেট জেলা পুলিশ। যার মাধ্যমে স্থানীয়সহ দেশবাসীর অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনী।

ঠিক তেমনি ভাবে করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খান। পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানায়। আরিফ খান বিভাগীয় হাসপাতালে এম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসেবে র্বতমানে কর্মরত আছেন। সম্মুখ যুদ্ধে ছুটে চলা এমন আনেকেই আছেন যাদের কথা গুলো আড়ালেই থেকে যায় আর তারা আড়ালে থেকেই নিরলস ভাবে কাজ করে যান,তেমনি একজন মানুষ হচ্ছেন পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খান আমরা আনেকের কথা বড় বড় করে লিখলেও তাদের কথা লিখতে আমরা ভুলে যাই যে একেবারে সম্মুখ ভাবে মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাসের একেবারে কাছে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কথা তুলে ধরাও আমাদের দায়ীত্ব বলে মনে করি।।

বিভাগীয় হাসপাতাল, সিলেট বিভাগের হসপিটালটি ১শ বেডের । Covid19 সংক্রমণ এর পর থেকেই পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে এ হাসপাতালকে সিলেট বিভাগের পুলিশ সদস্যদের জন্য করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের জন্য করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা পর থেকেই সেখানে কনস্টেবল আরিফ প্রত্যেকদিন বিভিন্ন থানাতে আক্রান্ত covid-19 positive রোগীদের আনা নেয়া করে থাকেন । সিলেট থেকে শুরু করে সিলেট জেলার যেখানেই করোনা আক্রন্ত রোগীর খবর আসছে সাথে সাথে ছুটে যাচ্ছেন সেখান থেকে রোগীকে আনতে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে। সম্মুখ যুদ্ধা পুলিশ আরিফ খান আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন সময়ে রাত-দিন যে কোন সময় ডাক পড়ার সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য ছুটে চলে যান। এই বিভাগে হাসপাতালের র্কমরত সকল সদস্য নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে।

পুলিশ আরিফ খান তার র্কম দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তারাই বাংলার র্সূয সন্তান। চোখে না দেখা এমন এক মরনব্যাধির যুদ্ধে সবাই যখন ঘরে পুলিশ তখন আমাদের জন্য দিন রাত বাহিরে। নিজেদের জীবনের তুয়াক্কা না করে তারা নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন আমাদের তরে। ভাবেননি তাদের পরিবার পরিজনের কথা। মা, বাবা,স্ত্রী,সন্তারে কথা। ভুলে যান ঘরে রেখে আসা ছোট্ট সোনামণির কথাও। সবার কথ ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের সেবায় ব্রত রয়েছেন প্রতিটিদিন প্রতিটি সময়।

পুলিশ আরিফ খান প্রত্যেকদিন সিলেটের কোন না কোন থানায় আক্রন্ত পুলিশকে শামসুদ্দিনে টেস্ট করার জন্য আনা নেওয়া করে থাকেন। প্রত্যেকদিন রোগীর সংস্পর্শে আসা কতটা সাহসের ব্যাপার সেটা সত্যি চিন্তা করার বিষয়। যেখানে করোনা রোগীকে মানুষ কবর দিতেও এগিয়ে আসে না ভয়ে। করোনা রোগী বা লক্ষণ আছে শুনা মাত্র কাছের মানুষ গুলোও দূরে সরে যায়। সেখানে প্রত্যেকদিন করণা রোগী বহন করা কতটা সাহসের ব্যাপার একবার ভেবে দেখুন। পুলিশ সদস্যরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন। সবাই হাত গুটিয়ে নিলেও পুলিশ সদস্যরা কিন্তু বসে নেই। তারা অবিশ্রান্ত, ক্লান্তি দুরে ঝেড়ে ফেলে অন্যের বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ভুলে গেছেন তার পরিবার, স্বজনদের কথা। তারা
জানেনা যে এই মরণব্যাধি কখন থামবে বা তারা আধো সুস্থ ভাবে নিজেদের আপজনের কাছে ফিরে যেতে পারবেন কিনা কোভিড-১৯ নিয়ে আতঙ্কে মানুষ। কিন্তু তারা সব ভয় অতিক্রম করে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। তবু তৃপ্তি এখানেই যে মানুষের জন্য তার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন।

দেশে সৃষ্ট এ অচলাবস্থায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কাজেও এগিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মানতে উৎসাহ দিলেও নিজেরা থাকছেন ঝুঁকির মধ্যেই।এ যেনো এক অনন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত। দেশের এ সংকটে অনেক মানবিক দৃষ্টান্ত সামনে আসছে। তবে পুলিশের মানবিক উদ্যোগ ও নিরলস কাজ এই বাহিনীকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে সাধারণ মানুষের কাছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( মিডিয়া)মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, সিলেট জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব ফরিদ উদ্দিন পিপিএম স্যারের সিলেট যোগদান করার পর থেকেই উনার নেতৃত্বে উনার মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখে অভিজ্ঞতা ও আধুনিকতাকে কাজে লাগিয়ে যে ভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশকে তা সত্যি দৃষ্টান্ত রাখার মতো সিলেট জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খানের মতো আনেক পুলিশ সদস্য আছেন যারা এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে মানুষের খুব কাছে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আমরা গর্বীত এমন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যে তারা মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তা সত্যি দৃষ্টান্ত রাখার মতো। মানব কল্যাণে সিলেট জেলা পুলিশের সদস্য পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খানের মতো সকল সদস্য সহ যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের অনেকেই অনুকরণ করবে বলে আশা রাখছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে রক্ষা করুন।

এ ব‍্যাপারে অনলাইন দৈনিক ডেইলি বিডি নিউজের সম্পাদক ফারহানা বেগম হেনা বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নেতৃত্বে যেভাবে সিলেট জেলা পুলিশ কাজ করছেন তা প্রশংসার দাবীদার। এই কারণে আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি পুলিশ কনস্টেবল আরিফ খানের জন্য দোয় করি আল্লাহ পাক আরিফ খানে সহ আরও যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন দিন রাত নিরলস ভাবে তাদের সকলকে আল্লাহ পাক সুস্থ রাখুন ভালো রাখুন।

লেখকঃ ফারহানা বেগম হেনা।
সম্পাদকঃ ডেইলি বিডি নিউজ।