Tue. Oct 27th, 2020

জনগণই ঠিক করবে পরবর্তী সরকারে কে থাকবেঃ ওবায়দুল কাদের

ডেইলি বিডি নিউজঃ দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের নামে মধ্যবর্তী টালবাহানার প্রয়োজন নেই। সময় হলেই নির্বাচন হবে। তখন জনগণই ঠিক করবে পরবর্তী সরকারে কে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড ‘ডিএমটিসিএল’ এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি মহল দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন। আমরা বলতে চাই, জনগণ সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। সরকার পরিবর্তন চাইলে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। জনগণ চাইলে আমরা আবার আসবো, আর না চাইলে সরে দাঁড়াবো। শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য চোরাগলি খোঁজে না, তার আস্থা এদেশের মাটি, মানুষ ও জনগণের ওপর। ষড়যন্ত্র করে নয়, দেশের উন্নয়নের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করতে চায় আওয়ামী লীগ।

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। অনেক দেশ আবার লকডাউনের দিকে যাবার কথা ভাবছে। আমাদের দেশে মৃত্যুর হার, আক্রান্ত কম বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। শীতে সংক্রমণ বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করছেন। অথচ আমাদের উদাসীনতা দেখলে মনে হয় করোনা বলে কিছু নেই। অনেকে মাস্ক পরে না। আসন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। শীতকালে ঝুঁকি কমাতে সর্বোচ্চ সচেতনতা আমাদের সুরক্ষার হাতিয়ার।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপি নেতারা বছরের পর বছর একই অভিযোগ করে যাচ্ছে। অথচ তারা নিজেরাই গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। যাদের নিজের দলে গণতন্ত্র নেই, তারা কীভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন হবে নির্বাচনের মাধ্যমে, কিন্তু তারা নির্বাচনে যেতে চায় না। গেলেও তা লোক দেখানো এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে জিতলে বলে আরও বেশি ভোটে জিততে পারতো, হারলে দায় চাপায় নির্বাচন কমিশন আর সরকারের ওপর। যারা নিজেরা আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চায় সিদ্ধহস্ত, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। তাই আবারও বলবো, গণতান্ত্রিক রীতি ও সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন হবে। আমি সে পর্যন্ত বিএনপিকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করছি। অপরাজনীতি ছেড়ে জন আস্থা তৈরির জন্য ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসতে।

দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি অপশক্তি দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি দেশ-বিদেশে কোথায় বৈঠক করছে, কী ষড়যন্ত্র চলছে তার খবর অজানা নয়। সাম্প্রতিককালে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব ক্ষুধা মুক্তির সূচকে ১৩ ধাপ এগিয়ে ভারত পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। আর্থসামাজিক প্রায় সব সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, মিথ্যাচারের মাধ্যমে সরকার ও জনপ্রশাসনে অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে একটি অপশক্তি। তারা সরকারকে টার্গেট করতে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে অন্ধকারের চোরাগলি খোঁজে, দেশের ইমেজ নষ্ট করে, তাদের সম্পর্কে জনগণ সতর্ক রয়েছে, জনগণ এখন আর এসবে বিশ্বাস করে না।