Fri. Sep 18th, 2020

লন্ডনের বিশেষ ফ্লাইটের টিকেটে দুর্নীতির প্রতিবাদে আটাব সিলেটের সভা

সিলেট :: লন্ডনের বিশেষ ফ্লাইটের টিকেটে দুর্নীতি প্রতিবাদে এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত ।

শনিবার দুপুরে আটাব সিলেট অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান মুতাহির হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী গিয়াস উদ্দিন আমজাদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন হাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, হাব বাংলাদেশে যুগ্ন মহাসচিব ও সিলেটের সেক্রেটারী জহিরুল কবির চৌধরী শিরু, শামসুল আলম, মো: গিয়াস উদ্দিন,মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,আবুল কাশেম, আবুল বশর ফয়জুল,শাহাব উদ্দিন মোহন মিয়া প্রমুখ ।

সভায় জানানো হয় করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে আটকা পড়েছেন হাজারো যুক্তরাজ্য প্রবাসী। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তারা এতোদিন ফিরতে পারেননি যুক্তরাজ্যে। গত ২১ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট চালু হওয়ার পর প্রবাসীরা ফিরে যেতে ভিড় করছেন বিমান অফিস ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে। কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় কাঙ্খিত সময়ে ফিরে যাওয়া নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। রিটার্ন টিকেটে আসা যাত্রীরা টিকেট কনফার্ম করতে গেলে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে নভেম্বরের সিডিউল। এদিকে, যুক্তরাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল খুলে যাওয়ায় অনেকে সময়মতো ফিরে যাওয়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

এমতাবস্থায় এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশ (আটাব) এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের লর নেতারা সিলেটে আটকাপড়া প্রবাসীদের জন্য বিমানের বিশেষ ফ্লাইটের দাবি জানান। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ ফ্লাইট দেয়া হলেও টিকেট নিয়ে উঠেছে ‘স্পেশাল’ দুর্নীতির অভিযোগ। বিমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকেট বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের আটাব নেতারা।

জানা গেছে, গত ২১ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে সপ্তাহে একটি করে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ফ্লাইটে পরিবহন করা হচ্ছে অর্ধেক যাত্রী। ফ্লাইটের সংখ্যা কম হওয়ায় রিটার্ন টিকেটের যাত্রীদেরকে সিডিউল দেয়া হচ্ছে তিন-চার মাস পরের। আর নতুন টিকেট কেটে যুক্তরাজ্য যাওয়া যেন রীতিমতো দু:স্বপ্ন। এই অবস্থায় গত ২৯ জুন আটাব সিলেট অঞ্চলের পক্ষ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট জেলা ম্যানেজারের কাছে বিশেষ ফ্লাইটসহ সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে ১৩ জুলাই ঢাকা-লন্ডন রুটে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশেষ এই ফ্লাইটের টিকেটের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সভায় আটাব সিলেট অঞ্চলের সভাপতি মোতাহার হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষ ফ্লাইট বরাদ্দ দেয়া হলেও বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার টিকেট বিক্রিতে অনিয়মের আশ্রয় নেন। তার যোগসাজশে সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায় টিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিমান অফিস থেকে বিক্রি করা হয় টিকেট। এতে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন।

আটাব নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইমেইল করে ট্রাভেলস এজেন্টদের জানানো হয় পরদিন শুক্রবার বেলা ২টায় অনলাইনে ‘বিশেষ’ ফ্লাইটের টিকেট ওপেন করা হবে। কিন্তু সিস্টেম ওপেনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখা যায় সকল সিট বুকিং হয়ে গেছে। আটাব নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, অনিয়ম রোধে তারা বিশেষ ফ্লাইটের টিকেট বুকিং কনফার্মের জন্য ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তা না করে সময় দেন ১২ ঘন্টা। এতে ‘ফেইক বুকিং’ দিয়ে আসন ধরে রাখার সুযোগ পায় অসাধু চক্র। আর এ সুযোগ করে দেন বিমান সিলেটের ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ। ওই চক্রটিকে সুযোগ করে দিতেই বৃহস্পতিবার রাতে অফিস বন্ধের পর মেইল পাঠানো ও পরদিন শুক্রবার টিকেট বুকিংয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়।

আটাব সিলেটের সভাপতি বাবুল আরও জানান, রিটার্ন টিকেটধারী যেসব যাত্রীদের অক্টোবর-নভেম্বরে সিডিউল দেয়া হয়েছিল, সেসব যাত্রীদের অনেককে ফোনে বিমান অফিসে ডেকে নিয়ে ওই স্পেশাল ফ্লাইটের টিকেট দেয়া হচ্ছে। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সভায় আরো জানানো হয় অতিসত্তর বিমানের এই টিকেটে দুর্নীতি বন্ধ করা না হলে আটাবের পক্ষ থেকে বিহত্তর কর্মসুচি দেওয়া হবে ।