Fri. Sep 18th, 2020

পূর্ণাঙ্গ কমিটির অপেক্ষায় সিলেট আওয়ামী লীগ

অতিথি প্রতিবেদক : চলতি মাসেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণার পর ইতোমধ্যে সংগঠনের উভয় শাখা থেকে খসরা তালিকা চুড়ান্ত করা সম্পন্ন হয়েছে। হাতে রয়েছে আর মাত্র ১০ দিন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা ও মহানগরের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে, হাতে আর মাত্র ১০ দিন সময় রয়েছে। ফলে সম্মেলনের প্রায় সাড়ে ৮ মাস পর এখন নড়ে চড়ে বসেছে সিলেট আওয়ামী লীগ। বিষয়টিকে সামনে রেখে দলের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে দলীয় পদ-প্রত্যাশীদের। অবশ্য, দলের জেলা ও মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন-ত্যাগী এবং পরিচ্ছন্নরাই স্থান পাচ্ছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তাছাড়া, নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে দেশ এবং দল বান্ধব কমিটি উপহার দিতে প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও জানিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বুধবার সারাদেশে সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেন দলের সাধারন সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশের অসম্পূর্ণ কমিটিগুলো পূরণ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশনার পর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন দুপুরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হক হানিফসহ সিলেট আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাশুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন নির্বাচিত হন।

এদিকে, কমিটি গঠনের পর ৯ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পাঠাতে পারেনি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। দলের উভয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের দাবি-সম্মেলনের পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সেতুঁ বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়। এরই মধ্যেই মার্চ মাসের শুরু থেকেই চলে আসে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের কারণে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের গৃহিত মুজিববর্ষের কর্মসূচীর পরিধিও সংক্ষিপ্ত করা হয়। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা আসে। এরই মধ্যে গেলো আগষ্ট মাস জোড়ে ছিল শোক দিবসের কর্মসূচী। সব কিছুর পরও থেমে থাকেনি আওয়ামী লীগ।

জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার ৭১ সদস্য কমিটির স্থলে ৭৫ সদস্য কমিটির গঠন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডিয়ামে পদে ৯ জনের স্থলে ১১ এবং সাধারণ সদস্য ৩৪ জনের স্থলে ৩৬ জন করা হবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, বৃহস্পতিবার কেন্দ্র থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, পুরনো এবং নবীনদের নিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা আওয়ামী লীগ।

তবে, দলে অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেওয়া হবেনা-এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের ব্যাপারে তথ্য গ্রহণ শেষে যাছাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি খসরা তালিকা প্রস্তুুত করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের দু’একদিন আগেই প্রস্তাবিত কমিটি জমা প্রদানের ব্যপারে নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পাঠানোর প্রস্তুতি বিষয়ে মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, নেত্রীর নির্দেশনা মাথায় রেখে একটি পরিচ্ছন্ন ও বিতর্কমুক্ত কমিটি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে মহানগর আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এখন হাতে পৌছেনি। তবে, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন হয়তোবা নির্দেশনা পেয়ে থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্র মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটি জমা প্রদানে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের।