Wed. Oct 28th, 2020

প্রতিশ্রুতি পূরণে এগিয়ে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মুহিত চৌধুরী: সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য আধুনিক সিলেটের স্বপ্নদ্রষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে এগিয়ে যাচ্ছেন।
সিলেটের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিলো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিনত করার।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এই দাবীটি আজ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণসহ অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনালের নির্মাণ কাজের ভার্চুয়াল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিলেটে ছুটে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিকসিলেটকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি আজ খুবই আনন্দিত আমার নির্বাচনী একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে যাত্রা শুরু হলো। আমি সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি জানান, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মিত হলে নতুন টার্মিনাল ভবন দিয়ে বছরে ২০ লক্ষ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন।
সেই সাথে ভারতের সেভেন সিসটারের যাত্রীরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন আর এতে করে আমাদের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী সেবা প্রদানের জন্য ভবনে থাকবে ৬টি বাের্ডিং ব্রিজ (ডাবল ডকিং ২টি, সিঙ্গেল ডকিং ২টি ), কনভেয়ার বেল্টসহ ৩৬টি চেক-ইন-কাউন্টার যার মধ্যে ২টি স্বয়ংক্রিয়, বহিগামী ও আগমনী যাত্রীদের জন্য মােট ২৪টি পাসপাের্ট কন্ট্রোল কাউন্টার , ৬টি এসকেলেটর, ১টি লিফট এবং আগমনী যাত্রীদের জন্য ৩টি লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, ভবনের ফ্লোরে বসবে ইঞ্জিনিয়ারড স্টোন।

নতুন টার্মিনালের ১ম তলা আগমনী যাত্রীদের এবং ২য় তলা বহির্গামী যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হবে। শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে আগত যাত্রী টার্মিনালের চেক-ইন লেভেলে সরাসরি যেতে পারবেন। আবার বিদেশ হতে আগত যাত্রীগণ ১ম তলা থেকে বিমানবন্দর ত্যাগ করে সারফেস রােড ব্যবহার করে শহরের যেকোন প্রান্তে যেতে পারবেন । টার্মিনাল অভিমুখী বা বহির্মুখী সকল যানবাহন চলাচল হবে একমুখী যা বিমানবন্দর অংশকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত রাখবে।

নতুন টার্মিনাল ভবনের সাথে আরও যে সকল অবকাঠামাে নির্মাণ করা হচ্ছে তা হলাে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত কার্গো টার্মিনাল, ফায়ার স্টেশন, কন্ট্রোল টাওয়ার, প্রশাসনিক ভবন, রক্ষনাবেক্ষণ ভবন, ৬টি উড়ােজাহাজ পার্কিং উপযােগী এপ্রােন, টেক্সিওয়ে, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র সহ ফুয়েল ডিষ্টিবিউশান এন্ড হাইড্রেন্ট সিস্টেম সহ আরও অনেক সুবিধা সন্নিবেশিত থাকবে এই নতুন টার্মিনালে।

নতুন টার্মিনাল ভবনের কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ তথা সিলেটের ভাবমুর্তি আরও উজ্জ্বল হবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশের বিমান সংস্থা এ বিমানবন্দর দিয়ে চলাচলের সুযােগ সৃষ্টি হবে। ফলে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশ পথে যাত্রীদের বিশ্বমানের সুযােগ সুবিধা ও নিরাপত্তা বাস্তবায়নের সুবিধা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনী অন্যান্য প্রতিশ্রুতিগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস ৪ লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সকল জটিলতার অবসান হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকা ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটিও সচল হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।