Sat. Jan 16th, 2021

আমেরিকায় সুগম হলো ৪০ সহস্রাধিক বাংলাদেশির নাগরিকত্ব লাভের পথ

ডেইলি বিডি নিউজঃ ৪০ সহস্রাধিক বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৮ লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ সুগমই থাকল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি অ-আমেরিকান পদক্ষেপকে নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্ট বাতিল করায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি নির্দেশ পুনর্বহাল হলো। সেইসঙ্গে শিশুকালে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর যারা এখন পর্যন্ত বৈধ হতে পারেননি, তেমন অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সীদের ওয়ার্ক পারমিটের নবায়ন/দরখাস্ত করার সুযোগ অবারিত হলো।

ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ নিকলাস জি গ্যারোফিস ৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ‘ডেকা’ (ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল) প্রোগ্রাম বাতিলের জন্য ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে বাতিল করেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জারি করা হয় সেই আদেশ। আদালতের সর্বশেষ এই নির্দেশের ফলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ৭ ডিসেম্বরের (সোমবার) মধ্যে সর্বসাধারণের জন্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে আগের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা নতুন দরখাস্ত গ্রহণের জন্য।

৮ বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালে জো বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেসময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশেষ এক নির্দেশে এসব তরুণ-তরুণীকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য গ্রিনকার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী সাড়ে ৬ লাখ তরুণ-তরুণী ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ শৈশব-কৈশোর-যৌবনের পুরোটাই আমেরিকার আলো-বাতাসে বেড়ে উঠা এবং অনেকেই কলেজ গ্র্যাজুয়েশনও করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের শঙ্কা থেকে স্বস্তি পেয়েছিলেন। পুরো কমিউনিটি আশ্বস্ত হয় এজন্য যে, এই তরুণ-তরুণীরা সিটিজেন হবার পর তাদের সেই মা-বাবার জন্যেও গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন।

নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টের রায়কে স্বাগতম জানিয়েছেন ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে লড়াইরত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। এসব সংস্থার পক্ষে ট্রাম্পের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াইকারী অ্যাটর্নি কারেন টামলিন বলেন, এটি চূড়ান্ত নয়। অভিবাসী সমাজকে সোচ্চার থাকতে হবে জানুয়ারির ২০ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যাতে সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড প্রদানের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল জজ জেফরি হোয়াইট অপর এক রায়ে ট্রাম্পের জারি করা এইচ-১বি ভিসা সংকুচিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির পর আদালতগুলোও আমেরিকার মূল্যবোধ উজ্জীবিত করার পথে সক্রিয় হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।