Wed. Jan 27th, 2021

সিলেটে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে বৈঠক: মেয়র-পুলিশ কমিশনারের দুই মত

স্টাফ রিপোর্টার :: সহসাই দখলমুক্ত হচ্ছে না সিলেট নগরের ফুটপাত। ফুটপাত দখলমুক্ত নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারেননি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার নিশারুল আরিফ।

নগরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা নিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন সিটি মেয়র। এসময় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ফুটপাত উচ্ছেদে পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মেয়র আরিফ। তবে পুলিশ কমিশনার উচ্ছেদের বদলে হকারদের পুনর্বাসনের প্রতি জোর দেন। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করার জন্যও তিনি মেয়রকে অনুরোধ করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সিলেট চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রাজনীতিবিদদের সাথে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মতবিনিময় করেন মেয়র আরিফ। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকালে হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে আলোচনা করতে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে যান মেয়রসহ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরের ফুটপাতসহ সড়ক হকারমুক্ত রাখা, নগরের অবৈধ অটোরিকশা-লেগুনা স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এরআগে মঙ্গলবার রাতে সিলেট চেম্বারে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন,পুলিশসহ বিভিন্ন মহলের সহযোগিতার অভাবে নগরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। উচ্ছেদের পর হকাররা আবার ফুটপাত দখল করে নিচ্ছে।

মেয়রের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, মেয়র মহোদয়ের সাথে আজকে এসব বিষয়ে আলাপ হয়েছে। আমরাও চাই হাকরমুক্ত ফুটপাত। তবে এটির একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এভাবে হকারদের উচ্ছেদ করলে তারা আবার বসে পড়বে। ফলে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। এজন্য মূল কাজটা করতে হবে সিটি করপোরেশনকেই। আমরা সিটি করপোরেশনকে বলেছি- এ ব্যাপারে আমরা একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছি। পরিকল্পনা ছাড়া হুট করে উচ্ছেদ করে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে না। ফলে হুট করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে এগুতে হবে।

পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি এটিএম শোয়েব, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক সেলিম অ্যাডভোকেট,ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ সিলেট মহানগরী শাখার সভাপতি শেখ মো. মকন মিয়া,সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রমুখ।

পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,হকার উচ্ছেদ ছাড়াও নগর নিরাপত্তা ইস্যু,লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনে কালার কোডিং নিয়েও বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

সিসিক মেয়র বলেন, হকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার আওতায় এনে সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স প্রদান বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজার সড়ককে হকারমুক্ত করতে বৈঠকে সবাই ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, হকার ইস্যু নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ নেই। আমরা সবাই হকারমুক্ত ফুটপাত চাই। তবে উচ্ছেদ নয়, আমরা চাই হকারদের পুনর্বাসন করা হোক।

উল্লেখ্য, নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক ও ফুটপাত সম্প্রতি সম্প্রসারণ ও সংস্কার করে সিটি করপোরেশন। তবে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগে এই সড়কের বেশিরভাগ অংশ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে নিয়েছে হকাররা। সিটি মেয়র এই সড়কের হকারদের উচ্ছেদে নামায় আন্দোলন শুরু করেছেন হকাররা।