Fri. Sep 18th, 2020

ওসমানীনগর হবে মাদক ও জুয়া মুক্তঃ শ্যামল বণিক

ডেইলি বিডি নিউজঃ মাদক আমাদের সমাজের জন্যে ভয়াবহ একটি ব্যাধি। মাদকের সঙ্গে যারা জড়িয়ে পড়েছে,তারা সহজে জড়িয়ে পড়ে নানান ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে। বিশেষ করে যারা মাদক সেবন করে তারা এক সময় ভয়াবহ অপরাধী হিসেবে সমাজে দাঁিড়য়ে যায়। মাদক সেবনের টাকার জন্যে মাদক সেবিরা চুরি,ডাকাতি,ছিনতাইসহ নানান ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে পরে। এতে সমাজের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। এই মাদককে নির্মূল করার কাজটিই প্রথম টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছি। সেই সঙ্গে জুয়াকে ওসমানীনগর থেকে বিতারিত করতে চাই।

সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক প্রথম টার্গেটের কথা তুলে ধরেন ওইভাবে।

ওসি শ্যামল বণিক বলেন, তিনি গত ২৪ জুলাই ওসমানীনগর থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি ঘোষণা দেন যেকোনো মূল্যে ওই অঞ্চলকে মাদক ও জুয়ামুক্ত করবেন। তিনি খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই এলাকায় তেমন একটা মাদক ব্যবসায়ী নেই। আছে কিছু সংখ্যক মাদকসেবি। খবর নিয়ে জানতে পারেন সেখানে তেমন একটা জুয়ারও আসর নেই। যা আছে তা নির্মূল করার মিশন নিয়ে তিনি মাঠে নামেন।

ওসি শ্যামল বণিক জানাচ্ছিলেন, মাদক ও জুয়া নির্মূলের ছক হাতে নিয়ে মাঠে নামেন। বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষের সাথে আলোচনা শুরু করেন। তাদেরকে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান। জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদেরকে সম্পৃক্ত করে। ইতিবাচক ফলাফল আসতে থাকে।

তিনি জানান, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে থানার প্রতিটি হাট বাজারে ছুটে যেতে থাকেন তিনি। মানুষকে ডেকে ডেকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করেন। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দেখলেন ২-১ দিনের মধ্যে তার ফল আসতে থাকলো। বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

ওই দুইটি বিষয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ-এমন কথা জানিয়ে ওসি শ্যামল বণিক বলেন, সাদিপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন মৃত্যুবরণ করেন। এতে তিনি প্রচন্ডভাবে মানসিক আঘাত পান। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থানা পুলিশের নয়। তারপরও তিনি বিবেকের তাড়নায় মাঠে নামেন।

ওসি শ্যামল বণিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তিনি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্যাম্পেইং শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ শুরু করেন। এতে সুফলও পাচ্ছেন। এখন বিশ্বরোডে উঠতে পারে না অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব যানবাহন চড়ে এখন আর কেউ বিশ্বরোডে উঠতে চান না। জনগণই এখন ওইসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ওসি শ্যামল বণিক বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সচেতন ও শিক্ষিত। তারা চান পিসফুল পরিবেশ। তারা এখন দেখতে পাচ্ছেন পিসফুল পরিবেশের জন্যে পুলিশ কাজ করছেন। তাই তারা পুলিশের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ যা চাচ্ছেন তা পুলিশের পক্ষে দেয়া সম্ভব। তারা চান পিসফুল পরিবেশ। এই পরিবেশ পাওয়ার জন্যে তারা সব ধরণের সহযোগিতাও করছে পুলিশকে। এই অবস্থায় বলা যায় আমরা অবশ্যই সফল হব।