Fri. Sep 18th, 2020

কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ৪ লেন সড়ক নির্মাণের কাজ অনিশ্চয়তার মুখে

মুহিত চৌধুরী :: ইদানিং সিলেটের প্রায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবার আগে নানা অজুহাতে আটকে যাচ্ছে। কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ৪ লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি গত ১০ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এটি ২০১০ সালের ৪ আগস্ট সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শুরু করেছিলেন।

পরবর্তিতে সিলেট -১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড,এ কে আব্দুল মোমেন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। হঠাৎ করে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ জানায় কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ৪ লেন করার প্রয়োজন নেই ২ লেন করলেই বিদমান সমস্যার সমাধান হবে। এটি জানার পর সিলেটজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সুষ্টি হয়।

এমতাবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড,এ কে আব্দুল মোমেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরজমিন পরিদর্শনে সিলেট আসেন। তারা সিলেট বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট হয়ে তেমুখি পয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্নস্হানে দাঁড়িয়ে পুরো সড়কের রুপরেখা পর্যবেক্ষণ করেন।
গত ১৭ আগস্ট তারা তাদের প্রণীত প্রতিবেদন বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে দাখিল করেন।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনের ২৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়-
‘বর্তমান যে পরিমাণ ট্রাফিক/যানবাহন চলাচল করে এ ট্রাফিক বিবেচনায় কমিটির কারিগরী সদস্যদের মতামত অনুযায়ী প্রস্তাবিত সড়কটি ২-লেনে নির্মাণ করলেই বিদ্যমান সমস্যা সমাধান হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তবে ভবিষ্যতে ট্রাফিক ভলিউম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সম্প্রসারণের ফলে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৪-লেনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থান রাখা যেতে পারে। এছাড়া, ভারী ভারী মালবাহী ট্রাক/অন্যান্য যানবাহন অর্থাৎ ট্রাফিক বিবেচনায় এবং সয়েল কন্ডিশন পরীক্ষণে অদূর ভবিষ্যতে প্রয়ােজনীয়তা বিবেচিত হলে এ পর্যায়ে ৪-লেনে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সুতরাং এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তারা প্রস্তাবিত সড়কটি ২-লেনে নির্মাণ করার পক্ষেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাই কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ৪ লেন সড়ক নির্মাণের বিষয়টি এখন বলা যায় পুরোপুরি অনিশ্চিত।