Tue. Oct 27th, 2020

সিলেটে টাকার বিনিময়ে দুর্ভোগ কিনছেন লিংক-থ্রী’র গ্রাহকরা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘লিংক-থ্রি’র প্রতারণার শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, সেবার নামেও চলছে প্রতারণা। এতে করে ভোগান্তিতে গ্রাহকদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

দিনে দিনে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘লিংক-থ্রি’ এর গ্রাহক ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে সেবার মান। বিভিন্ন মুখরোচক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহক আকৃষ্ট করলেও আদতে সেই অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চুক্তির সময়ে সকল গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সংযোগ প্রদানের পর আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না।

দিনে বেশির ভাগ সময়ই ইন্টারনেটের গতি দূর্বল, একেবারেই না থাকাসহ নানাবিধ সমস্যায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বার বার ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পান না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

এদিকে ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গাফিলতি নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেও ক্ষোভ ঝাড়ছেন। এমনকি প্রতারণার মামলা দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করছেন অনেকে।

দৈনিক সময়ের সংবাদের সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাঈম চৌধুরী আজ বিকেল ৪ঃ৩০ টার দিকে লিংক থ্রী’র ফেইসবুক গ্রুপে কানেকশনের বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্ট করার ৯ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখনো লিংক থ্রী কতৃপক্ষ তার সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ নেননি, এমনকি তার সাথে কোনরূপ যোগাযোগ ও করেন নি!

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাঈম চৌধুরী এই প্রতিবেদকে বলেন, “আগে কাস্টমার কেয়ারে কল করলে সমস্যা শুনতো, কিন্তু এখন আর কল রিসিভও করে না। এদিকে প্রতিনিয়ত নেট ড্রপ হচ্ছে, গুরুত্বপুর্ণ অনেক কাজই করতে পারছিনা।”

সেবার নামে লক্ষাধিক গ্রাহকের কাছে দুর্ভোগ বিক্রির দায়ে লিংক থ্রী’র বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী বলেও তিনি মন্তব্য করেন৷

কেবল নাঈম চৌধুরীই নন, এরকম অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। নিজেদের দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন সময় গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ থাকার পরও ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষ নিজেদের সাফাই গেয়ে থাকেন। তারা বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা গ্রাহক সেবাটাকেই প্রাধান্য দিয়ে চলছি।

লিংক থ্রি’র একজন গ্রাহক সোহেল আহমদ অভিযোগ করেন, মাসের শুরুতে টাকা নিয়ে নেয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। বিল দিতে একদিন বিলম্ব হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আবার বিল জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই সংযোগে দেখা দেয় ত্রুটি। যা মাসজুড়ে চলতে থাকে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পর তাদের ফোন করে আর পাওয়া যায় না। যদিওবা ফোন রিসিভ করে তখন জবাব দেয় ৭২ ঘণ্টার আগে সংযোগ ঠিক করা সম্ভব হবে না। কিন্তু সেই ৭২ ঘণ্টাও অনেক সময় পার হয় না।

ইন্টারনেট একেবারেই না থাকাসহ নানাবিধ সমস্যার জন্য গ্রাহকরা বার বার ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোনও সমাধান পান না। কবে সমাধান হবে সে ব্যাপারেও কেও কিছু বলতে পারে না। অথচ মাস শেষ হলেই গ্রাহকদের লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে ‘লিংক-থ্রি’কতৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তাদের গ্রাহক সেবা নাম্বারটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

লিংক থ্রী’র ফেইসবুক গ্রুপ ঘুরে এমন নানান অভিযোগের দেখা মেলে। কিন্তু শত শত অভিযোগের বিপরীতে সমাধানের সংখ্যা অতি নগন্য। একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, লিংক-থ্রি’ নিয়মিত সার্ভিস প্রদানে ব্যর্থ, এমনকি ‘লিংক-থ্রি’ নিজেদের গাফিলতির কারণে গ্রাহকরা নেট না পাওয়ার পরও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায় করেন।