Thu. Jul 9th, 2020

করোনা টেস্টে ওসমানী ও শাবির ল্যাবের সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে করোনার রির্পোট পেতে এখন বেশ বিলম্ব হচ্ছে। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদারুল আলম নবেল জানিয়েছেন তিনি নমুনা জমা দেয়ার ১৩ দিন পর ফলাফল রির্পোট পেয়েছেন। এভাবে নমুনা জটে আটকে আছে শত শত মানুষের রির্পোট।

সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। অথচ বর্তমানে ওই ল্যাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর এতে করে এই জট সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় এই পিসিআর ল্যাবের সাথে অটো সেম্পুল পিপারেটর’ নামক একটি যন্ত্র যুক্ত না থাকায় টেকনিশিয়ানরা ম্যানুয়ালি এটি করে থাকেন। যা ২ রাউন্ডের বেশি করা সম্ভব নয়। প্রতি রাউন্ডে ৯৩টি টেস্ট করা হয়।

সিলেট ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, এ অবস্থায় যদি আরো কিছু টেকনিশিয়ান বাড়ানো যায় তবে ৩ রাউন্ড টেস্ট করা যাবে। আর এতে করে সিলেটে প্রতিদিন ২৭৯ জনের টেস্ট করা সম্ভব।

অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি টেস্ট স্বাচ্ছন্দে করা যায়। অথচ সেখানে টেস্ট করার জন্য সেম্পুল নেই। গতকাল (২০ জুন) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে মাত্র ২৩টি সেম্পুল ছিলো। যা সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো হয়েছে। এই সেম্পুল পরীক্ষায় ৪ জন জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে কিছু নমুনা নিজ উদ্যোগে নিয়ে পরীক্ষা করতে পারতো। অন্যদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজও শাবির শাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারতো। কিন্তু এখানে কোন সমন্বয় নেই।

শাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শামসুল হক প্রধানের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে এই সমন্বয়হীনতার বিষয়টি জেনে সিলেট ১ আসনের এমপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দু:খজনক। এই মহামারী চলাকালীন সময়ে জনগণকে আরও ভাল সেবা প্রদানের জন্য আমাদের সকলের সমন্বয় ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করা উচিত। আর এটি হলে আমাদের মানুষের দূর্ভোগ অনেকটা কমে যাবে।