Thu. Jul 9th, 2020

দিনে ১৮ ঘণ্টা রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে চান মালিকরা

ডেইলি বিডি নিউজঃ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতেও সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা রাখার দাবি করেছেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। অর্থাৎ দিনে ১৮ ঘণ্টা রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে চান তারা। পাশাপাশি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁর মালিকরা। অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হয়।

মালিকরা বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ না থাকলেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে দিচ্ছে না। এতে করে করোনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রেস্টুরেন্টগুলো বিপাকে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে করে বেকার হচ্ছেন শ্রমিক।’ তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা রাখতে চান মালিকরা।

অনলাইনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন- সংগঠনটির মহাসচিব আর কে সরকার। তিনি বলেন, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কমতে থাকে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ক্রেতা একেবারেই শূন্যে নেমে আসে। রেস্তোরাঁর মালিকরা বড় সংকটে পড়েছেন। শ্রমিকেরা কষ্টে রয়েছেন।

সমিতির পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:

>> সাধারণ ছুটি নিয়ে গত ২৮ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে খাদ্য, খাবার ও সেবার সঙ্গে ‘হোটেল-রেস্তোরাঁ’ খাত স্পষ্ট করা।

>> করোনাকালে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির যে বিল জমবে তা ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসে ১০ শতাংশ হারে আদায় করা। এখন বকেয়া বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।

>> পোশাক খাতের মতো স্বল্প সুদে রেস্তোরাঁ মালিকদের ঋণ সহায়তা দেয়া।

>> সরকার নিম্ন আয়ের মানুষকে যে সহায়তা দিচ্ছে তার আওতায় রেস্তোরাঁ শ্রমিকদেরও সহায়তা দেয়া।

>> বাজেটে করোনা প্রকোপকাল ও প্রভাবকালীন সময়ের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দই-মিষ্টি খাতকে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে প্রায় ৬০ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। যার বেশিরভাগ এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন খন্দকারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব ইমরান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সৈয়দ হাসান নুর ইসলাম প্রমুখ।