Sun. Aug 9th, 2020

সিলেটের আকাশে উদিত নতুন এক সূর্যের নাম এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন

ডেইলি বিডি নিউজঃ বিশ্বের মানচিত্রে সকল অপরাধীদের সনাক্তকরণ, পাকড়াও করার প্রকৃত শক্তির একমাত্র উৎস হলো-পুলিশ বাহিনী। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে যদি পুলিশ বাহিনী নিয়োজিত না থাকতো তাহলে আইনশৃঙ্খলা কখনো নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত না। সারা বিশ্বে আদালতের প্রচলিত আইন সর্বদা হাতকড়া পড়ে নিরবে ডুকরে কাঁদে, যদি পুলিশ বাহিনী আদালতের ওই আইনকে বাস্তবে রূপ না দেয়।

বিশ্বের সর্বাদালত আইনকে জারি করে থাকে বটে। কিন্তু আদালতের আইন জারির আদেশ কার্যকর করে থাকে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বাহিনী দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের জারিকৃত আইনকে বাস্তবে প্রয়োগ করার দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকে। এই কারনে যে দেশের পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম যত উন্নত, সে দেশও তত উন্নত।

সর্বোপরী যা না বললেই নয়,যে দেশের জনগণ পুলিশ বাহিনীর প্রতি যত বেশি শ্রদ্ধাশীল, সে দেশের জননিরাপত্তাও তত সুন্দর ও শান্ত। এছাড়া যে দেশের সরকার পুলিশ বাহিনীর ন্যুনতম বেঁচে থাকার মতো জীবনযাত্রার মর্যাদা দিতে পারে না, সে দেশের পুলিশ বাহিনী ঘুষ, দুর্নীতির সাথে ততো বেশি জড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতির চেয়ে দেশের মন্ত্রী এমপিরা বেশী দুর্নীতিবাজ বলে সমাজে চিহ্নিত হয়ে পড়েন। যার জলন্ত প্রমাণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র তারেক রহমান। যার ঘুষ কেলেঙ্কারী নিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে দেশে।

এক সময় মানুষের মাঝে পুলিশকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছিল। সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও এখন আর সেটা নেই। সিলেটের মানুষ এখন শ্রদ্ধাভরে পুলিশ প্রশাসনকে স্মরণ করে। এর পেছনে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

২৪ জুন, ২০১৯ শুক্রবার। সিলেটের আকাশে উদিত হয় নতুন এক সূর্য। রাতের গভীর অন্ধকারকে ভেদ করে পুরো সিলেটকে আলোকিত করে দেয় একটি সূর্য। তিনি হলেন, এসপি ফরিদ উদ্দিন। তৎকালীন এসপি মো. মনিরুজ্জামানকে বদলী করে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে ওই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

প্রথম দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেই এসপি ফরিদ উদ্দিন বলেছিলেন- জীবনে বাঁচতে হলে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অবৈধভাবে আমি একটি টাকাও উপার্জন করতে চাই না। একজন পুলিশ অফিসারের মুখে এমন কথা শুনে সবার মনে আশার আলো জ্বলে উঠে। যেমন কথা, তেমন কাজ। মাত্র এক বছরে তিনি সিলেটবাসীর মন জয় করেছেন। অপরাধীদের কাছে আতঙ্ক আর অসহায় মানুষের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন।

সিলেটে যোগদান করার পর থেকে তার কঠোরতায় জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। আগের মত চুরি-ডাকাতির ঘটনাও নেই। অপরাধ দমনে তিনি কঠোর হলেও অসহায় মানুষের কাছে তিনি বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল।

করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এই সময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। বেকার হওয়া দিনমজুর, ভ্যানচালক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এসপির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

গত ১২ এপ্রিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে তখন সিলেট জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। অনেক পরিবার হঠাৎ অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়ে। ওই দিনই ফেসবুকে একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় সিলেট জেলা পুলিশ। এরপর থেকে ফোন পেলেই সংশ্লিষ্ট পরিবারে খাবার ও ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে আসছেন তারা। এক মাসে ফোন কলের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী, মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি।

মুঠোফোন কল পেয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সমন্বয় করছেন সিলেট জেলার ১১টি থানা এলাকায় কর্মরত অসংখ্য পুলিশ সদস্য। এক উদ্যোগে পুলিশ যেন ‘ত্রাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

করোনার শুরু থেকে স্প্রে মেশিন দিয়ে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ সময় পথচারীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করা হয়। পাশাপাশি করোনাভাইরাস হতে সুস্থ থাকার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনার লিফলেট বিতরণ করে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আমরা সিলেট জেলার প্রতিটি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র এবং সড়কে পথচারীদের মাঝে সচেতনতা ও সুরক্ষামূলক উপকরণ বিতরণ করেছি। এ সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পথচারীদের হাত ধুয়ে হাত ধুয়ায় উৎসাহ দেওয়া হয়।

করোনা প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের সুনির্দেশনায় এখনো থানা ছেড়ে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনীর সুপারহীরোরা হাঁটে বাজারে গ্রামে গঞ্জে দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সিলেট আসার পর থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনী। সিলেটবাসী নতুনরুপে দেখছে সিলেট জেলা পুলিশকে যা আগে কখনো সিলেটবাসি দেখেনি। তেমনি ভাবে সিলেট জেলা পুলিশবাহিনী করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে সিলেট বিভাগের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর সু-র্নিদেশনায় সিলেট জেলা পুলিশ সিলেটবাসিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তারাই বাংলার র্সূয সন্তান। চোখে না দেখা এমন এক মরনব্যাধির যুদ্ধে সবাই যখন ঘরে পুলিশ তখন আমাদের জন্য দিন রাত বাহিরে। নিজেদের জীবনের তুয়াক্কা না করে তারা নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন আমাদের তরে। ভাবেননি তাদের পরিবার পরিজনের কথা।

এসপি ফরিদ উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। র্বতমানে অনেক পুলিশ সদস্য এসপি ফরিদ উদ্দিনকে তাদের আইডল মনে করে কাজ করে যাচ্ছেন।

এসপি ফরিদ উদ্দিনের সুনির্দেশনায় ক্লান্তিহীন ছুটে চলা সিলেট জেলা পুলিশ দিন রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। কিন্তু ছুটি নেই পুলিশের । দিন রাত কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন উপজেলায় উপজেলায় গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বহন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে থানায় থানায় নিজে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত আছে থাকবে। অতীতে এমন মানবিক পুলিশকে দেখেননি সিলেটের মানুষ। এ যেন আর্শিবাদ সিলেটের মানুষের জন্য। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা জনগনের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পুলিশ মানুষের কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করার সুবাধে মানুষের খাদ্য সামগ্রীর কষ্টের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে। মূলত এই ধারণা থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সিলেট জেলা পুলিশ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সাধ্যমত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশবাহিনীরা শুধুআইনশৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত নয় তারা এই মহামারী করোনাকালীন সময়ে লাশ দাফন করা থেকে শুরু করে, রোগী টানা পর্যন্ত; সবকিছুই তারা করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে সিলেট জেলা পুলিশের ক্লান্তিহীন কর্মকান্ডে সবাই একবাক্যে একমত যে বর্তমান সংকটে সবচেয়ে কাছে পেয়েছে সিলেট জেলা পুলিশকে।

এই সংকটে কত পুলিশ অফিসার ঘরে ফিরতে পারছেন না শুধু আমাদের ভালবেসে। সারা দিনের কাজ শেষে রাতে ত্রাণ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান। সেখান থেকে যখন বাসায় যাবেন তখন মনে চিন্তা আসে, আমি কি পরিবারের জন্য জীবাণু বহন করে নিয়ে যাচ্ছি?

তবে বর্তমানে আমরা এক অন্য পুলিশ দেখছি। এই পুলিশ থাকুক আমাদের পাশে সবসময়। যদিও এসপি ফরিদ উদ্দিন কথা দিয়েছেন শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে লড়াই করে যাবে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট জেলা কে পরিবর্তন করে সুন্দর একটি জেলা উপহার দিবেন ইতি মধ্যে আমরা এর প্রমাণও আমরা ইতিমধ্যে পাচ্ছি কথা ও কাজে মিল রেখেই ছুটে চলছন নিরলস ভাব।

পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাসিমুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছেন সিলেট জেলার পুলিশ সদস্যরা। সরাসরি মাঠ পর্যায়ে করোনার বিস্তার রোধে কাজ করেছেন পুলিশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্তও হয়েছেন।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের জানাজা, আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে নিয়ে চিকিৎসালয়ে প্রেরণসহ দেশের এই সংকটে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে সিলেট জেলা পুলিশ।

এছাড়াও হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ধর্ষক, ডাকাত সহ সকল প্রকার অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে কাজ করে যাচ্ছে জেলা পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার নির্দেশিত জিরো ট্রলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

আরেকটি উদাহরণ রেখেছেন এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন গত ১১ জুলাই মেয়ের জন্মদিনে কেক না কেটে ছিন্নমূল শিশু ও ভবঘুরে অসহায় মানুষের জন্য খাবার ও ফলমূল নিয়ে আসেন পুলিশ সুপার। সাথে ছিলেন ৩ কন্যা সন্তানসহ স্ত্রী মাহফুজা শারমিন। ওই দিন নিজের বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসে সেই খাবার শিশু ও ভবঘুরে মানুষের মুখে তুলে দেন এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

বিগত দিনের তুলনায় সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যা অন্য কোন পুলিশ সুপারের আমলে হয়নি। সত্যি বলতে এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম পুলিশ বিভাগের নিষ্ঠাবান অফিসার। সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন প্রত্যেক থানায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের পেছনে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। সত্যিকার অর্থে সাফল্যের বরপুত্র পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। সিলেটবাসীর বিশ্বাস তিনি তাঁর কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো অধিক প্রশংসিত হবেন দেশবাসী ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে।