Fri. Oct 30th, 2020

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিঃ একটি কু-চক্রীমহল জেলা পুলিশ সুপারের নাম জড়িয়ে ঘোলাজলে মাছ শিকারের পায়তারা–সরেজমিন ৩

মোস্তাক চৌধুরী ঃ সিলেট বিভাগ জুড়ে পুলিশের কর্মকান্ড আজ প্রশ্নবিদ্ধ এর জন্য দায়ী সিলেট মহানগরের মেট্টোপলিটন পুলিশ। গত ৬ মাস যাবৎ মেট্টোপলিটন পুলিশের বেহায়াপনায় মুখ তুবরে পড়েছে সিলেট মহানগর আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি। মেট্টোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে যুবক রায়হান হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুসে উটেছে সিলেট নগরী। সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনে রয়েছে ৬টি থানা তন্মধ্যে এয়ারপোর্ট থানা, কোতায়ালী থানা ও জালালাবাদ থানা নিয়ে একটি জোন। এ জোনের দায়িত্বে আছেন একজন উপ-পুলিশ কমিশনার তিনি পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা, তাঁর নাম আজবাহার আলী শেখ। অন্যদিকে নগরীর শাহপরাণ থানা দক্ষিণ সুরমা ও মোগলারবাজার এ তিনটি থানা নিয়ে মেট্টোপলিটনের আরেকটি জোন। সর্বোপরি সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ এর ৬ থানা ও ফাঁড়ি গুলোর মূল নিয়ন্ত্রণকারী ডিআইজি পদ মর্যাদার কর্মকর্তা যাকে পুলিশ কমিশনার বলা হয়। সেই পুলিশ কমিশনারের নাম গোলাম কিবরিয়া।

কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার অধীনস্ত মেট্টোপলিটন পুলিশ গত কয় মাসে নানা কিচ্ছা কাহিনী করে সিলেট নগরীর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে লাটে তুলে দিয়েছে। ঘটনাগুলা ঘটছে মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনে বিশেষ করে গণপিটুনির নামে বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর যুবক রায়হানকে হত্যা করেছে ফাঁড়িতে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

মাস খানেক পূর্বে ঐতিহ্যবাহী এম.সি কলেজ চত্ত¡রে গৃহবধুকে জোর করে তোলে নিয়ে ছাত্রলীগ নামধারী বদমাইশরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে পবিত্র নগরী সিলেটকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এমসি কলেজও মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনস্ত থানা শাহপরাণ।

বিশেষ করে রায়হানের হত্যাকান্ড ও এম.সি কলেজের ঘটনা সিলেট নগরীতে টপ অব দা টাউন। মেট্টোপলিটনের অধীনে এ দুটি ঘটনা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, আর এ ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের এলাকা পুলিশ প্রধান হলেন ডিআইজি পদ মর্যাদা সম্পন্ন যিনি পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া। উনাকে সিলেটের সাধারণ মানুষ চিনেনও না জানেন ও না,অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তিনি গর্তে লুকিয়ে আছেন। তিনি যে সিলেট জেলা মেট্টোপলিটনের মূল কর্মকর্তা সাধারণ কি করে বুঝবে, তাকে তো মাঠে দেখা যায় না।

সিলেটের সাধারণ মানুষ মনে করে সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলার মূল কর্মকর্তা মানবতার ফেরিওয়ালা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। সিলেট জেলার ১১টি থানা নিয়ে সিলেট জেলা পুলিশ গঠিত। এর প্রধান কর্তা হলেন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

সিলেট মেট্টোপলিটনের পুলিশ আর জেলা পুলিশ দু’টি অংশে বিভক্ত তা অনেক সচেতন মানুষও বুঝেন না, কারণ বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর ছাড়া জেলা সদরের প্রতিটি জেলার পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার কিন্তু বিভাগীয় শহর মেট্টোপলিটন পুলিশ যে আলাদা সেটা সাধারণ মানুষ বুঝার কথা নয়, আর এই সুযোগে একটি কু-চক্রীমহল সিলেটের মানবপ্রেমী পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের নাম জড়িয়ে নানা কথা রটনা করে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে সিলেটের মানুষের কাছে তাঁর মান সম্মান, ভালো কর্মকান্ডকে ক্ষুন্ন করার নানা পায়তারা করছে।

সোস্যাল মিডিয়ার কিছু লোক সিলেটের জনপ্রিয় পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনকে সমালোচিত করতে সবকিছু জেনে শুনেও তার ছবির সাথে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী এসআই আকবর আলীর ছবি সংযুক্ত করে সোস্যাল মিডিয়ায় মেট্টোপলিটনের আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে কেন্দ্র করে তাকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করা হয়। এই সমালোচনায় সিলেটের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে যারা সোস্যাল মিডিয়ায় মেট্টোপলিটন পুলিশের সমালোচনার সাথে ফরিদ উদ্দিনকে যুক্ত করছেন তাদের সিংহভাগ জামাতের লোক। মেট্টোপলিটনের পুলিশ প্রশাসনের কোন কিছুই পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন নন। এটা সচেতন মহলের সকলেই জানেন। মানবতার ফেরিওয়ালা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন এর সাথে ঘোলাজলে মাছ শিকারের পায়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন দেড় বৎসরের উপরে হলো পুলিশ সুপার হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ:) ও শাহপরাণ (রহ:) এর পূণ্যভূমি সিলেটে আসেন। তিনি সিলেট আসার পূর্বে সিলেটের জেলা পুলিশের আইন শৃঙ্খলার কোন বালাই ছিল না। সিলেটের বাজার ছিল ভারতীয় মাদকের বাজার। চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসীদের অবয়াশ্রম। তিনি এসেই ৬ মাসে সিলেট জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বদলে দিলেন।

তিনি এসে বললেন; এ পবিত্র মাটিতে আমি এসেছি, এখানে হয়তো ঘুষ থাকবে, না হয় আমি থাকব। তিনি আরো বলেন আমি একটি টাকাও হারাম খাব না, যেমন কথা তেমনি কাজ। এসেই পাঁচজন ওসিকে রদবদল করলেন। সৎ, ত্যাগী, সাহসী, নির্ভিক ওসিদের সীমান্ত এলাকায় পাঠালেন। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক ও চোরাকারবারীদের গ্রেফতার অভিযান শুরু হলো, মাদক স¤্রাট, ডাকাত সর্দাররা একে একে গ্রেফতার শুরু হলো। তাহার কর্মে চমকে গেল সিলেটবাসী। গোটা পুলিশ প্রশাসনের চিত্র পাল্টে গেল। ওসিদের বললেন জিডি ও মামলা করতে কোন টাকার খেলা চলবে না,থানায় থানায় সিসি ক্যামেরা। ঘোষ খাওয়ার প্রমাণ পেলে ক্লোজ। প্রশাসন জেকে মেখে বসলো, সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলো। সিলেটের মানুষ বেজায় খুশি,পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

সিলেটের মিডিয়া পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের ভালো কাজগুলো নিয়ে দফায় দফায় আর্টিক্যাল। বলতে গেলে রীতিমতো হৈচৈ শুরু হলো সিলেট জুড়ে। ১০০ টাকায় চাকরী পেল সিলেটের ৩৪৮ জন পুলিশ। এ গুণীজনকে নিয়ে সিলেটের জামায়াতপন্থী পর্যন্ত সোস্যাল মিডিয়ায় যেনতেন সমালোচনা করে যারা সিলেট জেলা পুলিশের বদনাম করছে। সততার চাদরে ঢাকা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনকে সাধারণ মানুষের কাছে ছোট করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে এর তীব্র নিন্দা করেছেন সিলেটের সচেতন নাগরিক, মিডিয়াসহ সর্বমহল। যে পুলিশ সুপার নিয়ে তারা উল্টা পাল্টা কথা বলছেÑ সেই ফরিদ উদ্দিন করোনাকালে সিলেটের নি¤œ আয় ও মধ্য আয়ের ১৫ হাজার মানুষের মুখে আহার তুলে দিয়েছেন পুলিশের রেশন ও তাঁর ব্যক্তিগত টাকা থেকে।

গল্পটি শুরু হয়েছে যেখান থেকে মেট্টোপলিটন পুলিশের কোতায়ালী থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান নামে এক যুবকের পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু নিয়ে। গেল শনিবার রাতে রায়হান আহমেদ শহরেই তার শ্বশুরে বাসায় যাবার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সন্ধ্যার পর রাতে ঘরে ফিরেনি। পরিবারের লোকজন তাকে বারবার ফোন করে ফোন নাম্বার বন্ধ পায়। গভীর রাতে রায়হান ফোন করে মায়ের কাছে বন্দর ফাঁড়ির পুলিশের ফোন থেকে বলে তার চাচা যেন বন্ধর ফাঁড়িতে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান, না হয় পুলিশ তাকে মেরে ফেলবে। রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ্ সাথে সাথে বন্ধর ফাঁড়িতে ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তারা বলে রায়হান ঘুমিয়ে আছে, অফিসার বাসায়, সকালে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে ৫ হাজার টাকায় হবে না। তিনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ তাকে ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা রায়হানের লাশ হিমাগারে পায়। রায়হানের মা বলেন টাকা না পেয়ে তাকে পুলিশ নির্যাতনে করে হত্যা করেছে। পুলিশ প্রথম বলেছিল গণপিটুনীতে তাকে মারা হয়েছে কাষ্ঠঘর এলাকায়। কাষ্ঠঘর এলাকা পুরো সিসি ক্যামেরা,সেখানে সেই রাতের গণপিটুনীর কোন ঘটনাই ঘঠে নাই। তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে,হাতের নক তুলা হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। তার শরীরের আঘাতের নমুনা পুলিশের আঘাতের মতো। তাই সিলেটের সকল মানুষের বক্তব্য তাকে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ নির্যাতনের মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট নগরীর আখালিয়া নিহারী পাড়ার বাসিন্দা রায়হান। তার মা স্ত্রীসহ দুই মাসের এক কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করে। সে রিকাবীবাজার একটি রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতো। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। তার এ হত্যাকাÐ মেনে নিতে পারছে না সিলেটের মানুষ।

এ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট আন্দোলনে উত্তাল। রবিবার রাতে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে পুলিশি হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। রায়হান হত্যার অভিযুক্ত বন্দর ফাঁড়ির এসআই আকবর হোসেন পালিয়ে গেছে।

এ মামলায় প্রাথমিক তদন্তে ৪জন পুলিশ এসআই আকবর আলী,তৌহিদ মিয়া,কনস্টেবল টিটু ও রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর তিনজনকে ক্লোজ করা হয়েছে,।

রায়হানের লাশ পুনরায় কবর থেকে তুলে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। যত সময় অতিক্রম করছে রায়হান পুলিশি হেফাজতের নানা কিচ্ছা কাহিনী বের হয়ে আসছে। সিলেটের মানুষ এ হত্যাকান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে।

মনুকূলের কাগজ প্রতিদিন ও দৈনিক মুক্তখবর রায়হান হত্যাকান্ডের সরেজমিন ধারাবাহিক সিরিজ শুরু করেছে, এ রিপোর্ট হলো তৃতীয় আর্টিকেল।

এই মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনেই এমসি কলেজ এই কলেজে গৃহবধুকে ছাত্রলীগ নামধারী কর্মীদের গণধর্ষণ নিয়ে গোটা দেশ আজ আন্দোলনরত। ঘটনার দিন যদি যুবনেতা বাবলা চৌধুরী এসে না পড়তেন তাহলে নীরবেই এ ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যেত,এ ঘটনার সম্পূর্ণ আলামত গাড়ী উদ্ধারসহ পুলিশকে নিয়ে আসা সব কিছু তারই কর্ম।

তখন মেট্টোপলিটনের শাহপরাণ থানা ওসি এসে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাবলা চৌধুরীর কারণে ওসি মামলা নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনে। সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অধীনস্ত এলাকার মৌলভীবাজারের আরেক গৃহবধুকে জোর করে ধর্ষণ করে তারেক নামে একটি বখাটে যুবক। এ গৃহবধু মেট্টোপলিটন এলাকার একটি থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা দায়ের করেননি। মেট্টোপলিটন আদালতে মামলা করার আজ তিন মাস। আজও আলোর মুখ দেখেনি মামলাটি।

এ রকম অনেক অভিযোগ রয়েছে মেট্টোপলিটন পুলিশের উপর। সিলেটের মেট্টোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেহায়াপনার ফসল আজ মেট্টোপলিটন পুলিশের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। সিলেটবাসীর দাবী সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার ফসল এ সকল অপকর্ম। পুলিশের স্বনামধন্য আইজি ড. বেনজির আহমেদ এর কাছে সিলেটবাসীর দাবী মেট্টোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিলেট থেকে বদলী করে ভাল, সৎ ও কর্মদক্ষ পুলিশ অফিসার নিয়ে যেন সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশকে ঢেলে সাজানো হয়।