Wed. Oct 28th, 2020

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সিলেট আজ বৈষম্যের শিকার, আটকে আছে সব উন্নয়ন প্রকল্প

মুহিত চৌধুরী: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহজালালের পুর্ণভূমি সিলেট এবং সিলেটের মানুষকে ভালোবাসতেন। তিনি দেশের অন্যস্থানে জনসভায় ভাইয়েরা আমার’বলে সম্বোধন করলেও সিলেটের জনসভায় বলতেন আমার প্রিয় সিলেটবাসী।

সিলেটের যে কোন দাবী-দাওয়া সাথে সাথে মেনে নিতেন। সিলেটের প্রতি এই মহান নেতার এমন দরদের পিছনে ছিলো প্রধান দু’টি কারণ এক. মহান মুক্তিযুদ্ধে লন্ডন প্রবাসী সিলেটির ভূমিকা। দুই. সিলেট শাহজালালের পুর্ণভূমি।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সুযোগ্য তনয়া, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। অথচ সিলেটের জন্য তাঁরই ঘোষণাকৃত উন্নয়ন প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলে দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে।

আর এতে করে সিলেটজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে অসন্তোষ দানা বেধে উঠেছে। সেই সাথে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিও নষ্ট হবার আশংকা দেখা দিয়েছে।

আটকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো: ১.সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়ক ২. সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডুয়েলগেজ ৩. ওসমানী বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়ক।

সেই সাথে আটকে আছে সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমান চলাচলের সিদ্ধান্তটিও। আর এতে করে লন্ডন প্রবাসী সিলেটিরাও প্রচন্ড ক্ষুব্ধ রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডন প্রবাসী সিলেটিদের খুব বেশি ভালো বাসতেন কোন ধরনের বিলম্ব না করে তাদের দাবী মেনে নিতেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে লন্ডন প্রবাসীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে মুজিবনগর সরকারকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আর এদিকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নয় মাস দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী তাদের পরিবার পরিজন পাক হানাদার বাহিনীর দোসরদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। সারা ইউরোপে সিলেটের প্রবাসীরা মুজিবনগর সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রবাসী কমিউনিটি নেতা রাজনীতিক, সমাজকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা তাসাদ্দুক আহমদ এর নেতৃত্বে লন্ডনে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয় তাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রদান করেন প্রবাসী সিলেটের জনগন। এই মুদ্রা দিয়ে খরিদ করা হয় মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র। স্বাধীন বাংলার প্রথম তহবিলে অর্থ যোগান দেয় সিলেটের প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম বৈদেশিক অর্থের যোগান দাতা ছিল সিলেটের লন্ডন প্রবাসীরা। মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র কিনার পর যে অর্থ অতিরিক্ত ছিল তা তুলে দেওয়া হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। এই অর্থই ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম বৈদেশিক রিজার্ভ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রবাসী নেতা তাসাদ্দুক আহমদের নেতৃত্বে লন্ডনের সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী।

সভার সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদ, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, দেওয়ান ফরিদ গাজী। প্রবাসীরা বঙ্গবন্ধুর নিকট তিনটি দাবী উত্থাপন করেন।

১.বৈদেশিক মুদ্রা সিলেটের ব্যাংকে লেনদেনের সুব্যবস্থা করা

২. সালুটিকর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ব্যবস্থা প্রবর্তন করা

৩. দূতাবাস ও সিলেট লন্ডন বিমান অফিসে সিলেটি কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা একইভাবে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে সিলেটি নাগরীকদের নিয়োগ দেওয়া।

এক আবেগ ঘন পরিবেশে কমিউনিটি নেতা তাসাদ্দুক আহমদের উপস্থাপনায় এ দাবী গুলো
শুনে বঙ্গবন্ধু আবেগজড়িত কন্ঠে বলেছিলেন
সিলেটের প্রবাসী জনগন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজী রেখে যে অবদান রেখেছেন অসহযোগ আন্দোলনে সিলেটের জনগন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ তা চিরদিন স্মরণ রাখবে। সিলেটের জনগনের সংগ্রামী ভূমিকা দেশ কখনো ভুলবে না।

১৫ দিনের মাথায় প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ অর্নার স্কিম,সালুটিকর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ব্যবস্থা,লন্ডন সিলেটে বিমান অফিসে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়লছিল।

অথচ বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সিলেট আজ বৈষম্যের শিকার,একটি মহল আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলে আটকে দিয়েছে সিলেটের সব উন্নয়ন প্রকল্প।

সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডুয়েলগেজ প্রকল্প:
বৃহত্তর সিলেটের মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে সিলেট-ঢাকা রেল পথের উন্নয়নের দাবী জানিয়ে আসছিলো। সংস্কারহীন জরাজীর্ণ এই রেল পথে বার বার দুর্ঘটনায় প্রাণ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় এই রেল লাইনের উন্নয়নের জন্য সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রথম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বরাবর ডিও লেটার দেন। এতে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ছয় লেনে উন্নীত করা ও সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের সংস্কার, উন্নয়ন ও নতুন রেল দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

সর্বশেষ গত ২০১৯ সালের ২৩ জুন রেল যোগাযোগের অবস্থা করুণ জানিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংশ্লিষ্ট এ দুই মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ দিন রাতেই সিলেট রেলপথে ঘটল ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা।

বৃহত্তর সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিবেচনায় সরকার আখাউড়া-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। জানা যায় ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ এবং ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যে কোন সময় কাজ শুরু করার কথা।

অথচ গত ২ জুলাই সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো: আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এনিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনে বিদ্ধমান মিটারগেজ রেল লাইনকে রূপান্তর করে ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে বিদ্ধমান মিটারগেজ রেল লাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

জানা যায়, সভায় আখাউড়া-সিলেট সেকশনে বিদ্ধমান মিটারগেজ রেল লাইনকে রূপান্তর করে ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে ৯টি অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলা হয়। যেমন, ডুয়েলগেজ করার প্রয়োজনীয়তা আছে কি? এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কালে ট্রেন চলাচল কীভাবে সচল রাখা হবে? নতুন করে কীভাবে জমি একোয়ার করা হবে? বিদ্ধমান মিটারগেজ রেল লাইনকে সংস্কার করলে কি হয় না।

প্রকল্পের কাজ শুরু করার সময় এমন প্রশ্ন উত্থাপন করায় সিলেটবাসী মনে করছেন এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে কথা বললে, তিনি দৈনিকসিলেটকে বলেন, এই মুহূর্তে এসব প্রশ্ন অবান্তর। সব কিছু ঠিকটাক হয়ে গেছে এখন কাজ শুরু করার কথা। তিনি বলেন, বৃহত্তর সিলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশের উন্নয়নে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরী।

সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকৃত সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্পটি একটি মহলের অসহযোগিতার কারণে এখনও আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মুখথুবড়ে পড়ে আছে প্রকল্পটি।

চীনের অর্থায়নে জিটুজি ভিত্তিতে এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৭ সালের অক্টোবরে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। কথা ছিল ২০১৮ সালের শুরুতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

হঠাৎ করে মহাসড়ক সচিব নজরুল ইসলাম খান জানালেন তাকে নাকি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী। তাদের একজন প্রতিনিধি দেখা করতে আসেন সচিব নজরুল ইসলাম খানের সাথে । আসার সময় তিনি সৌজন্যতার জন্য চায়নিজ চায়ের একটি প্যাকেট নিয়ে আসেন। সচিব জানান এই প্যাকেটের মধ্যে নাকি বিদেশি মুদ্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ ছিলো। পরে সেই অর্থ ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চীনা দূতাবাস পরে এ ধরণের কোন টাকা পাবার কথা অস্বীকার করে। চায়ের প্যাকেটের কীভাবে ৫০ লাখ টাকার জায়গা হলো এ নিয়েও পরে অনেক প্রশ্ন উঠে।

পরবর্তিতে এই বিষয়টি নিয়ে নানান জন নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। তারা বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেন চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী মহাসড়ক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে ঘুষ প্রদান করতে চাইবে? কেউ কেউ অবশ্য বলেছেন ঘুষ প্রসঙ্গটি ছিলো প্রকল্পের কাজ আটকে দিয়ে নিজের সততা প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা।
কথিত এই ঘুষ সাধার অপরাধে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীকে আর কাজ দেয়া হলো না।
পরবর্তিতে এগিয়ে আসে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে সাক্ষাত করেন এডিবির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ। তারা এই প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে সম্মত হয়। বর্তমানে এটিও আমলাতন্ত্রিক জটিলতার জালে আটকে আছে বলে জানা গেছে।

বিমান বন্দর বাদাঘাট বাইপাস সড়ক:
সিলেট নগরে আম্বরখানা দিয়ে ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে বিকল্প সড়ক হিসেবে ‘বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস’ সড়ক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। শহরের মধ্যে দিয়ে ট্রাক চলাচল করার কারনে যানযট যেমন লেগে থাকে তেমনি দূর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এই বিমান বন্দর বাদাঘাট বাইপাস সড়ক প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায় হওয়া খু্বই জরুরী। অথচ গত সপ্তাহে সেই মহাসড়ক সচিব নজরুল ইসলাম খান এই প্রকল্পের প্রয়োজন নাই বলে বাতিল করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন থেকে যায় তিনি কীভাবে জানলেন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন নেই। তবে কি স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) তাকে কোন ভুল তথ্য দিয়েছে? না কী সিলেট বিদ্দেশী মনোভাব থেকে এটি করা হয়েছে?

সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমান চলাচল:
লন্ডন প্রবাসী এবং সিলেটবাসীর দীর্ঘ দিন থেকে দাবী করে আসছিলো সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমান চলাচল চালু করার। বিমান তখন বলতো সিলেটে রিফুয়েলিং সিসটেম না থাকার কারণে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব নয়। পরবর্তিতে রিফুয়েলিং সিসটেম চালু হলো। এর পর নতুন অজুহাত রানওয়ে সম্প্রসারণ ও উন্নত করতে হবে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় রিফুয়েলিং সিষ্টেম সহ রানওয়ে ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজে প্রায় ২৮ শত কোটি টাকা বরাদ্দ করে সকল কাজ সমাপ্ত করা হয়।

ঘোষণা আসে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে সরাসরি সিলেট-লন্ডন বিমানের ফ্লাইট চালু হবে।
করোনা পরিস্থিতির কারনে এসময় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আটকে যায়।

গত ১২ জুন দৈনিকসিলেটের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মহিবুল হক তাকে জানিয়েছেন জুলাইয়ে প্রথম সপ্তাহ থেকে সিলেট-লন্ডন বিমানের সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

চালু হওয়াতো দূরের কথা লন্ডন থেকে সরাসরি যে ফ্লাইট সিলেট আসতো সেটিও নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ জুলাই বলা হয়েছে এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে যারা লন্ডন থেকে সিলেট আসবেন তাদেরকে ঢাকায় ইমিগ্রেশন করে সেখানেই তাদের ব্যাগেজ ক্লেইম করতে হবে এবং ঢাকা থেকে আবার নতুন করে বডিং পাস্ নিয়ে সিলেটে আসতে হবে।
বিমানযাত্রীদের অভিযোগ বিমানে এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারী এবং কর্মকর্তা রয়েছে যাদের অনৈতিক সুবিধার স্বার্থে সিলেট-লন্ডন বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে দিচ্ছে না।

নানা অজুহাতে এটি আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের হোটেল অবস্থান, আপ্যায়নসহ অনেক বিষয় বন্ধ হয়ে যাবে। আর তখন তারা বিপুল পরিমান অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

সিলেটের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে এমন ঢালবাহানায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তারা এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।