Wed. Mar 3rd, 2021

চিকিৎসা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানঃ স্যাম্পলের কোনো মূল্য নেই বলে সনদ ছুঁড়ে ফেললেন ডাক্তার

ডেইলি বিডি নিউজঃ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. আবু খায়ের নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে সনদ দেখালে তিনি তা ছুড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসক মো. আবু খায়ের সদর হাসপাতালের জুনিয়র কন্সসালটেন্ট।

চিকিৎসাবঞ্চিত ঐ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের নাম জেসমিন আক্তার। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার ভাই পরান হাওলাদার।

অভিযোগে জানা যায়, জেলার রায়পুর উপজেলার চরবগা গ্রামের জেসমিন আক্তারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস দেখা দিলে গত ১ ফেব্রুয়ারি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ওইদিন সদর হাসপাতালের আরওএম জেসমিনকে ডা. আবু খায়েরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধা ও চিকিৎসা সেবা পেতে সেখানে  কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু খায়েরকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখান জেসমিনের ভাই পরান হাওলাদার।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সনদকে ‘স্যাম্পল’ বলে ছুড়ে ফেলেন। পরে হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ও অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকার অজুহাত দেখিয়ে রোগীর অস্ত্রপচার করতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি। সর্বশেষ গতকাল সোমবার  সকালে অস্ত্রপচারের কথা বললেও তিনি যন্ত্রপাতি না থাকার কথা বলে অস্ত্রপচার করেননি।

পরান হাওলাদার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দেওয়ায় চিকিৎসক আবু খায়ের রেগে যান। একপর্যায়ে আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখালে তিনি ‘এসব স্যাম্পলের কোনো মূল্য নেই’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর ছুড়ে ফেলে দেন সনদটি।’ তিনি বলেন, ‘আর্থিক দূরাবস্থার কারণেই বোনকে সদর হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে এত অসম্মান ও হয়রানি হবে তা ভাবিনি। এ বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

তবে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছুড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক মো. আবু খায়ের বলেন, ‘রোগীর ফাইলে দুটি কাগজ দেখে আমি সেগুলো রোগীর হাতে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ছিল কিনা আমার জানা ছিল না। অ্যানেসথেসিয়ার যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে সোমবার অপারেশন করা যায়নি।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কাছে ঘটনাটি শুনে চিকিৎসক আবু খায়েরের পক্ষ  থেকে আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আগামীকাল মঙ্গলবার অস্ত্রপচারের জন্য আমি বলে দিয়েছি।’ লিখিত অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আর বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’