Main Menu

দলীয় নেতাদের কার্যক্রম মনিটরিং করছে আওয়ামী লীগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ দলীয় নির্দেশ তৃণমূল পর্যায়ে যথাযথভাবে পালন না করায় অস্বস্তিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ। করোনা সংকট মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল দলটি। প্রথম দিকে ওই নির্দেশ মানলেও এখন বেশিরভাগ নেতা নিষ্ক্রিয়। লকডাউন আর আইসোলেশনের দোহায় দিয়ে কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন তারা। দীর্ঘদিন ধরে অনেক নেতার ফোনও বন্ধ। তাই এই দুঃসময়ে যেসব নেতা মানুষের পাশে দাঁড়াননি তাদের বিষয়ে মনিটরিং করছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান দলটির নেতারা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা মানবজমিনকে বলেন, করোনা সংকট কাটাতে সরকার বিভিন্ন উপায়ে জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ত্রান থেকে শুরু করে নানা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এসব কাজে দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে কম। এজন্য হয়তো অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। তবে শুরুর দিকে মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, এখন অনেক নেতা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

এটা দলের জন্য অস্বস্তিকর। এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশের পরেও দলীয় নেতাদের কাছে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে তৃণমুলের নেতা-কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন ও তার ধানমন্ডি কার্যালয়ের ঠিকানায় প্রতিদিনই এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনাকে লেখা এমনই এক চিঠিতে শরীয়তপুর-৩ সংসদীয় এলাকার স্থানীয় এক নেতা লিখেছেন, নেতার নেতৃত্বের গুণাবলী এলাকাকে যেমন সুনামে প্রতিষ্ঠিত করে তেমনি কলঙ্কেও কলুষিত করে।

চারপাশে তাকালে আমরা নেতাদের সুখ্যাতি ও কুখ্যাতি উভয় স্পর্শে আন্দোলিত হই। কেউ নতুন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ত্রাণ বা দুস্থদের সহযোগিতা করে আলোচিত, কেউ ধান কেটে বা কাটায় সহযোগিতা করে আলোচিত, কেউ সফল লকডাউনের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচিত, আবার কেউ ত্রাণ বা টিসিবির পন্য চুরি করে আলোচিত। আমার এলাকা ত্রাণ দিতে বাধা দিয়ে শর্ত দিয়ে ত্রাণ দেয়ার অযৌক্তিক দাবির নির্দেশনা দিয়ে আলোচিত। তিনি লেখেন, আজ আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত! কষ্টে। লজ্জায় মাথা অবনত! এখন আর আমার পরিচয় দিতে ইচ্ছে জাগে না।

এখন কোথাও আগ বাড়িয়ে বলতে যাই না আমার বাড়ি ঐ পদ্মাপারে। আমি অক্লান্ত পরিশ্রমী মানবতার মা খ্যাত শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে শংকিত। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এ সাহস আগামিতে কোন নেতা বা নেতা নামধারী জানোয়াররা যেন দেখাতে না পারে। এসব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য মানবজমিনকে বলেন, নেতাদের কাছে না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই কর্মীরা মনক্ষুন্ন। আসলে পরিস্থিতির কারনে এমনটি হয়েছে। করোনার কারনে অনেকের ব্যবসা বন্ধ। কাজ বন্ধ। যাতায়াত বন্ধ। বলা যায় আয় রোজগারের পথও বন্ধ। তারপরও দলের নেতারা চেষ্টা করছেন সামর্থ্য অনুযায়ী জনগনের পাশে দাঁড়ানোর। তিনি বলেন, যারা একেবারেই মানুষের কাছে যাননি তাদের বিষয়টি কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।

তৃণমুল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ যাচাই করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ যাদের কারনে দলকে অস্বস্তিতে পড়তে হয় তারা আসলে মনেপ্রানে আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী নন। এর আগে করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর মধ্যে দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজে প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়টি ছিলো। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নিবিড়ভাবে মানুষের পাশে থাকতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে টেলিফোনে ওই নির্দেশনা দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে দলটির দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া মানবজমিনকে বলেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের টেলিফোনে জনগণের পাশে থাকার কথা বলা হচ্ছে। গরীব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হচ্ছে।

কিন্তু বেশিরভাগ নেতা এসব নির্দেশ না মানায় দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতারা জানান, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে দলীয় সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো যেত। স্থানীয় অনেক নেতা সক্রিয় হতে চাইলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের ‘সেভাবে’ গ্রহণ করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই নিষ্ক্রিয় থাকতে হয়েছে দায়িত্বশীল নেতাদের। আবার অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু জেলা-থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের ত্রাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করার ফলে দলের চেয়ে ব্যক্তি প্রচারণাই বেশি ফুটে উঠেছে।






Related News

Comments are Closed