Sat. Oct 24th, 2020

মাধবপুরে দু-বছর পর অজ্ঞাত মৃত দেহের পরিচয় সনাক্ত করেছে পিবিআই

ডেইলি বিডি নিউজঃ মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে মৃত্যুর দু-বছর পর লাশের পরিচয় সনাক্ত করেছে পুলিশ বুরে‌্যা অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জ। পিবিআই সুত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ২০১৮ইং তারিখে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামের অদূরে খামার খালের পাড় থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহম্মেদ সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অজ্ঞাত চেহারা বিকৃত প্রায় (২৫) পুরুষের দেহটি উদ্ধার করে। পরে ওই থানার এসআই কামাল হোসেন লাশের সুরতহাল তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে এসআই কামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মাধবপুর থানা পুলিশ হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে না পারলে মামলাটি হবিগঞ্জ জেলা পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। হবিগঞ্জ জেলা পিবিআই পরিদর্শক মৃণাল দেবনাথ জানান, মামলাটি হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ পিবিআইতে হন্তান্তর করায় এ হত্যাকান্ড নিয়ে অজ্ঞাত নামা মৃতদেহ পরিচয় শনাক্তসহ হত্যার কারন উদঘাটনের অনুসন্ধানে নামে পিবিআই। একপর্যায়ে অজ্ঞাত মৃত দেহের দাঁত ও হাড় সংগ্রহ করে ডিএনএ আলামত হিসেবে মৃত দেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার জন্য সিআইডিতে প্রেরন করা হয়। এদিকে, নিহতের পরিচয় সনাক্তের জন্য ঘটনাস্থলের আশ-পাশেসহ বিভিন্ন থানা এলাকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে পিবিআই। এক পর্যায়ে জানা যায়, ঘটনার ৫/৭দিন আগে বাঘাসুরা গ্রামের গোপেশ রঞ্জন কর নিখোঁজ হয়ে অদ্যাবধি কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পিবিআই পরিদর্শক মৃণাল দেবনাথ নিখোঁজ গোপেশ রঞ্জন করের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তার বড় ভাই ভানু রঞ্জন কর জানান, তার ভাই নিখোজ কিন্ত যে মৃত দেহটি পাওয়া গিয়াছে সেটি তিনি সহ তাহার পরিবারের অনেকেই দেখেছেন। সেইটি তার নিখোঁজ হওয়া ভাই গোপেশ রঞ্জন করের না। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে নিখোঁজ গোপেশ চন্দ্র করের পুত্র সন্তান দিগন্ত রঞ্জন কর (১২) এর ডিএনএ পরিক্ষার জন্য সিআইডিতে প্রেরন করেন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় অজ্ঞাত মৃত দেহটি দিগন্ত রঞ্জন করের পিতা নিখোঁজ গোপেশ করের। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের পর হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতেদের গ্রেফতার করতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান পিবিআই পরিদর্শক মৃণাল দেবনাথ।

উল্লেখ্য, পিবিআই পরিদর্শক মৃনাল দেবনাথ এর আগেও একাধিক ক্লু-লেস বা ‘সূত্রহীন’ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে সফল হয়েছেন।