Wed. Oct 28th, 2020

সিলেট আউটার ক্রিকেট স্টেডিয়ামঃ খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

মো: আফজলঃ সিলেট শহর থেকে এয়ারপোর্ট রোডে ৩.৫ কিলোমিটার উত্তরে গেলে আপনার চোখে ভাসবে সবুজে ঘেরা অপরূপ চা বাগান। ছোট ছোট চা গাছের সবুজ পাতা আর পাহাড়-টিলায় ফুটে উঠেছে সিলেটের প্রকৃতির নয়নাভিরাম রূপ। আর এখানেই গড়ে তুলা হয়েছে দেশের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আর রুপসী স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে সিলেট আউটার ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টদের আশা, এই আউটার স্টেডিয়ামই খুলতে পারে সিলেট ক্রিকেটের নব দিগন্তের দুয়ার।

আউটারে ফুটে উঠবে সিলেটের সৌন্দর্যে অন্যতম নিদর্শন টিলা-পাহাড় ও সবুজ ঘাস। মাঠে থাকবে না কোনো আধুনিক গ্যালারি, কেবল পূর্ব-পশ্চিম পাশে থাকবে গ্রীন গ্যালারি। আর উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেসিংরুম, প্রেসবক্স। এটি প্রস্তুত হলে সিলেটের দীর্ঘ দিনের মাঠের যে অভাব ছিল সেটা দূর হবে বলে প্রত্যাশা সবার।

স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গেলে মাঠ সংকটে পড়ে যেত সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সিলেট স্টেডিয়াম আর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম আয়োজন করা হত প্রথম এবং দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ। মাঠের অভাবে অনেক সময় ক্রিকেট মৌসুম চলে যাওয়ার পরে অসময়ে ক্রিকেট লিগের আয়োজন করতে হত জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে। কারণ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আবার সব ধরনের খেলাধুলার জন্য বরাদ্দ, হকি, ফুটবল সহ অন্যান্য খেলার লিগ এই মাঠেই আয়োজন করা হয়ে থাকে। ক্রিকেট মৌসুমের সময় আবার দেখা যায় বিপিএল ফুটবল লিগের অনেক ম্যাচের ভেন্যু তালিকায় রাখা হয় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম। কোনো কোনো কারণে ব্যস্ত থাকে এই মাঠ।

আর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম বিসিবির মালিকানায়, সেখানে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গেলে প্রয়োজন বিসিবির সবুজ সংকেত। অনেক সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকে এই মাঠ, বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অনেক ম্যাচ এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন মাঠে খেলার সুযোগ পায় না সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটাররা। বিভাগীয় দলে খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় ক্রিকেটাররা সেই সুযোগ পান না। ফলে জাতীয় দলের পাইপলাইনে সিলেটের তেমন বেশি ক্রিকেটার দেখা যায় না। বিশেষ করে ব্যাটসম্যান নাই বললে চলে। বোলিংয়ে আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসাইন, খালেদ আহমেদ এবং স্পিনার নাসুম আহমেদ আছেন ফ্রন্ট লাইনে।

স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই সিলেট আউটার স্টেডিয়ামের নির্মাণ করার ছক আঁকেন সিলেটের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। প্রথম অবস্থায় আউটার স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনাতেই কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে মাঠ প্রস্তুত হওয়ার পর এটাকে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম গ্রাউন্ড-২ নামকরণ করা হয়। কোভিড১৯ এর কারণে মাঠের নির্মাণ কাজের কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। নতুবা এখন মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়ে যেত।

মাঠের কাঠামোগত সব কাজই সম্পন্ন, বাকী শুধু মাঠের কাজ। মাঠে ঘাস লাগানো এবং পিচ তৈরী করা। এই মাঠে রয়েছে ছয়টি পিচ। এই পিচ থেকে চতুর্থ দিকের প্রশস্ততা ৭০ গজের বেশি। তারপরে জায়গাটা কম। ছোট এই মাঠে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা পাবেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা। জিমনেশিয়াম থেকে শুরু করে আধুনিক ড্রেসিরুম। মাঠের পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে রয়েছে দুইটি গ্রীণ গ্যালারি আর উত্তর পাশের ভবনে তৈরি করা হয়েছে চারটি ড্রেসিরুম, দু ‘ টি র কাজ সম্পন্ন এবং জিমনেশিয়াম। এই ভবনের উপর তলাতে রয়েছে মিডিয়া সেন্টার, টিভি আম্পায়ার কক্ষ, ম্যাচ রেফারি এবং স্কোরারদের বসার জায়গা।

মাঠের পূর্ব-পশ্চিম পাশের দুই গ্রীণ গ্যালারিতে ফুটে উঠবে সিলেট সবুজ সমারোহ অপরুপ টিলা ও পাহাড়। পাহাড় ঘেঁষে থাকবে সবুজ গালিছা, সাথে হয় তো দেখা যেতে পারে সবুজ গাছ গাছালি। যাতে ফুটে উঠবে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঐতিহ্যের নিদর্শন।

মাঠের কাজ প্রায় শেষের দিকে, কাঠামোগত সব কাজই প্রায় সম্পন্ন। শুধু প্রয়োজন মাঠের পিচ তৈরি করা এবং মাঠে ঘাস লাগানো। খেলাটা যেহেতু হবে মাঠে তাই বলা যায় কাজ প্রায় ফিফটি ফিফটি সম্পন্ন। বাকী কাজ শেষ হতে সময় লাগতে প্রায় দুই মাস। করোনার কারণে ছুটিতে আছেন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ কিউরেটর, তিনি ফিরলেই উইকেট তৈরি কাজ শুরু হবে। মাস দুই এক পরে হয়তো ব্যাট বলের ক্রিকেট গড়াবে নতুন এই সবুজ গালিচায়।

এই মাঠ প্রস্তুত হয়ে গেলে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গন প্রানবন্ত হয়ে উঠবে। সিলেট ক্রিকেট লিগে ফিরবে পুরোনো ঐতিহ্য, সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেট লিগ। খেলাধুলার মান বাড়বে বলে মনে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেই। সিলেটের বিভাগীয় ক্রিকেট দলের কোচ খন্দকার মাহমুদ ইমন মনে করেন যে মাঠের অভাবে আগে সঠিক সময়ে ক্রিকেট লিগ আয়োজন করা যেত না। এই মাঠের কাজ সম্পন্ন হলে এই অভাবটা আর থাকবে না। তিনি বলেন, সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম গ্রাউন্ড-২ প্রস্তুত হয়ে গেলে মাঠের অভাবটা দূর হবে। আন্তর্জাতিক মানের উইকেটে সিলেট লিগ আয়োজন করা যাবে। ফলে জাতীয় দলের পাইপলাইনে সিলেটের অনেক ক্রিকেটার দেখা যাবে। এখন পেস বোলিংয়ে সিলেটের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে কিন্তু ব্যাটিং কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বোলিংয়ে রাহী, এবাদত, খালেদ আছে। সর্বশেষ টি২০ সিরিজে জাতীয় দলে নাসুম ডাক পেয়েছিল যদিও খেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু অলক, রাজিনদের মত ব্যাটসম্যান বের হচ্ছে না। জাকির হাসান এক ম্যাচ খেলে বাদ পরে গেছে , জাকির আলী অনিকও ভাল করছে। এই মাঠ প্রস্তুত হলেও আরো ব্যাটসম্যান উঠে আসবে, ব্যাটসম্যানদের ঘাটতি পূরণ হবে।

এই মাঠে হলেও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ছাড়তে নারাজ স্থানীয় এই ক্রিকেট কোচ। তাঁর মতে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম সিলেট ক্রিকেটের প্রাণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলায় মাঠের কোনো বিকল্প নাই, খেলোয়াড়দের যত বেশি আধুনিক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে, তারা তত বেশি ভাল করবে। আমি চাইব, সিলেট আউটার স্টেডিয়ামের পাশাপাশি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামেও ক্রিকেট লালন করা হোক। আমার কাছে জেলা স্টেডিয়াম সিলেটের ক্রিকেটের প্রান কেন্দ্র ছিল। এই দুই মাঠেই আয়োজন করা যেতে সিলেট ক্রিকেট লিগ, তৃনমুল থেকে ক্রিকেটার তুলে আনতে আয়োজন করা যেতে পারে উপজেলা লিগও। পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সবিত্তিক দলের ক্যাম্পও আয়োজন করা যায়। আমি স্থানীয় ক্লাব এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করব এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য।’

সিলেট বিভাগীয় দলের কোচ এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ এটাকে দেখছেন দুইভাবে। তিনি মনে করেন এই মাঠ প্রস্তুত হওয়ার পর দুই দিক দেখা দিতে পারে একটি হচ্ছে পজিটিভ আর আরেকটি হচ্ছে নেগেটিভ । মাঠ প্রস্তুত হলে সিলেটের ক্রিকেটের উন্নতি হবে এটা নিশ্চিত যদি সেই মাঠে স্থানীয় ক্রিকেটাররা খেলার সুযোগ পায়। আর যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকে মাঠ তাহলে সেই আগের মতই থাকবে সিলেটের ক্রিকেট। রাজিন বলছিলেন, ‘এই মাঠ প্রস্তুত হলে সিলেটের ক্রিকেটের উন্নতি হবে এটা বলা যায় কিন্তু এই মাঠর দুইটা দিক দেখা দিতে পারে একটা পজিটিভ আর আরেকটা নেগেটিভ। পজিটিভ দিক হল এই মাঠে স্থানীয় ক্রিকেটাররা অনুশীলন এবং প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ফলে তাদের খেলার উন্নতি হবে, কোয়ালিটি সম্পন্ন ক্রিকেটার বের হয়ে আসবে। নেগেটিভ দিক হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের মানুষের কাছে সিলেট আকর্ষনীয়, সে হিসেবে এই মাঠ যেভাবে তৈরি করা হয়েছে তা অনেক সুন্দর এবং আকর্ষনীয় হবে, এটা দেখে হয়তো বিসিবি এটাকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে পরিনত করতে পারেন। তাহলে আমরা বেশি খেলার সুযোগ পাব না।’

মাঠটি বিসিবির অর্থায়নে তৈরি করা হচ্ছে বিসিবি চাইলে তাদের কাজে মাঠ ব্যবহার করতে পারবে। তখন আর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কিছু করার থাকবে না। যদি এমন ঘটে , তাহলে তার বিকল্প মাঠের ছক এঁকে রেখেছেন নাকি সিলেটের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল! এমনটাই বলছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক এনামুল হক জুনিয়র এই সিলেটের সন্তান, বেড়ে উঠেছেন এই সিলেট শহরে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের হয়ে খেলে থাকেন, গত তিন চার বছর ধরে সিলেট ক্রিকেট লিগ আয়োজন করতে গেলে মাঠ সংকট দেখেছেন স্বচক্ষে। ক্রিকেট মৌসুমে ফুটবল গড়িয়েছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আর অসময়ে আয়োজন করা হত ক্রিকেট লিগ। ফলে মানসম্পন্ন তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হতে পারত না। সিলেট আউটার স্টেডিয়াম অনেক খুশি এনামুল হক জুনিয়র। অন্তত এখন মাঠের অভাবটা দূর হবে। আন্তর্জাতিক মানের উইকেটে স্থানীয় ক্রিকেটাররা সুযোগ পাবে বলে আনন্দিত এই স্পিনার। এনাম বলেন, এই মাঠটা সিলেট ক্রিকেট অনেক বড় উপকার হয়েছে বলতেই হবে। কারণ প্রত্যেক বছর অনেক কষ্ট করতে হত লিগ আয়োজন করার জন্য। কারণ জেলা স্টেডিয়াম ক্রিকেট, ফুটবল সহ আরো অনেক খেলার জন্য বরাদ্দ। ক্রিকেটটাকে আমরা যদি এই মাঠে নিয়ে আসতে পারি তাহলে সিলেট ক্রিকেটের অনেক উন্নতি হবে। অনুশীলনের পাশাপাশি যত বেশি ম্যাচ খেলতে পারব তত বেশি উন্নতি হবে। এই মাঠটা হওয়াতে ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়বে। সিলেটে প্রচুর ক্রিকেটটার আছে, সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের ম্যাচ প্র্যাক্টিসের। আশা করব যে এই সমস্যাটার সমাধান হবে।

এনামুল হক জুনিয়র যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করেন, তখন জেলা স্টেডিয়ামের ভাঙা ইনডোরে অনুশীলন করে বড় হয়েছেন। বর্তমানে সিলেটের তরুন ক্রিকেটারদের জন্য যেসব আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তা ক্রিকেটের উন্নয়নে অনেক বড় অবদান রাখবে বলে মনে করেন তিনি। আর তাতেই খুশি তিনি, ‘আমি যখন খেলা শুরু তখন জেলা স্টেডিয়ামের ভাঙ্গা ইনডোরে অনুশীলন করতাম, আর এখন অনেক আধুনিক সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে তাতেই অনেক খুশি। এতো সব সুযোগ সুবিধা দেওয়ারও যদি আগামী দুই তিন বছরে সিলেটের ক্রিকেট উন্নতি না করে তাহলে আমি বলব ক্রিকেটারদের গাফলতি আছে।’

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিকম্যান সিলেটের অলক কাপালি, বাংলাদেশের হয়ে প্রথম দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটিও তাঁর ছিল। উইকেটের চতুর্থদিকে খেলতে পারতেন বলে নামডাক আছে সিলেটের এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানের। নিজ শহর সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের এই আউটার ক্রিকেট স্টেডিয়াম হওয়াতে তিনি অনেক খুশি এবং আনন্দিত। অন্তত ক্রিকেট লিগ আয়োজন করতে মাঠ নিয়ে যে একটা ঝামেলা পোহাতে হত তা আর হবে না। এখন ঠিক সময়ে সিলেটে ক্রিকেট লিগ আয়োজন করা যাবে আর তাতে সিলেট ক্রিকেটের হারানো জৌলুস ফিরে পাবে। অলক কাপালি বলেন, ‘ মাঠটা হওয়াতে ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়বে বেশি, বেশি ম্যাচ খেলতে পারলে খেলায়ও উন্নতি হবে। আগে থেকে আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছি যেমন ইনডোর, জিমনেশিয়াম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছি। আন্তর্জাতিক মাঠে যেকোনো সময় প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলা যায় না অনেক ধরা বাধা থাকে। এই মাঠ প্রস্তুত হলে এই বাধা আর থাকবে না।’

বাংলাদেশ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০ ম্যাচ খেলা সিলেটের অপ স্পিনার আহমেদ সাদিকুর রহমান তাজিমও এটা ভাল দিক হিসেবে। অনেক সময় জাতীয় ক্রিকেট লিগে টিম কম্বিনেশনের সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলে নিয়মিত হতে পারেন না তিনি। নতুন এই মাঠ প্রস্তুত হলে ডিভিশন দলের ব্যাক প্লেয়ার যারা আছেন তাদের অনুশীলন প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলার সুযোগ হবে বলে মনে করছেন। তাজিম বলছিলেন, যদি এই মাঠ রেডি হয়ে যায়, তাহলে ডিভিশন টিম যদি বাহিরে খেলতে যায়, তখন ডিভিশন টিমের ব্যাক আপ প্লেয়ারর অনুশীলন, ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ম্যাচ খেলার ফলে একটা প্লেয়ার নিজেকে যাচাই বাচাই করতে পারে, যা শুধু অনুশীলনের মাধ্যমে করা যায় না। একজন খেলোয়াড় বুঝতে পারবে সে কোন পর্যায়ে আছে। ফিটনেসের ব্যাপারটা সে বুঝতে পারবে।

যদি ক্রিকেট বোর্ডের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকে, তাহলে যেকোনো সময় লিগ আয়োজন করা যাবে। মাঠের যে অভাব সেটা কমে যাবে। জেলা স্টেডিয়ামে ফুটবল থাকে, হকি থাকে, যখন এই মাঠ হয়ে যাবে তখন আর এটা থাকবে না। এই মাঠ হয়ে গেলে প্লেয়ার বেশি অনুশীলন করার সুযোগ পাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। তখন ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। মাঠে পারফর্ম করার সামর্থ্য বাড়বে। সিলেটের ক্রিকেট লিগের জন্য এখন একটা ক্যালেন্ডার তৈরি করা যাবে। ফলে নির্ধারিত সময়ে লিগ আয়োজন করা যাবে। বলছিলেন আহমেদ সাদিকুর রহমান তাজিম।