Fri. Sep 18th, 2020

সিলেটের ওসমানীনগরে ঘরে ঘরে এখন বিরাজ করছে করোনা

কে এম রায়হান:: সিলেটের ওসমানীনগরে ঘরে ঘরে এখন বিরাজ করছে করোনা অতংক। জ্বর-সর্দি, কাশিতে প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের কেউ না কেউ। হঠাৎ করে এই জ্বর বৃদ্ধির প্রকোপ করোনার বিস্তারকে দায়ী করছেন স্বাস্থ সংশ্লিষ্ট অনেকেই।জ্বর-সর্দি, কাশিকে কেন্দ্র করে হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যবসাও এখন রমরমা। উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মত ঘরে ওঠেছে অসংখ্য ফার্মেসী ও ভুয়া ডাক্তার। সাধারণ নিম্ন বিত্তের মানুষ জ্বর-সর্দি ও কাশির লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন এসব ফার্মেসীর হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। অনুমোদনবিহীন এসব চিকিৎসকেরা ইচ্ছে মত ঔষধ গেলাচ্ছেন রোগীদের।অনেক ক্ষেত্র দেওয়া হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ডাবল ডোজ। এতে মারাত্বক হারে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকি।স্থানীয় বেগমপুর, হাজিপুর, শেরপুর, ১৯মাইল, খাদিমপুর, নতুন বাজার, চাতলপাড়, বুরুঙ্গা,তাজপুর,দয়ামির উমরপুরসহ অনেক বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্ষেত্র বিশেষ কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা গেছে। এক জনের চিকিৎসা পত্র দিয়ে একাধিক রোগীকে ঔষধ ক্রয় করতে দেখা গেছে এসব ফার্মেসী গুলিতে। কেউ কেউ নিজের ইচ্ছে মত এন্টিবায়োটিক ক্রয় করে বাড়ি ফিরছিলেন।করোনার প্রথম দিকে ওসমানী নগর উপজেলায় বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরিক্ষা করা গেলেও এখন গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা আর পথে পথে বিরম্ভনা তো আছেই। তাই জ্বর-সর্দি ও কাশির লক্ষণ দেখা দিলে করোনা ধরেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী এসব রোগীদের। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায় মানুষজন অসচেতনভাবে বাজার সদাই করছেন।অযথা রাত-বিরাত আড্ডাবাজি তো আছেই আর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে গণ পরিবহন। এতেই হচ্ছে কমিউনিটি ট্রানজেকশন আর আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারন মানুষ।ডা. বি.কে সরকার, করোনার প্রথম দিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছিলেন এই উপজেলায়। কথা হচ্ছিল তাঁর সাথে, ‘তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিন শতাধিক রোগী করোনার সিন্টম নিয়ে তার কাছে আসেন সে সংখ্যা আগের যেকোন মাসের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ! তিনি রোগীর আত্মীয় স্বজনকে আতংকিত না হয়ে নিয়মনীতি মানার পরমর্শ দেন প্রায়। তিনি আরো বলেন জ্বর-সর্দি ও কাশির লক্ষণ দেখা মাত্র সবাই কে কোরান্টাইনে চলে যাওয়া উচিত। এতে করে নিজ পরিবার ও এলাকার মানুষ করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে পাড়ে।তিনি আরো বলেন আমরা রোগীকে নিয়মিত পরীক্ষার অন্য অনুরোধ করলেও কেউই পরিক্ষা করেছেন না! এতে করে বেড়েই চলছে করোনার স্বাস্থ্য ঝুকি। সামনের দিনগুলিতে যে মহামারি মারাত্বক আকার ধারণ করবে। এ নিয়ে তিনি সচেতেনও করে দিলেন।