Wed. Jan 20th, 2021

যুবলীগের দায়িত্বশীল পদে হাইব্রিড ব্যাংক খেলাপীর নাম!

ডেইলি বিডি নিউজঃ লালাবাজার ভরাউট গ্রামের বাসিন্দা গেদন মিয়ার পুত্র বিএনপি সমর্থক হাইব্রিড যুবলীগ নেতা নিজাম আহমদ। যার বাবা হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতা, ২০১৪ সালে লালাবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠনের পুর্বে সে ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিতে পদ ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা সৃস্টি করে বিভিন্নভাবে দেনদরবার দেওয়ার পর যে সময় স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যে কখনো ছাত্রলীগের ও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো না সে কিভাবে সে যুবলীগ করবে! এছাড়া স্থানীয় লালাবাজার অগ্রনী ব্যাংক শাখার ঋণখেলাপীদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। এমন নানান কারনে এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য এর জের ধরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফুলকলিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালায় এবং সে সেখান থেকে কোনমতে পালিয়ে যায় পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা ও হয়। মামলাতে তৎকালীন প্রভাবশালী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমদ জিকোকে আসামী করা হয়। যদিও মিথ্যা তথ্য সংযুক্ত করায় মামলাটি বেশীদূর এগুতে পারেনি। স্থানীয় আওয়ামীলীগের রোষানলে পরে নিজাম আহমদ যখন আঁচ করতে পারে যে সে যুবলীগের রাজনীতি করতে পারবে না তখন সে তার আসল রাজনৈতিক পরিবার স্থানীয় বিএনপি এবং এবং যুবদলের নেতাদের সাথে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছে পোষন করে তাদের সাথে যোগদান অনুষ্টানের আয়োজন করে। কিন্তু লালাবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জনাব আশিক আলী তাকে যুবদলে যোগদান না করার পরামর্শ দেন এবং তাকে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার জন্য বলেন এবং পরবর্তীতে তাকে ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিতে দায়িত্ব প্রদান করেন, যাতে স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়।

যুবলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার বেপরোয়া কার্যক্রম আরো বেগবান হয় এবং সে স্থানীয় ব্যবসায়ী কমিটিতে ও স্থান করে নেয়। ক্ষমতার জোরে সে লালাবাজারে মদ, জুয়া, তীর এবং ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে যাতে এলাকায় মাদক সাম্রাজ্যের সৃষ্টি হয়। তার নেতৃত্বে লালাবাজার এবং নাজিরবাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা মদ, জুয়া, ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রকাশ্যে বিদ্যমান। এছাড়া লালাবাজারের ব্যাবসায়ী কমিটির উদ্ধৃত টাকা পয়সার হিসেবে গড়মিল দেখা দেওয়ায় এবং বাজারের সরকারী জায়গায় বিভিন্ন লোকদের কে টাকা পয়সার বিনিময়ে দোকান পাইয়ে দিয়ে টাকা আত্বসাত করার কারনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও তার উপর অসন্তোষ ও প্রচুর ক্ষোভ বিরাজ করে যার ফলে গত ৪ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখে লালাবাজার এর স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজির মিয়া তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফুলকলির সামনে জনসম্মুখে তাকে জুতাপেটা করেন যার প্রমান বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে রয়েছে এবং এ ঘটনায় পরে ২৫ শে জুন বৃহস্পতিবার স্থানীয় লালাবাজারের মাছের শেডে অত্র এলাকার ৪ ইউনিয়ন এর গন্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে এর বিচার অনুস্টিত হয় পরবর্তীতে তার অনৈতিক আচরণের এবং বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির টাকা আত্বসাত ও বিভিন্ন দূর্নীতি এবং এলাকায় মাদক সাম্রাজ্যের সৃষ্টি করার কারনে তাকে বাজার কমিটি থেকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাজার ব্যবসায়ী কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরবর্তী কমিটি গঠন পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন সুত্রে জানা যাচ্ছে যে তাকে নাকি জেলা যুবলীগের সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় স্থানীয় এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলার যুবলীগের সকল নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে এবং যুবলীগ সংগঠন হিসেবে দূর্নীতির বিরুদ্ধে এতো সোচ্চার থাকার পরে যদি এরকম দূর্নীতিবাজ মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার মানুষের কাছে ঘৃনিত ব্যক্তি যদি এরকম সংঘটনের নেতা হয় তাহলে যুবলীগের আসল পরিচয় একদিন বিলুপ্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।