Mon. Apr 12th, 2021

অসাম্প্রদায়িক চেতনার অগ্নিপূলক রাজনগরের ভাইস চেয়ারম্যান আলাল মিয়া’র বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহলের নানা ষড়যন্ত্র

ষ্টাফ রিপোর্টার ঃ রাজনগর উপজেলা পরিষদের জননন্দিত ভাইস চেয়ারম্যান অসাম্প্রদায়িক চেতনার অগ্নিপূলক আলাল মিয়া ওরফে আলাল মোল্লাকে একটি প্রভাবশালী মহলের চত্রছায়ায় থাকা একটি দাঙ্গাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসী চক্র বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার পায়তারা করছে। তার মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার জন্য।

জানা গেছে আলা মোল্লা রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের খেওলা গ্রামের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। সে ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে তিলে তিলে সাধারণ একজন ব্যবসায়ী থেকে তার শ্রম-গামের বিনিময়ে এ জেলার একজন অন্যতম ব্যবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সম হয়েছেন। তিনি রাজনগর কলেজ পয়েন্টের মোল্লা-মৌলভী ইলেকট্রনিক্স এর দোকান ছাড়াও মধুর বাজার রয়েছে মোল্লা-মৌলভী ফার্নিচার, এছাড়া ঢাকা-সিলেট রোডের শেরপুরে রয়েছে তার মোল্লা-মৌলভী ফিসারিসহ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাজনগরের মধুরবাজারে রয়েছে তার বিক্রস ফিল্ডের ব্যবসা। এছাড়াও বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের আক্কল বাজার এলাকায় বেশ কিছু জায়গা কিনে একটি ম্যানশন তৈরী করে দোকান কোটা নির্মাণ করেন সেই বন্ধ বাজারটিকে চালু করতে সর্বসাধারণের সুবিধার্থে। তার গ্রামের বাড়ী পাঁচগাঁও ইউনিয়নের আকল বাজার এলাকায় থাকায় সেই বাজারকে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। তিনি আক্কলর বাজারের অনেক ভিটা বাড়ি খরিদ করেছেন বাজারটিকে নবরূপে দাড় করাতে। সেই বাজারে একটি ধানের অটোমেইল করতেও তিনি কাজ শুরু করেছেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে আজ থেকে ৪০/৪৫ বৎসর পূর্বে আক্কলর বাজার সেই এলাকায় একটি জমজমাট বাজার ছিল, অত্র এলাকার পাঁচগাঁও মুন্সীবাজারের ১০/১২টি গ্রামের মানুষ সেই বাজারে আসতো, বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাদা মনের মানুষ লন্ডন প্রবাসী এক সময়ের সেই এলাকার গর্ব ও অহংকার হাজী আক্কল আলী সাহেব। তিনি রাজনগর উপজেলার একজন জনপ্রিয় সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি রাজনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। তিনি এক সড়ক দূর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান। তিনি মারা যাবার পর তাহার ভাই ভাতিজাদের চাঁদাবাজী, মাস্তানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়, মরে যায় আক্কল হাজীর ঐতিহ্যবাহী বাজারটি। মানুষ আর সেই বাজারে পণ্য নিয়ে, মাছ নিয়ে, ছোট খাটো দোকান বসে না। কিছুদিন পর বাজারটি একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৪০ বৎসর পর বাজারটি আবার চালু করেন রাজনগর উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান আলাল মিয়ার নেতৃত্বে এলাকাবাসী। তিনি বিশাল একটি মার্কেট তৈরী করে দোকান কোটা বানিয়ে ব্যবসায়ীদের হাতে তোলে দেন। এলাকার কয়েক গ্রামের মানুষকে ডেকে বাজারটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি অনুরোধ করেন। এলাকাবাসীর ডাকে বাজার আবার ঘুরে দাড়ায়। বাজারটি সাপ্তাহিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কয়মাসে বাজারটি আবার ঘুরে দাড়িয়েছিল, এমনি সময়ে এক সময়ের সম্মানী ব্যক্তি আক্কল হাজীর কু-বংশধরদের কু-নজর পড়েছে আলাল মোল্লার ম্যানশনের দিকে, বাজারের কর্মকাণ্ডের দিকে মরহুম আক্কল হাজির ভাই সাবেক পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির মিয়ার ছেলে অত্র ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা সুন্দর মিয়া, তাহার চাচাতো ভাই মরহুম বাদশা মিয়া মেম্বারের ছেলে ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা আব্দুর রব ও তার ভাই বর্তমান মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিভিন্নভাবে পায়তারা করছে আলাল মিয়াকে কিভাবে নাজেহাল করা যায়। কিভাবে তাহার ম্যানশনসহ আক্কলের বাজারের তার বিশাল সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া যায়। তাই তারা নানা অজুহাত তৈরী করছে তাকে বাজার থেকে তাড়ানোর জন্য।
খবর নিয়ে জানা যায় সুন্দর মিয়া ও মজনু মিয়ার নিকট আলাল মিয়া কিছু জায়গা বিক্রি করেছিল, জায়গা বিক্রির ৪ ল টাকা তাদের কাছে পাওনা, সেই পাওনা টাকা খুঁজতে গেলে সে টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে তাকে টাকা না দিতে বিভিন্ন চলচাতুরী করছে, সেই টাকা চাইতে গেলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় সুন্দর মিয়া ও তার ভাই আব্দুর রব।

৫ জুলাই সে টাকা খুঁজতেই সুন্দর মিয়ার নিকট গেলে তাকে টাকা না দিয়ে এ বাজারের ম্যানশনসহ ভিটা ছেড়ে চলে না গেলে রব মিয়া, সুন্দর মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এতে আলাল মিয়া তাদের হুমকির প্রতিবাদ করলে তারা তাকে যা নয় তা বকাবকি, গালিগালাজ করে তাকে প্রাণে মারতে এগিয়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে আলাল মিয়া বাজারের কয়েকজন মানুষের সহযোগীতায় পালিয়ে আসতে সম হয়। স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব আক্কল হাজীর ভাই ভাতিজার কাছে অত্র এলাকার ৪/৫টি গ্রামের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

দীর্ঘ ৪০/৪৫ বৎসর পূর্বে থেকে অত্র এলাকায় তারা রাজ-রাজত্ব কায়েম করেছে, এই বাজারের পাশে শীতলপাটি নামে খ্যাত ধুলিজুড়া গ্রামের দাস সম্প্রদায়ের হিন্দুরা বসবাস করছে। তাদের অত্যাচারে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধেকেরও বেশি লোক গ্রাম ছেড়ে, গ্রামের বাড়ী ঘর, জমি-জমা ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। যারা আছে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের অত্যাচারের মাত্রা বিন্দুমাত্রও কমেনি, আরো বেড়েছে। অনেক বাড়ী তারা দখলে নিয়েছে, আক্কল বাজারের পাশ দিয়েও ধুলিজুড়া গ্রামের দু’পাশে বিরাট গোচারণ ভূমি (গোপাট) হাওর কাউয়াদিঘীতে নেমেছে, গোপাটে কয়েক হাজার একর গোচারণ ভূমি তারা দখল করে নিয়েছে। এমনকি গেল সেটেলমেন্টের সময় সামান্য রেখে গোটা গোচারন ভূমি তারা রেকর্ড করে নিয়েছে। আলাল মিয়া উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আক্কল বাজারকে প্রতিষ্ঠা করতে তাদের এহেন আচরণ এর প্রতিবাদ করায়ই তারা েেপ গিয়ে তাকে বাজার ছাড়ার পায়তারা করছে। তারা তাদের বিভিন্ন ফেইসবুক আইডিতে ও দুয়েকটি ভূয়া অনলাইন সংবাদ প্রকাশ করেছে তাকে গালমন্দ করছে ঘটনার দিন রাত আড়াইটায় নাকি আলাল মিয়া মানুষ নিয়ে এসে সুন্দর মিয়ার পাকা দালান কোটা ভেঙে দিয়েছেন বলে বদনাম করছে। এমনকি এ নিয়ে থানায় একটি মিথ্যা মামলা করে আলাল মিয়া’র মান-সম্মানহানী করার পায়তারা করছে।

খবর নিয়ে জানাগেছে সুন্দর মিয়া বাজারে এক পাকা ঘরের কাজ করছে, কয়েক ফুট গাঁথুনী নিজেরা ভেঙে আলাল মোল্লার উপর মামলা করতে চেষ্টা করছেন। জানা গেছে আব্দুর রবের বাপ-চাচার আমল থেকেই তাহার বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন এ এলাকায় করে আসছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমাও তাদের উপর রয়েছে। সাবেক মেম্বার সুন্দর মিয়া পিতা পাঁচগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মনির মিয়া একজন তালিকাভূক্ত রাজাকার রাজনগর উপজেলার। তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে পাঁচগাঁও এলাকার অনেক হিন্দুর প্রোপ্রাটি জবর দখল করেছেন। এটা নতুন কিছু নয়, এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়, এ নিয়ে তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে।