Fri. Aug 7th, 2020

ইউরোপের জন্য বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যের দুয়ার, ছাত্র ও দক্ষকর্মীদের জন্য আছে সুখবর

ডেইলি বিডি নিউজঃ ব্রেক্সিট পরবর্তী নীতি কি হবে ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটেল। শুরু হচ্ছে নতুন পয়েন্ট ভিত্তিক অভিবাসন নীতি। ইউরোপের জন্যও বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যের দুয়ার। অবাধ যাতায়াত ও কাজের সুযোগ সীমিত করে দিয়ে সবার জন্য একই নিয়ম চালু হচ্ছে। নতুন নিয়মে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে একজন কর্মীকে কম পক্ষে ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। সেই ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ও নাগরিকদেরও ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে হবে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নতুন এই অভিবাসন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। ২০২১ সাল থেকে চালু হতে যাওয়া এ নিয়ম ইইউ এবং ইইউ বহির্ভূত সব দেশের নাগরিকদের জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম ইইউ বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের জন্য বরং কিছুটা শিথিল।

তবে নতুন আইনে, বিদেশী অপরাধীরা যারা ১২ মাস কারাগারে ছিলো এবং যাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা রয়েছে তাদেরকে ব্রিটেনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। একই সাথে ব্রিটেনে যদি কোন অভিবাসী ১ বছরের বেশি দণ্ডিত হন, তাকেও নতুন অভিবাসন বিধি মোতাবেক দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পয়েন্ট ভিত্তিক নিয়মে অনুমোদিত চাকুরি দাতা স্পন্সর কাজের অফার দিলে ৫০ পয়েন্ট অর্জন করা যাবে। আর বাকী ২০ পয়েন্ট অর্জন করা যাবে যদি চাকুরিপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার বা তথ্য প্রযুক্তি মতো কাজের অভিজ্ঞতা থাকে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রযুক্তি, প্রকৌশলী, গনিতবিদদের ক্ষেত্রেও নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে ২০ পয়েন্ট অর্জনের পাশাপাশি বার্ষিক বেতন ২৫৬০০ পাউন্ড হতে হবে। ইংরেজী জানা ও না জানা কর্মীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন কম বা বেশি হওয়ার পাশাপাশি পয়েন্ট ও কম বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বেশির ভাগ কর্মীকেই সর্বনিম্ন বছরে ২৩,০৪০ পাউন্ড বেতন হতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতা সম্পন্ন ল্যাব টেকনিশিয়ানদের বছরে ২০,৪৮০ পাউন্ড বেতন হলেও চলবে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশুনা করতে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশুনা শেষে দুই বছর অতিরিক্ত (পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক) যুক্তরাজ্যে অবস্থান এবং কাজের সুযোগ পাবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেছেন, ইউরোপ থেকে বের হয়ে আসার জন্যই জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। যাতে করে বোর্ডার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এখন আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে চলে এসেছি, আমরা এই দেশের পূর্ণ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলি কার্যকর করতে নতুন নিয়ম চালু করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। ব্রিটেন ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত, সেরা এবং উজ্জ্বল বিশ্ব প্রতিভা স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাজ্যের মধ্যে থেকে কর্মীদের নিয়োগদানে নিয়োগকারীদের উৎসাহ দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, নতুন অভিবাসন ব্যবস্থা ‘বিশ্বের সেরা এবং প্রতিভাবানদের কাছে আকর্ষনীয় হবে’। তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, কেয়ার ওয়ারকারদের এই ব্যবস্থায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। ফাস্ট ট্র্যাক হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসার সুযোগ থাকবে এনএইচএস এর নিয়ম মেনে। তবে স্যোশাল কেয়ার স্টাফ এই সুযোগ পাবে না। দক্ষ কর্মীরা তাদের পরিবারকে নিয়ে আসার সুযোগ থাকবে। এতে ব্রিটেনের ভেতর থেকেই কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির উপর উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে ভালো কর্মী আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করেছেন হোম সেক্রেটারি।

আর প্রধানমন্ত্রী বরিস ইজনসন বলেছেন, যোগ্যতা থাকলে বাঁধাহীনভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে পারবে।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিক থমাস-সাইমন্ডস বলেছেন, স্বাস্থ্য ভিসা থেকে কেয়ারওয়াকারদেকে বাদ দেওয়া, এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, যারা দক্ষতার এবং আন্তরিকতার সাথে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে তাদের টরি সরকার মূল্যায়ন করছে না। এটি তাদের জন্য অপমানজনক।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সরকার চাচ্ছে যারা এই দেশে বসবাস করছেন, নিয়োগকর্তারা যেন তাদেরকে প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করে।

নতুন এই ঘোষণায় নেই দীর্ঘদিন যাবত ব্রিটেনে বসবাসরত লাখ লাখ কাগজপত্রহীন মানুষের বৈধতার বিষয়টি। এতে হতাশ মানবাধিকার কর্মীসহ, মানবেতর জীবন যাপন করা লাখ লাখ মানুষ। ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধদের কোন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে নাই। ব্রেক্সিট পরবর্তী, বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, এইসব কাগজপত্রবিহীন মানুষ সাধারণ ক্ষমার আশায় দিন গুনছিলো।

সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ