Sat. Sep 19th, 2020

কুলাউড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা, আটক ৪

ডেইলি বিডি নিউজঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরে ৫ মাসের এক গর্ভবতী গৃহবধূকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা মামলায় শাশুড়িসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ও এস আই কানাই লাল চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে শশুর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় মাজেদার মা কবিরুন নেছা কুলাউড়া থানায় গৃহবধূর স্বামী-শাশুড়িরসহ শশুর বাড়ির ৮ জনকে আসামি করে শুক্রবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ মাস আগে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের গুপ্তগ্রামের আব্দুর করিমের মেয়ে মাজেদা বেগমের বিয়ে হয় হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের মো. হাছলু মিয়ার মেঝো ছেলে আব্দুল মুকিদের সাথে। বিয়ের পর থেকে নানা কারণে শাশুড়ি, ননদসহ বাড়ির লোকজনেরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো মাজেদাকে। ঘটনার আগের দিন বুধবার রাতেও মাজেদাকে নির্যাতন চালায় শশুরবাড়ির লোকজন।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টার দিকে ঘরের ভিতর মারধর করে গলায় শ্বাসরোধের মাধ্যমে মাজেদাকে হত্যা করে শশুর বাড়ির লোকজন। ওই দিন সকাল ৮টার দিকে মাজেদার মা কবিরুন নেছাকে মোবাইলে ফোন করে তাঁর শাশুড়ি ও ননদ জানায় হৃদরোগে সে (মাজেদা) মারা গেছে। খবর পেয়ে শশুরবাড়িতে মা ও স্বজনরা গিয়ে দেখতে পান মাজেদার গলায় এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পিতার বাড়িতে মাজেদার লাশ দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর শশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।

মাজেদার মা কবিরুন নেছা জানান, কিছুদিন আগে মাজেদা বাবার বাড়িতে এসে শশুর বাড়ির নির্যাতনের কথা জানায়। মাজেদা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

বিষয়টি জানতে মাজেদার স্বামী আব্দুল মুকিদের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কানাই লাল চক্রবর্তী জানান, মামলার ১নং আসামি মৃত মাজেদার শাশুড়ি মোছা. আছিয়া বেগম, ভাসুর আব্দুল জলিল ও মুক্তার আহমদ এবং দেবর জায়েদ আহমদসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।