Wed. Sep 23rd, 2020

৩৪ বছর আগে সিলেট’র রাজপথের সেই সাংবাদিকরা এখন কে কোথায়?

বাবর হোসেন :: আজ থেকে ৩৪ বছর আগে ১৯৮৬ সালে সামরিক শাসন ও সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সিলেট শহরে সামরিক জান্তা বিরোধী সাংবাদিকরা মিছিলটি বের করেছিলেন।সে সময়েও সামরিক সরকারের চামচাগিরী করতেন যারা, তারা সেই মিছিলে অংশ নিতে সক্ষম হন’নি। তখন সামরিক জান্তার আতংক ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক বি বি সি,র ঢাকা সংবাদ দাতা আতাউস সামাদ। তাঁকে কোনো মামলা ছাড়াই আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী সিনিয়র সাংবাদিক তৎকালীন জাতীয় দৈনিক বাংলার বানীর সিলেট প্রতিনিধি কবি মহিউদ্দিন শীরু, দৈনিক সংবাদের সিলেট প্রতিনিধি আল-আজাদ, ভোরের কাগজের সিলেট প্রতিনিধি ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, এই তিন জনের নেতৃত্বে মিছিলটি সুবিদবাজারস্থ সিলেট প্রেসক্লাব প্রাঙ্গন থেকে বের হয়ে রিকাবীবাজার পৌছানোর আগেই-সামরিক জান্তার লেলিয়ে দেয়া বাহিনী মিছিলটিকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিলো।

এর আগেই উক্ত মিছিলের ছবিটি নিজের ক্যামেরায় ধারন করেছিলেন বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা।তিনি সম্ভবত তখন দৈনিক খবরে কাজ করতেন। সেই মিছিলে অংশ নেয়া দুজন আজ আর আমাদের মাঝে নেই।সেই দুজন হচ্ছেন শ্রদ্ধেয় মহিউদ্দিন শীরু এবং কুমার গনেশ পাল। মাথায় টুপি পরিহিত ও হাত উপরে উঠিয়ে শ্লোগান ধরেছিলেন ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন,বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক তিনি।

তাঁর ডানে আমি বাবর হোসেন হাত উপরে উঠিয়ে শ্লোগান ধরেছি, আমার ডানে রয়েছেন আরেক সিনিয়র সাংবাদিক বর্তমানে জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজের সিটি এডিটর ইখতিয়ার উদ্দিন, তিনি এখন ঢাকার বাসিন্দা। ইখতিয়ার উদ্দিনের আরো কিছু পরিচয় রয়েছে, তিনি একসময় ছাত্র ইউনিয়নের সিলেট জেলার সভাপতি ছিলেন,এক সময়ের নোটারী পাবলিক ও বর্তমানে সিলেটের জিপি এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদের ছোট ভাই তিনি, এছাড়াও তিনি বিয়ে করেছেন সাংবাদিক আল –আজাদ ভাইর ছোট বোন এফ-আই ভি-ডি-ভি,র কর্মকর্তা লাভলী ইয়াছমিন জেবাকে। আমি এবং ইব্রাহিম চৌধুরী খোকনের মধ্যবর্তী পেছনে রয়েছেন সাংবাদিক জেড এম শামসুল, তিনি কমরেড ,বর্তমানে দৈনিক কাজির বাজার পত্রিকায় কাজ করেন, ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন ও মহিউদ্দিন শীরু ভাই,র মধ্যবর্তী পেছনে রয়েছেন মোস্তাফিজ শফি, যিনি বর্তমানে ঢাকায় জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়ীত্ব পালন করছেন।শীরু ভাই,র বামে রয়েছেন চশমা পরিহিত সিনিয়র সাংবাদিক আল আজাদ ভাই,তাঁর পেছনে মাথায় ঝাকঁড়া চুল ওয়ালা একজনকে দেখা যাচ্ছে।তিনি হচ্ছেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক বর্তমানে দৈনিক সিলেট মিরর পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ নুর। যাকে ওয়ান ইলেভেনর সময় র্যাকব-৯ এর দপ্তরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিলো মিথ্যা অভিযোগের অজুহাতে ।

সিলেটের তথাকথিত সাংবাদিক নেতারা আজো সেই ঘটনার কোনো প্রতিদানমুলক ব্যবস্থা নিতে না পেরে ব্যর্থতার গ্লানী বয়ে বেড়াচ্ছেন । এক সময় আহমেদ নুর এবং ইখতিয়ার উদ্দিনের মাথায় বেশ লম্বা চুল ছিলো। এখন আর নেই, বুদ্ধিজীবি হওয়ার সাথে সাথে দুজনেরই চুল কমে গেছে হয়তো। এ দুজনের বন্ধুত্ব ছিলো বেশ মজবুদ। ৩৪বছর আগে ঢাকায় একজন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হলে সিলেটের রাজপথে সামরিক আইনের তোয়াক্কা না করেই মিছিল বের করা গেছে। বর্তমানে সিলেটের মাটিতে কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হলে রাজপথে মিছিল বেরকরতে হলে ঠিকাদার ও দোকানদার মার্কা সাংবাদিকদের নতজানু ও সরকারি দল এবং প্রশাসনের তেল মালিশ কারীদের নানা ধরনের ফন্ধি-ফিকির সহ মুলধারা/অমুলধারা , সেইসাথে লেজুড়বৃত্তি মুলক কর্ম তৎপরতার কাছে হার মানতে হয় অনেক সময়। ঠিকাদার ইজারাদার আর দোকান দারদের কাছে আজ সাংবাদিকতার অনেক কিছুই জিম্মি হয়ে আছে। তাইতো আজও জানতে পারলাম না জেলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারীকে হুমকিদাতা ল কলেজের সেই ছাত্রলীগের নেতা কেমন আছেন এবং তিনি কোন প্রকৃত কারনে সাংবাদিক নেতাকে হুমকি দিয়েছিলেন?