Thu. Feb 25th, 2021

সিলেটে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ: অভিভাবক মহলে উৎকণ্ঠা

জহিরুল ইসলাম মিশুঃ দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেটেও বেড়ে চলছে কিশোর অপরাধের মাত্রা। সিলেট জেলায় গত এক বছরে নানান অপরাধের দায়ে মামলা হয়েছে অনেক কিশোর-কিশোরীর বিরুদ্ধে। এ সকল মামলায় অনেক পলাতক থাকলে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীরা জামিনে রয়েছেন। সম্প্রতি মাদক, শিশু ধর্ষণ, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে ডাকাতি, মাদক পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে উঠতি বয়সের কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ছাড়াও কিশোররা ঘটাচ্ছে মারামারি ও খুনের মতো অপরাধ।

সিলেট নগরীর অনেক পাড়া মহাল্লাতেও বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত। বিশেষজ্ঞদের মতে পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের অভাব, পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, মাদকের কালোছায়া,সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার অভাব, অর্থনৈতিক সংকট ও ভার্চুয়াল জগতে নেশায় আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠার কারণেই এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে কিশোর অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য গ্যাং লিডাররা অনেকটা দায়ী। উঠতি বয়সের তরুণরা হঠাৎ ক্ষমতা সংস্পর্শে এসে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এদিকে সিলেটে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকটা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন অভিভাবক মহল। অনেক অভিভাবক জানান যে হারে কিছুর অপরাধ বাড়ছে তা মূলত সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। সন্তানরা যখন বাড়ির বাইরে যান তখন একটা অজানা আতঙ্ক মনের ভিতর কাজ করে বলে জানান অভিভাবকরা। তারা বলছেন যে কোন প্রলোভনে কিছু না বুঝেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কিশোররা। এক শ্রেণীর মানুষ এসব কোমলমতি কিশোরদেরকে তাদের স্বার্থের জন্য বিভিন্ন অন্যায় কাজের সাথে যুক্ত করছেন। অভিভাবক মহল থেকে আরও বলা হচ্ছে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে কিশোর অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এবং কারা এর পেছনে দায়ী তা খুঁজে বের করে প্রকৃত দায়ীদের কঠোর ভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা গেলে কিশোর অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কিশোর অপরাধ গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি পুলিশের মাধ্যমে প্রত্যেক এলাকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে আইনের পাশাপাশি পারিবারিক অনুশাসন বৃদ্ধি করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির পিছনে যে দৃষ্টিভঙ্গিগুলো লক্ষ্য করা যায় তা হল কিশোর অপরাধের যথাযথ বিচার হচ্ছেনা আইনের যে বিধান রয়েছে তাও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সম্মিলিত প্রয়াস চালাতে হবে।

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী জানান, ছিন্নমূল শিশুদেরকে সরকারি ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে পুনর্বাসন করে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে কিশোর অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।সাথে সাথে জনসচেতনতা ও সৃষ্টি করতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি সিলেটের পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ এসএমপির বিভিন্ন থানায় ওপেন হাউজ ডে প্রোগ্রামে বলেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাং এর তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সকলকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।