Fri. Oct 23rd, 2020

নির্বাচিত হলে আজিজুর রহমানের যোগ্য শিষ্য হিসেবে কাজ করব — মিছবাহুর রহমান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ কোভিড-১৯ এর অপ্রত্যাশিত সংক্রমণ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমানের। মরহুম আজিজুর রহমান ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে মৌলভীবাজারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ ও সিলেট বিভাগীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতা। তাঁর মৃত্যুতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয়। আগামী ২০ অক্টোবর নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এনিয়ে জেলার রাজনীতির অঙ্গনে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কি না, কে হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান? এমন প্রশ্ন রয়েছে সচেতন মহলে। সরকার দলীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে অনেকেই আওয়ামী লীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী। কোভিড-১৯ সময়ের এই নির্বাচন নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা কৌতুহল। আমরা মনুকূলের কাগজ এর পক্ষ থেকে মুখোমুখি হয়েছিলাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব মিছবাহুুর রহমানের।

তিনি জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক। রাজনীতিতে তৃনমূল থেকে জেলা পর্যায়ের অন্যতম শীর্ষ পদে নিজের যোগ্যতায় উঠে আসা জনাব মিছবাহুর রহমান ব্যক্তি জীবনে ২ সন্তানের জনক। তিনি এ জেলায় ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির দুঃসময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেকড়ি। ১৯৭৭ সালে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৩ সালে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগ এবং ১৯৯৩ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ সময়ব্যাপী জেলা আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে সুসংগঠিত করেছেন। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে অধ্যাবধি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের এক ডজনেরও বেশি সংখ্যক সামাজিক সংগঠনের সাথে রয়েছে তাঁর প্রত্য সম্পৃক্ততা। তিনি জেলার একজন সুপরিচিত ক্রীড়া সংগঠকও। দুঃসময়ে সাহসের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে যেয়ে উচ্চতর লেখা-পড়ার সুযোগ বঞ্চিত হয়েছেন এই নেতা। রাজনীতির প্রয়োজনে রয়েছে তাঁর অসংখ্য আত্মত্যাগের ইতিকথা। নীচে তাঁর সাাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হলো। সাাৎকার গ্রহণ করেন খছরু চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।

মনুকূলের কাগজঃ আপনি জেলা আওয়ামীলীগ এর সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদের গুরুদায়িত্বে থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, যদি ব্যাখ্যা করে কিছু বলেন?

মিছবাহুর রহমানঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের প্রবীণতম রাজনৈতিক দল। রাজনীতিতে আমার ত্যাগ, শ্রম ও রাজনৈতিক যোগ্যতার কারণেই দল আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে। আপনারা জানেন, বর্তমান জেলা কমিটির সভাপতি জনাব নেছার আহমদ মাননীয় সাংসদ। আমরা জেলা আওয়ামী লীগ এর দায়িত্ব প্রাপ্তির পরেই সবগুলো উপজেলায় সফলভাবে আওয়ামীলীগ এর সম্মেলন করতে পেরেছি এবং দীর্ঘ দিন পর প্রতিটি উপজেলায় নতুন কমিটি ও নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পেরেছি। এটি আমাদের জেলা নেতৃত্বের সফলতা। প্রয়াত চেয়ারম্যান এবং জাতীয় নেতা শ্রদ্ধেয় আজিজুর রহমানের হাত ধরেই আমার রাজনীতি। তিনি শিখিয়ে গেছেন কিভাবে মানুষের কাজ করতে হয়, উন্নয়ন করতে হয় এবং কিভাবে মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে হয়। মহামারী কভিড-১৯ এর কারণে তাঁর এই অকাল প্রয়াণে জেলা পরিষদে এবং মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে, উন্নয়ন কার্যক্রমে যে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে – এই শূন্যতা পূরণের সদিচ্ছা থেকেই (যদিও মরহুম আজিজুর রহমানের শূন্যতা কোন কিছুর বিনিময়েই পূরণ হবার নয়) এবং তাঁর যোগ্য শিষ্য হিসেবে আমি দলের কাছে মনোনয়ন প্রার্থী।

মনুকূলের কাগজঃ আপনি দলীয় মনোনয়ন না পেলে কি নির্বাচন করবেন?

মিছবাহুর রহমানঃ না পাওয়ার কোন কারণ দেখি না। তারপরেও আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী বোর্ড দলের যাকেই মনোনয়ন দিবে, আমি তা মেনে নেবো এবং তাঁর পইে কাজ করব।

মনুকূলের কাগজঃ আপনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নতুন কোন পরিকল্পনায় কাজ করবেন কি?

মিছবাহুর রহমানঃ আমি জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সহযোগী ছিলাম এবং আছি। কিন্তু জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ সরকারের একটি অংশ। আমি নির্বাচিত হলে প্রথম দায়িত্ব হবে প্রয়াত চেয়ারম্যান সর্বজন শ্রদ্ধেয় লিডার আজিজুর রহমানের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা। আমার স্বপ্ন হলো মৌলভীবাজারে ১ হাজার আসন বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম স্থাপন এবং মৌলভীবাজার শহরের ভেতরে এত সুন্দর একটা প্রাকৃতিক লেক রয়েছে- এই লেকটাকে নান্দনিক ও পরিবেশ বান্ধব করে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি আধুনিক শিশু পার্ক স্থাপন। আপনারা জানেন, রাজনীতির পাশাপাশি আমি একজন ক্রীড়া সংগঠক। রাজনগর তথা যে উপজেলা শহরে এখন পর্যন্ত শিশু পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন হয়নি, সে উপজেলায় সরকারিভাবে শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক ও খেলাধুলার মাঠ তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে পরিবেশ বান্ধব ও নান্দনিক গণশৌচাগার নির্মাণ করার ইচ্ছাও আমার আছে।

মনুকূলের কাগজঃ বিএনপি কি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে?

মিছবাহুর রহমানঃ এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে, আমি মনে করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিকল্প নেই।
মনুকূলের কাগজঃ মৌলভীবাজার বাসীর বহুল প্রত্যাশিত দাবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়?

মিছবাহুর রহমানঃ এই দাবীর বাস্তবায়নে মাননীয় সাংসদ ও আমি কাজ করে যাচ্ছি। মৌলভীবাজারের জনগণের এই দাবি আওয়ামী লীগ সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার মাধ্যমে অচিরেই এই দাবি বাস্তবায়ন হবে।

মনুকূলের কাগজঃ আর কিছু?

মিছবাহুর রহমানঃ জেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান শুধু আওয়ামী লীগ এর নেতা ছিলেন না। তিনি সমগ্র মৌলভীবাজারবাসীর অভিভাবকও ছিলেন। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সকলের পরামর্শ ও সহযোগীতা নিয়ে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত করব। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে সকলের সমঅধিকার ও অংশদারিত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করব।

মনুকূলের কাগজঃ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মিছবাহুর রহমানঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে আমি মৌলবাজারবাসীর সকলের দোয়া চাচ্ছি। সবাই ভালো থাকার জন্য কোভিড-১৯ প্রতিরোধী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি।