Wed. Jul 8th, 2020

একটি মৃত্যু বিশ্ববাসীর উৎকন্ঠা

শেখ শফিকুর রহমান, নিউইয়র্ক।।
পৃথিবীতে কত মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুবরন করছে অথবা হত্যা হচ্ছে। আমরা কি তার সব খবর রাখি বা মৃত্যু নিয়ে মাথা ঘামাই। কিন্তু আমেরিকায় একটি মানুষের মৃত্যু সারা বিশ্ববাসীর টনক নড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সকল মিডিয়ায় সেই মৃত্যু নিয়ে প্রচার হচ্ছে শতশত সচিত্র প্রতিবেদন। লেখা হচ্ছে শতশত প্রতিবেদন সংবাদপত্রের পাতায় ব্যানার শিরোনাম দিয়ে।যা বিশ্ববাসীর নজর কে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। আর মৃত্যুবরনকারী সেই ব্যক্তিটি হচ্ছেন। জর্জ ফ্লয়েড যিনি ছিলেন সামান্য এক কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষী। এক সময় তিনি বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিলেন। মাত্র ২০ডলার জাল নোটের জন্য জীবন দিতে হয়েছে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনের হাতে। ডেরেক শভিনের নামও বিশ্বজুড়ে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে হত্যাকারী হিসেবে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ড্রোনাল ট্রাম্পের ক্ষমতার ভিত কেঁপে উঠেছে। বিক্ষোভ প্রতিবাদে সারা আমেরিকায় চলছে জ্বালাও পুড়াও আন্দোলন। পাশাপাশি চলছে সাধারণ মানুষের জান মালের ধ্বংসলীলা। প্রশাসনের সর্বশক্তি দিয়েও পুলিশ বাহিনী এই আন্দোলনকে দমন করতে পারছেনা কিছুতেই। কারফিউ কে অমান্য করে রাস্তায় ছুটে এসেছে প্রতিবাদী মানুষের উত্তেজিত মিছিল। বর্নবাদ বিরোধী এই আন্দোলন লন্ডভন্ড করে দিতে চলেছে পরাশক্তি আমেরিকার অর্থনীতির ভিতকে। যেভাবে বেপরোয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তার শেষ পরিনতি কি হতে পারে এ নিয়ে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গনমাধ্যমে বয়ে যাচ্ছে টকশোর বন্যা। কার্যত এই আন্দোলন কে সমর্থন জানিয়ে আমেরিকার সাবেক চার রাষ্ট্রপতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। করোনা ভাইরাসে বিপযস্ত আমেরিকা করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন হয়ে আছে তারমধ্যে এই দাঙ্গা বিক্ষোভ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। সরকার ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার কে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করেছেন। তবুও বিক্ষোভকারী মানুষ আন্দোলন থেকে ঘরে ফিরছেন না। আজ জর্জ ফ্লয়েডের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। আমেরিকার জনসাধারণ সহ বিশ্ববাসী পড়েছেন উৎকন্ঠায় কি হবে এই আন্দোলনের শেষ পরিনতি।
লেখক
শেখ শফিকুর রহমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।