Sat. Aug 15th, 2020

বিশ্বনাথে পারভীনের অসামাজিক ‘কর্মকাণ্ডে’ গ্রামবাসী ‘অতিষ্ঠ’!

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাদ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগমের (২৬) বিরুদ্ধে ‘মাদক সেবন ও খারাপ কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ এনে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দশদল গ্রাম পঞ্চায়েত ও এলাকাবাসী পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্বারকলিপিতে এলাকার ১২৮ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।

তার (পারভিন) অবৈধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ’ গ্রাম ও এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত এসব অপকর্মের প্রতিকার চেয়েছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) বরাবরে এর অনুলিপিও প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসী ছাদ আলী যুক্তরাজ্যে বসবাস করার সুবাধে তার স্ত্রী পারভীন বেগম দশদল গ্রামে বসবাস করছেন। উক্ত পারভীন বেগম প্রতিনিয়িত মদ-গাঁজা, আফিমসহ নানান ধরনের মাদক সেবন ও খারাপ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় তার বাড়িতে প্রতিনিয়ত খারাপ প্রকৃতির লোকজনের অবাধে চলাফেরা রয়েছে। গ্রামের কেউ পারভীন বেগম ও তার পরিবারকে এসব কার্যকলাপে বাধা-নিষেধ করলে তিনি (পারভীন) লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করেন। অনেক সময় দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদর্শন করে। তিনি (পারভীন) গ্রামের কিশোর-যুবক বয়সের ছেলেদেরকে প্রেমের প্রলোভনে ফেলে তাদেরকে নেশার দিকে ধাবিত করে জীবন নষ্ট করার সাথেও জড়িত রয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তার (পারভীন) বাড়িতে এসে গ্রামের ও শহরের নানান ধরনের লোকজনের নেশা করা এবং খারাপ কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকাসহ পারভীন বেগমের অশ্লীল চলাফেরা ও খারাপ ব্যবহারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এর প্রতিকারের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারের শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রবাসী ছাদ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম কারও কোন কথা মান্য করেননি। বরং আরো খারাপভাবে চলাফেরা করে আসছেন।’

‘নিরূপায় হয়ে’ গ্রাম্য পঞ্চায়েতগণ এর সুষ্ঠু প্রতিকার পেতে সিলেট জেলার পুলিশ সুপারের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন দশদল গ্রাম পঞ্চায়েত ও এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাদ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, সম্প্রতি আমার ও আমার মায়ের উপর হামলা হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করি। মামলায় পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আমার বাড়িতে থাকা মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকিধামকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভয়ে আমি আজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে সিলেট শহরে বসবাস করছি। গ্রাম পঞ্চায়েত বিষয়টি আপোসে শেষ করতে চেয়েছিলেন। আর আমরা বিচার না মানায় গ্রামবাসীসহ মুরব্বীরা স্বাক্ষর দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য উল্লেখ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমি খারাপ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে থানায় আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকতো। কিন্তু তা নেই।