Thu. Jul 9th, 2020

সিলেটে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্রাহকদের কাছে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটসহ সারা দেশে করোনাকালে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে দেওয়ার সরকারি সুযোগ ঘোষণার কারণে সবাই মোটামুটি জুন মাসেই বিল পরিশোধের জন্য গিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের মানুষ। ভুতুড়ে এই বিল নিয়ে সিলেটসহ পুরো দেশেই আলোচনা শুরু হয়।

যার পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে একটি শুনানির পর কারো কাছ থেকে এক ইউনিটও বেশি বিদ্যুতের বিল নিবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভুতুড়ে বিদ্যুত বিলের জন্য দোষীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এ মর্মে সিলেটে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার (২৯ জুন) ক্ষুদেবার্তাও প্রেরণ করা হয়েছে।

করোনাকালের বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের কারণে সীমাহীন ভোগান্তিতে সিলেটের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষজন। অনেকের অভিযোগ- গত মে মাসে স্বাভাবিকের চাইতে চার থেকে ১০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল এসেছে তাদের । কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এই বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এমন অবস্থায় উদ্বেগের মধ্যে আছেন সাধারণ ভোক্তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন এই বার্তায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া বিদ্যুৎ বিল দেয়ার সুবিধা দেয়া হয়। সে হিসেবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় জুন মাসের মধ্যে সব বকেয়া বিল পরিশোধের। কিন্তু তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে করায় সেইসঙ্গে মে মাসের বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি দেখানোয় সীমাহীন ভোগান্তিতে পয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি পয়লা মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম ৫-১০ ভাগ বাড়িয়ে নতুন দাম কার্যকর করায় এবং বছর শেষে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আদায়ের চাপ থাকায়ে এতো অস্বাভাবিক বিল এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন সংকটময় সময়ে তিন মাসের বিল একসঙ্গে করে ভোক্তাদের এমন ভোগান্তির মুখে ফেলাকে বেআইনি বলে দাবি করছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, দেশজুড়ে ভুতুড়ে বিল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার তোপের মুখে অনলাইনে গতকাল রবিবার (২৮ জুন) একটি শুনানির আয়োজন করে ডিপিডিসি (ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি)। শুনানিতে বলা হয়, যাদের অতিরিক্ত বিল এসেছে তাদের বিল ঠিক করে দেওয়া হবে। কোনোভাবেই এক ইউনিট বেশি বিদ্যুতের টাকাও রাখা হবে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত বিলের জন্য দায়ীদের ৩০ তারিখের মধ্যে খুঁজে বের করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেটেও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের জন্য দোষীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এ মর্মে সিলেটে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে গতকাল ও আজ ক্ষুদেবার্তাও প্রেরণ করা হয়েছে। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পক্ষে ক্ষুদেবার্তাটি প্রেরণ করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান।

ক্ষুদেবার্তায় বলা হয়- সম্মানিত গ্রাহক, করোনার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে ঘরে ঘরে গিয়ে মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রকৃত রিডিং গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় গড় বিল করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিলি করার অভিযোগ রয়েছে যা আমলে নিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে সমন্বয়রে নির্দেশ দিয়েছি এবং এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ৩০ জুনের মধ্যে বিলম্ব মাশুল ব্যতিত প্রকৃত বিল প্রদানরে জন্য অনুরোধ করছি। চেয়ারম্যান, আরইবি। পক্ষে- সিলেট পবিস-১।