Wed. Oct 28th, 2020

করোনাকালে বিয়ানীবাজারে দুই মাসে ৫ খুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারির মধ্যে বিয়ানীবাজারে বেড়েছে সামাজিক ও পারিবারিক সহিংসতা। ঘটছে খুনোখুনির মতো ঘটনা। তুচ্ছ বিষয় ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গত ২ মাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় স্বজনরা মামলা দায়ের করেছেন। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে সচেতন মহলে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ানীবাজার উপজেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলার ক্রমশ অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। করোনার মধ্যে এ উপজেলায় গত ২ মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৫টি। হত্যাকাণ্ডের মধ্যে জমি সংক্রান্ত জেরের মতো ঘটনা তো আছেই। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনার জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

থানায় মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের লামা নিদনপুর গ্রামে চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন হন আব্দুর কাইয়ুম নামে এক তরুণ। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে চাচাতো ভাইদের হামলায় আব্দুল কাইয়ুম আহত হয়। ওইদিন ভোররাতে চিকিসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মামলার ৪ আসামীর একজন জেলা হাজতে এবং অন্যরা এখনো অধরা।

গত ৬ মে ঘরের টিনের চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়া নিয়ে মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহর গ্রামে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আবদুর রউফ নামের এক বৃদ্ধ মারা যান। প্রতিবেশি কয়েছ আহমদের পরিবারের সাথে আবদুর রউফের পরিবারের সংঘর্ষের এই ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় উভয়পক্ষই মামলা দায়ের করেছে।

গত ৭ জুন সকালে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামে আপন চাচীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয় ৩ বছরের বয়সী শিশু সাহেল আহমদ সোহেল। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় চাচী ও তার পরকিয়া প্রেমিক শিশু সায়েলকে খুন করেছে বলে সুরমা বেগম স্বীকার করলেও তার কথিত প্রেমিক নাহিদ গ্রেপ্তারের পর থেকে অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। শিশু খুনের এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে সুরমা বেগমের স্বামী।

গত ১৮ জুন শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগরে পারিবারিক বিরোধে কয়েছ আহমদ নামের এক সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়েছে। ৩ ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারবারিক বিরোধে জের ধরে কয়েছ আহমদ এদিন মধ্যরাতে ভাই-ভাতিজাদের হামলায় ঘরের ভেতর জ্ঞান হারান। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া আলীনগর ইউনিয়নের খাসা এলাকায় গাছের আম পাড়ায় বাধা দেয়ায় প্রতিবেশীদের হামলায় আহত হয় বৃদ্ধ আকদ্দস আলী। পরে স্বজনরা বৃদ্ধ আকদ্দস আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুন হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি) অবনী শংকর কর বলেন, সংঘটিত হওয়া এই ৫ হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই জায়গা-সম্পত্তি ও পারিবারিক কলহ নিয়ে বিরোধের জেরে হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব হত্যা মামলার কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। মামলাগুলোর পলাতক আসামীদেরও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।