Fri. Aug 14th, 2020

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এএসআই হাসনাতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এএসআই (নিঃ) আবুল হাসনাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার চাদাবাজী ও শ্লীলতাহানির বিষয়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএমের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী আমরতি রবি দাস(৩৬)।
শনিবার(১৮ জুলাই) পুলিশ সুপার বরাবরে এই অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এএসআই আবু হাসনাত চৌধুরী (নিঃ), এএসআই উত্তম কুমার কৈরী (নিঃ), এএসআই রতন দেবনাথ(নিঃ), কনস্টেবল আজিজুর রহমান এবং থানার সোর্স আলী আশকর ও আলীম উদ্দিন অত্যান্ত উগ্র, চাদাবাজ ও ক্ষমতা অপব্যবহারকারী লোক। এর মধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এএসআই আবুল হাসনাত চৌধুরীর নির্যাতনে লোকজন অতিষ্ঠ। তিনি সব সময় দালালদের মাধ্যমে এলাকার লোকদের জেলের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। আর টাকা না দিতে চাইলে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। বিগত একমাস যাবৎ তিনি অভিযোগকারী পরিবারের নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন, টাকা না দেয়ায় তাদের শাসিয়ে যায় তার দালালরা। বন্যায় পানি ঘরে ডুকায় তারা বন্যা মোকাবেলায় লিপ্ত ছিল। ঠিক তখনি ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে এএসআই আবুল হাসনাত তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এবং অভিযোগকারীর স্বামীকে স্টিলের ছিপ দিয়ে মারধর শুরু করেন। এসময় একজন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এগিয়ে আসলে এএসআই আবুল হাসনাত তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এবং পরপর কয়েকটি লাথি মারেন৷ এমনকি তিনি তার পড়নের কাপরে ও চুলের মুটিতে ধরে টানা হেছড়া করে শ্লীলতাহানি করেন৷ যার দরুন তার শরীর খারাপ ও গর্ভের সন্তানের প্রাণনাশের আশংকায় তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এএসআই আবুল হাসনাতের সাথে থাকা দুই দালাল ঘরে ডুকে সুকেচে থাকা ৩০ হাজার টাকা ও তার এনড্রয়েড ফোন চিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাদের বাড়িতে থাকা চালের ড্রাম খালি করে চাল নিয়ে যাওয়া এবং এই খালি ড্রামগুলোতে বন্যার পানি ও তাদের সাথে থাকা ড্রাম থেকে তরল পদার্থ মিশিয়ে আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারী পুলিশ সুপারের কাছে উপরোক্ত অভিযোগ বিবেচনাধীন অভিযুক্ত ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আমরতি রবি দাস বলেন, আমরা মুচি মানুষ খুব অসহায় জীবন যাপন করছি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এএসআই আবুল হাসনাত চৌধুরী বলেন, পুলিশ মাদক ধরবে মানুষ অভিযোগ করবে এটাই স্বাভাবিক।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম বলেন,আমার কাছে অভিযোগের কপি এসে পৌছায় নি৷ অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।