Sat. Sep 19th, 2020

পুলিশে অনন্য ড. বেনজীর আহমেদ

ডেইলি বিডি নিউজঃ তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। গত এক যুগে তিনি এমন তিনটি দায়িত্বপূর্ণ পদে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন ও দিচ্ছেন, যা যে কারো জন্য ঈর্ষণীয়। আর প্রতিটি দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন দেশের এক একটি ভিন্ন ধারার সংকটকালে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বর্তমান মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের ওপর সরকার প্রধানের বারবার আস্থা রাখা নিছক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। সাহসিকতা, দক্ষতা আর সময়োপযোগী ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণ তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আস্থার জায়গাটি তৈরি করেছে।

রাজধানী ঢাকায় যখন জঙ্গিরা আস্তানা গাড়ছিল, রাজনৈতিক সন্ত্রাসে অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় নগরবাসী, তখন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে উত্তুঙ্গ পরিস্থিতিতে সারা দেশ একরকম অচল হয়ে পড়লেও রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর।

এরপর র‍্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব যখন পান, তখন বাহিনীতির ভাবমূর্তি তলানিতে। আর সম্প্রতি আইজিপির দায়িত্ব পেয়েছেন দেশজুড়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবের মধ্যে।

ড. বেনজীর তার প্রতিটি দায়িত্ব পালনকালে নতুন ভাবনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে বাহিনীর উন্নয়ন, এর সদস্যদের পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধ রচনা করে দেশসেবায় ব্রতী হয়েছেন।

এখন জনমুখী পুলিশি সেবা চালু করতে থানা থেকে বের হয়ে পুলিশকে মানুষের দোরগোড়ায় নিতে একের পর এক সাহসী ও সময়োপযোগী নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এরই আলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়া, জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ বাহিনী।

নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কৌশল কাজে লাগিয়ে পুলিশকে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করছেন আইজিপি। পাশাপাশি নিজস্ব কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক কাজ করে চলেছেন পুলিশ-প্রধান।

অবৈধ কোনো কাজকে কখনো প্রশ্রয় দেন না মেধাবী, সৎ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত বেনজীর আহমেদ। ‘দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না’ বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বড়লোক হতে চাইলে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করুন। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পুলিশের চাকরি নয়। মানুষ পুলিশকে তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছে। যে মর্যাদা, যে সম্মান মানুষ পুলিশকে দিয়েছে, তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

করোনার মতো সংকটকালে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা বেনজীর আহমেদ চান থানার বাইরে জনগণের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দুই লাখ পুলিশের সঙ্গে ১৮ কোটি মানুষের যোগাযোগকে জনবান্ধব করতে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে তার। চলমান করোনা দুর্যোগে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রশংসা পাওয়া পুলিশের এই সুনাম ধরে রাখতে চান আগামী দিনেও।

করোনা মহামারিতে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পুলিশ করোনায় বিপদগ্রস্ত, গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবতার হাত বাড়িয়ে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে দেশব্যাপী। করোনায় আক্রান্তদের হাসপাতালে নেয়া, চিকিৎসা, ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করা, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ দাফন, আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে আসার মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ-প্রধানের নির্দেশনায়।

মহামারিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬ জন পুলিশ সদস্য।

যেকোনো সংকটকালে তা মোকাবিলায় কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হয়, এমনটা মনে করেন পুলিশ-প্রধান। সম্প্রতি একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের করোনা সংকটকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। আমি এটাকে সহকর্মীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সুযোগ বলে মনে করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। কারণ চ্যালেঞ্জ নিতে হলেই আপনার দক্ষতা, যোগ্যতা ও সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে যাচাই করা যায়। এটা সত্যি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সিদ্ধান্তে গত ১০-১২ বছরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রতিপালন করার দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছে। আমি পাঁচ বছর ডিএমপি কমিশনার ছিলাম, প্রতিটি বছর ছিল চ্যালেঞ্জিং।

এ বছরের ৮ এপ্রিল দেশের ৩০তম আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান ড. বেনজীর আহমেদ। ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আইজিপি বলেন, ২০১৩ সালের শেষ চার মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে সারা দেশ অচল ছিল, শুধু ঢাকা সিটি ছিল সচল। সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে খুন করা হয়েছে। ওই সময়ের সহকর্মীদের ভূমিকা স্মরণ করছি, যারা আমার নির্দেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তা দিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন।

শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, বেনজীর আহমেদ যখন ঢাকার কমিশনার ছিলেন, ডিএমপিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নও ঘটে অনেক। মিরপুর পিওএমএর সামগ্রিক আধুনিকায়ন, ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স-এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, রাজারবাগের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ, আধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন, মোবাইল কমান্ড সেন্টার, মোবাইল ওয়াচ টাওয়ার, ডগ স্কোয়াড ও ৮টি নতুন থানা স্থাপন অন্যতম। প্রথম সরকারি কোনো অফিসে মিডিয়া সেন্টার স্থাপনের নজির স্থাপন করেন তিনি।

তার এই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনেও। ড. বেনজীর বলেন, আমি যখন র‌্যাবে যোগদান করি, বিভিন্ন কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল বাহিনীটি। মিডিয়ায় র‌্যাব ভেঙে দেওয়ার কথা হচ্ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। গত সাড়ে পাঁচ বছরে সহকর্মীদের প্রচেষ্টায় র‌্যাব এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে ফিরে পেয়েছে গণমানুষের আস্থার জায়গাটি।

১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। র‌্যাবের ডিজি হিসেবে সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের আগে তিনি প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

আইজিপির উদারতাঃ

পেশার আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ড. বেনজীর আহমেদ অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শুভানুধ‍্যায়ী ও সাংবাদিক পরিবারের প্রতি তার উদারতা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনায় নিহত সাংবাদিক ও পুলিশ পরিবারকে নগদ টাকা ও উপহারসামগ্রী পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট হাসপাতাল ভাড়া করাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। কোয়ারেন্টাইনে ও আইসোলেশনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের খোঁজখবর রাখার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিদর্শন কমিটি তৈরি করেছেন। তাদের জন্য পাঠাচ্ছেন নিয়মিত ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার।

এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি, ডি এবং জিংক ট্যাবলেট সরবরাহ করছেন ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশের সর্বোচ্চ পদক লাভঃ

বেনজীর আহমেদ চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পলনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)। ২০২০ সালে ষষ্ঠবারের মতো বিপিএম (সাহসিকতা) অর্জনের রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে ২০১১, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে এই পদক তার সাফল্যের মুকুটে যোগ হয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানঃ

গত বছরের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণ এশীয় দাবা কাউন্সিলের প্রথম নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন বেনজীর আহমেদ। সার্ক অঞ্চলের এই আট দেশের দাবা কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত ভোটে তিনি এই নেতৃত্ব পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এরপর শত শত দাবাড়ু তৈরি করতে কাজ শুরু করেন তিনি। তার উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশ নিয়ে ঢাকায় হয় ফার্স্ট সার্ক চেজ চ্যাম্পিয়ন’ প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশ স্কুল দাবা টুর্নামেন্টের’ জন্য বেনজীর আহমেদের আহ্বানে স্পন্সর হয় আবুল খায়ের গ্রুপ।

ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনঃ

২০১৯ সালে বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ‘কনট্রিবিউশন অব বাংলাদেশ ইউএন পিস কিপিং ফোর্স টু আওয়ার ন্যাশনাল ইকোনমি’ শিরোনামে তার অভিসন্দর্ভে জাতীয় অর্থনীতিতে পুলিশ শান্তিরক্ষীদের অবদান এবং শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় তিন দশক দায়িত্ব পালনে লব্ধ অভিজ্ঞতা দেশের পুলিশ বাহিনী সংগঠনে ইতিবাচক পরিবর্তনে কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে, তা তুলে আনেন বেনজীর আহমেদ। গবেষণায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিশ্বশান্তি রক্ষায় অনন্য অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষা মিশনের ভূমিকা বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাতে।

বেনজীর আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা চার্লস স্ট্রার্ট ইউনিভার্সিটি ও সিঙ্গাপুরের বিশ্বব্যাংক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও অধ্যয়ন করেন।

সৌজন্যে: ঢাকাটাইমস