Fri. Oct 23rd, 2020

মাদকের স্বর্গরাজ্য সুরমা ব্রীজের দক্ষিনপার

এন.আর.নাঈমঃ সিলেট দক্ষিণ সুরমার মাদকের আস্তানা ও জুয়ার বোর্ডগুলো দেখার যেনো কেউ নেই।
দক্ষিণ সুরমায় ক্বিন ব্রীজের নিচ, সফিক মিয়ার কলোনী, সুইঁপার কলোনী, চাঁদনীঘাট, কুমিল্লাপট্রি, রেলওয়ে ষ্টেশন, সাধুর বাজার জিঞ্জিরশাহ মাঁজার এলাকা, ডগেরপার, কদমতলী বালুরমাটসহ অনেকগুলো মাদকের স্পট রয়েছে। উক্ত মাদকের হাঁট ও জুয়ার আসরগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে। সচেতন মহলরা মনে করছেন দক্ষিণ সুরমা অনেকটাই অভিভাবকহীনের মতো হয়ে গেছে। যার কারণে বিভিন্ন সময় এ নিয়ে মিছিল মিটিং মানব বন্ধন ও বিভিন্ন পত্রিকায় খবর ছাপা হওয়ার পরও লোক দেখানো দুএকটা পদক্ষেপ ছাড়া কাজের কাজ কিছুই করা হচ্ছেনা। সরজমিনে ঘটনাস্থলগুলো ঘুরে দেখা যায় যে, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলেও এখানে মাদকের স্পটগুলোতে অবাদে মিলামিশা চলছে।

উল্লেখ্য যে, ক্বীন ব্রিজের পশ্চিমপ্রান্তে সফিক মিয়ার কলোনীতে অনেকটা রাখ ডাকনা ছাড়াই নাজমা আক্তার নাজু, রহিমা, মায়া, মমতা, সুফিয়া, সুজনা (সিকদারনী), ইসলাম, মায়াসহ কয়েকজন মিলেমিশে চালিয়ে যাচ্ছে নেশা জগতের মধ্যে অন্যতম গাঁজা ও চোলাই মদের ব্যবসা।

গত কিছুদিন আগেও দুই কেজি গাঁজাসহ নাজমা আক্তার নাজু গ্রেফতার হয়। কিন্তু অল্পদিনের ভিতরে জামিনে বেরিয়ে এসেই আবার তার অচল ব্যবসা সচল করে আগের চেয়ে বড় পরিসরে নিশ্চিন্তমনে চালিয়ে যাচ্ছে।
তার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে তারা তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। খোজ নিয়ে জানা যায় বরইকান্দীর খালিক মিয়া ও সফিক মিয়ার কাছ থেকে নাজমা আক্তার নাজু তিন লক্ষ টাকার চুক্তিতে রেলওয়ের লীজকৃত জায়গার উপর কলোনী ভাড়া এনে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ থেকে কোন অংশে কম নয় এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। সরকার থেকে লীজ এনেছেন একজন ভোগ করছেন অন্যজন আবার তিন লক্ষ টাকার চুক্তি করে এনে মাদকের ব্যবসা করছেন।

ক্বিন ব্রীজের দক্ষিণ পারে ব্রীজের পূর্বপাশের কলোনীতে বসবাসরত রুকসানা বেগম (আলাউদ্দিনের মা) নামে পরিচিত মহিলা ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়াঁলে মাদক ব্যবসা করছে এবং উঠতি বয়সের ছোট ছোট ছেলেদেরকে দিয়ে পথচারীদের মোবাইল ফোন ও পকেট কাটার মতো জগন্য কাজ করাইতেছে এই রুকসানা। তাদের টার্গেটকৃত এলাকা ক্বীন ব্রিজের উত্তর এবং দক্ষিণপার, রেলওয়ে স্টেশন, বাবনা পয়েন্ট, কদমতলী পয়েন্ট, বাস টার্মিনালসহ শহরের সকল ব্যস্ততম এলাকা। খোজ নিয়ে জানা যায় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দশটার মধ্যে দশ থেকে পনেরো বছরের ৪/৫জন কিশোরকে ইয়াবা সেবন করিয়ে মাঠে ছেড়ে দেয়। এই কিশোররা তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে পথচারীদের দামী মোবাইল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা এনে দুপুর ৩:০০ টার মধ্যে ভাঙ্গারী রোকাসানা বেগমের হাতে পৌছে দেয়। পরবর্তী তিনটা থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত আবার এই কিশোরদেরকে ইয়াবা সেবন করিয়ে সারা রাত্রের জন্য ছেড়ে দেয়। সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা, বিভিন্ন বাসাবাড়ী ও দোকানপাট থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল, কাপড়চোপড়, গ্যাসের রাইজারের মূখসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান আসবাব পত্র এনে ভোরবেলা ভাঙ্গারী রুকসানার হাতে দেয়। পরবর্তীতে রোকসানা তার কথিতপুত্র শহিদ নামীয় এক ব্যাক্তির কাছে চড়ামুল্যে বিক্রী করে। চোরাইকৃত মালামালগুলো রুকসানার হাতে পৌছার দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে শহিদের কাছে পৌছে দেয়া হয়।

অন্য আরেকজন মাদকের সাথে সাথে জায়গার কেনা বেচাও করছেন। জিঞ্জিরশাহ মাঁজার এলাকায় সাধুর বাজারে কাশেম নামক জনৈক ব্যক্তি শিলং তীর নামক জুয়া খেলা পরিচালনা করে বর্তমানে কোটি টাকার মালিক। যদিও বাঁশপালা মার্কেট নামীয় জিঞ্জিরশাহ মাজারের পাশে রেলওয়ের জায়গাটি কাশেমসহ আরো অজ্ঞাত তিন জন মিলে নার্সারী করার জন্য লীজ এনেছিল, কিন্তু বর্তমানে কাশেমের তীরের ব্যবসায় লক্ষ লক্ষ টাকা লাভ হওয়াতে কাশেম অন্য তিনজনের পার্টনারশীপ ১৫লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনে নেয়। বর্তমানে উক্ত জায়গাটিতে কাশেম একটি পাকা মার্কেট ও মার্কেটের পিছনে তার স্বপরিবারে বসতঘর পাকা করে নির্মাণ করেছে। সরকারী আইনে নার্সারীর জন্য লীজকৃত জায়গাতে কোন অবস্থাতেই স্থায়ীভাবে পাকা কোন কিছু নির্মাণ করা সম্পূর্নরূপে বেআইনি।

বর্তমানে কাশেম আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বসতঘরসহ মার্কেট পাকা করে নির্মাণ করেছে, পাশাপাশি সরকারী জায়গায় অবৈধ শিলং তীর নামক জুয়া বিরামহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ৩মার্চ সাধুর বাজারস্থ কাশেম এর আস্তানায় র‌্যাব-৯ এর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ৫জুয়াড়ীকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানায় সোপর্দ করেন, আটকৃতরা হচ্ছে সাধুর বাজার জুয়ার বোর্ডের প্রধান কাশেম, মুক্তার মিয়ার ছেলে আসাদ মিয়া, বরইকান্দির কবির মিয়ার ছেলে আমান, বর্তমান ভার্থখলার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান, জৈনপুরের বাবর মিয়া ও খোজারখলার সাদেকুর রহমান।
এদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় র‌্যাব-৯এর সাব ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে জুয়া ৩/৪ধারায় মামলা করেন। দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-৫ (২)২০ জি আর ৪৬/২০ । এরপরও এরা থেমে নেই জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা তাদের পুরোনো জায়গায় বহাল তবিয়তে শীলং তীর নামক জুয়া খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা, আমি এখনি আমার অফিসারদেকে অভিযান পরিচালনা করবো।