Sat. Oct 24th, 2020

নবীগঞ্জে মজনু মিয়াকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত দুচিন্তায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি॥ নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল (দক্ষিণ কুর্শা) গ্রামের মোকামবাড়ির মৃত রমজান আলীর পুত্র মোঃ মজনু মিয়ার ওপর রক্তাক্ত হামলার ১৩ দিন পর ছেলের দুচিন্তায় তার মা পুতুল বিবি (৬০) স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি—–রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিকালে মরহুমাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৭/৮/২০২০ ইংরেজী দিবাগত রাতে সাতাইহাল মোকামবাড়ির মৃত রমজান আলী এবং সদ্য মৃত পুতুল বিবির পুত্র মজনু মিয়াকে বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রিজের রেলিং উপর বসা অবস্থায় দৃর্বৃত্তরা মজনু মিয়াকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মজনু চিৎকার দিলে তার মা বোন সহ স্বজনরা এগিয়ে এসে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তারা মজনু মিয়াকে পায়নি। পরদিন ভোর সকালে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় তার দেহ জমিতে পড়ে থাকতে দেখেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। দুর্বৃত্তরা রাতে মজনু মিয়াকে হাত পা বেধে মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক মজনু মিয়াকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গত ১১/৮/২০২০ইংরেজী তার জ্ঞান ফিরলে তার ওপর হামলাকারী একই গ্রামের ৯ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরো ৬/৭ ছিল বলে মজনু মিয়া পরিবারের সদস্যদের জানান। গুরুতর আহত মজনু মিয়াকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার পর থেকেই তার বৃদ্ধা মা পুতুল বিবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি প্রতিদিনই ছেলের জন্য কান্নাকাটি করে বারবার মোর্চা যেতেন। ছেলে আহত হওয়ার ঘটনার ১৩ দিন পর দুচিন্তায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। মজনু মিয়ার ওপর রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় তার বোন শিমু আক্তার বাদী হয়ে গত ১৫ আগস্ট সাতাইহাল (দক্ষিণ কুর্শা) গ্রামের চুনু মিয়া (৫৫), ইয়াওর মিয়া (৬০), পৌরশ মিয়া (৫৭), সাহিদ মিয়া (৪৫), সেলিম (৪০), কাওছার মিয়া (৩০), পাভেল মিয়া (২৪), তোফায়েল মিয়া (২৪), ইলিয়াছ আলী (৬০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জনকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।