Wed. Sep 23rd, 2020

লাইসেন্স বিহীন সিএনজি অটোরিকশার চাপে নগরী

এ টি এম তুরাব : সয়লাব বললেও ভুল হবে। এ যেন সুনামি! যে সড়কেই যাবেন, সেখানেই অটোরিকশা। হাজারো অটোরিকশার চাপে পিষ্ট নগরবাসী। ঘর থেকে বেরোলেই তাঁদের নিত্যসঙ্গী এখন যানজট। ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো অটোরিকশা। সিলেট এখন যেনও অটোরিকশার নগরী হিসেবে রূপ নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গড়ে ওঠা অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। বেশিরভাগ সড়কেরই অর্ধেকের বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এসব স্ট্যান্ড সরাতে প্রশাসনের তরফ থেকে নেই কোনো কার্যকরী উদ্যোগ।

সূত্র জানায়, সিলেটে প্রায় ২২ হাজার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত অটোরিকশা (থ্রি হুইলার) রয়েছে। এর বিপরীতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কমপক্ষে ২০ সহ¯্রাধিক অটোরিকশা বিভিন্ন সড়কে চলমান রয়েছে। যেগুলো পুলিশকে টোকেনের বিপরীতে টাকা দিয়ে নগর ও শহরতলী কেন্দ্রিক চলাচল করে। এতে করে সিলেটে যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে।

নগর ঘুরে দেখা যায়, সুরমা মার্কেট, ক্বীন ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত, তালতলা, কাজিরবাজার সেতুর দুই প্রবেশদ্বার, বন্দরবাজার, সুবহানীঘাট, নাইওরপুল, রিকাবীবাজার, মেডিকেল, আম্বরখানা, চৌহাট্টা ভিআইপি সড়কে, মাজার গেইট, এয়ারপোর্ট রোড, দর্শন দেউড়ি, মদিনা মার্কেট, উপশহর পয়েন্ট, মেন্দিভাগ পয়েন্ট, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, কোনো সড়কই বাদ নেই। প্রতিটি সড়কই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের দখলে। এমনকি নগরীর ধোপাদিঘির পাড় খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা হাফিজ কমপে¬ক্সের বিপরীতে গড়ে ওঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব স্থানে হালকা যানবাহনগুলোর বিশৃঙ্খল চলাচল ও যাত্রী ওঠা নামা করানোয় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। এ কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীতে আইনগত বৈধ কোনো স্ট্যান্ডই নেই। নামমাত্র অনুমতি নিয়ে স্ট্যান্ডগুলো বসানো হয়েছে। অনেকে বলছেন প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই স্ট্যান্ড বসানো হয়, নিয়মিত চাঁদা দেন স্ট্যান্ড সংশ্লিষ্টরা। তবে ভেতরে যাই থাকুক দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকেই।

এদিকে, কয়েকবার সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে এসব অটোরিকশা স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের জন্য দাগ টেনে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। দাগের বাইরে গাড়ি না রাখতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এটি মুখে নির্দেশনা দেয়ার মাঝেই থেকে যায়। পরদিন সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় চালকরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা বেশ গাড়ি আটক করেছি, মামলা দেয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।